মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মো. আশরাফ আলী খান খসরু বলেছেন, ‘প্রাণিসম্পদ খাতের অব্যাহত প্রচেষ্টায় এপর্যন্ত এখাতে প্রত্যক্ষভাবে ২০ শতাংশ এবং পরোক্ষভাবে ৫০ শতাংশ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। গবেষণালব্ধ অভিজ্ঞতায় নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় করতে হবে।’
বুধবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) আয়োজিত ‘দেশি মুরগি সংরক্ষণ ও উন্নয়ন প্রকল্প’ শীর্ষক দিনব্যাপী এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
আশরাফ আলী খান খসরু বলেন, ‘দেশি জাতের গরু, ছাগল, ভেড়া প্রভৃতির কৌলিক মান উন্নয়ন করা হয়েছে। বিএলআরআই দেশের আবহাওয়ার সঙ্গে মিল রেখে ব্রয়লার মুরগি, টার্কি এবং হাঁসের জাত উদ্ভাবন ও সংরক্ষণ, খাদ্য-প্রযুক্তি, ভ্যালু এডিশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ডিম-মাংস ও দুধ প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং সংরক্ষণসহ স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।’ পশুপাখির রোগ-প্রতিরোধে উন্নতমানের ভ্যাক্সিন এবং দেশেই পর্যাপ্ত ভ্যাক্সিন উৎপাদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
কর্মশালায় অন্য বক্তারা বলেন, দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হলেও প্রাণিজ আমিষের চাহিদায় এখনও ঘাটতি রয়েছে। তাই গবেষণালব্ধ অভিজ্ঞতার মাধ্যমে নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করে এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হবে। সার্বিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে আন্তঃইনস্টিটিউট গবেষণা কার্যক্রমের সমন্বয় থাকা একান্ত জরুরি।
বক্তারা আরও বলেন, মেধাবী জাতি গড়তে হলে প্রাণিজ আমিষের বিকল্প নেই এবং এজন্য গবেষণা কার্যক্রমকে আরও জোরদার করতে হবে। পোল্ট্রি সেক্টরের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে প্রযুক্তি উদ্ভাবনে গবেষণাধর্মী কর্মসূচি হাতে নেওয়ার প্রয়োজনের ওপর তারা জোর দেন।
কর্মশালায় জানানো হয়, ইতোমধ্যে বিএলআরআই উদ্ভাবিত বেশ কিছু প্রযুক্তি প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে, যা মাঠপর্যায়ে সম্প্রসারণও করা হচ্ছে।
বিএলআরআইয়ের উন্নয়নকৃত দেশি মুরগির জাত ডিম ও মাংসের চাহিদাপূরণে ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, স্বল্প জায়গায় অধিক নিরাপদ আমিষের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে অঞ্চলভিত্তিক সমস্যা নিরূপণ করে নতুন নতুন গবেষণা কার্যক্রম গ্রহণ করা বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত জরুরি ও প্রয়োজনীয়।
প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. নাথু রাম সরকারের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান। এতে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন– মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. রইছউল আলম মণ্ডল, প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক ডা. হীরেশ রঞ্জন ভৌমিক, সদ্যসমাপ্ত ‘দেশি মুরগি সংরক্ষণ ও উন্নয়ন প্রকল্প’-এর পরিচালক শাকিলা ফারুক।
কর্মশালায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, প্রাণিসম্পদ অধিদফতরসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার শিক্ষক, বিজ্ঞানী ও সম্প্রসারণকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।








