তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, আমি যেহেতু ধূমপান করি না, তাই আমি চাই না কেউ ধূমপান করুক। আমার আশপাশে কেউ ধূমপান করলে বিরক্ত হই, যদিও বিরক্ত প্রকাশ করি না। আইনকে পাশ কাটিয়ে যেন কোনও কিছু না করা হয়, সেই বিষয়ে সবাইকে অনুরোধ জানান তিনি।
বুধবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে প্রগতির জন্য জ্ঞান- প্রজ্ঞা’র আয়োজনে ‘তামাকমুক্ত বাংলাদেশ অর্জনে অগ্রগতি, বাধা ও করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ অনুরোধ করেন।
‘দেবী সিনেমায় বেশি পরিমাণে তামাকের ব্যবহার দেখানো হয়েছে এবং এটি আজকে (বুধবার) মাছরাঙা টেলিভিশন এবং অনলাইন লাইভ স্ট্রিমিং বায়োস্কপে দেখানো হবে’ উল্লেখ করে অনুষ্ঠানের সঞ্চালক তথ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তখন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আজকে যে দেখানো হচ্ছে, সেটি আমি জানতাম না। বিষয়টি আমি গিয়ে দেখবো যে, সেন্সর বোর্ডের অনুমোদন ছাড়া কীভাবে..., আমি সবাইকে অনুরোধ করে বলবো, আইনকে পাশ কাটিয়ে যদি কেউ এগুলো করে, সেগুলোতে আমরা কেউ যেন সহায়তা না করি। সেজন্য যারা প্রদর্শন করার ব্যবস্থা নিয়েছেন, তাদের অনুরোধ জানাবো—আইনকে পাশ কাটিয়ে যেন কোনও কিছু করা না হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দেশে বিজ্ঞাপন দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারি যে বাধ্যবাধকতা আছে, তা মেনে যেন করা হয়। কেউ যদি এতে অসঙ্গতি দেখেন, তবে সেটি তথ্য মন্ত্রণালয়ে আপনারা উপস্থাপন করবেন।’
যেকোনও উন্নতি জাতি গঠনে সম্মিলিত প্রচেষ্টা দরকার। শুধু মেধা দিয়ে কিন্তু সবকিছু হয় না। একজন মানুষ শুধু তার মেধা দিয়ে সরকারি অনেক বড় কর্তা হতে পারেন, কিন্তু তার মধ্যে যদি মূল্যবোধ না থাকে, দেশাত্মবোধ, মমতাবোধ না থাকে, তাহলে তার দুয়ারটা সাধারণ মানুষের জন্য খোলা থাকবে না। মেধার সঙ্গে দেশাত্মবোধ, মমতাবোধ থাকা প্রয়োজন।’
সভাপতির বক্তব্যে সাংবাদিক মোজাম্মেল হোসেন বলেন, ‘সরকারি বেসরকারি সংগঠনগুলোর কার্যক্রমের ফলে ধূমপান কিছুটা কমেছে। কিন্তু এই কমার হার যথেষ্ট নয়। প্রধানমন্ত্রী ২০৪০ সালের মধ্যে দেশকে ধূমপানমুক্ত করার লক্ষ্য ঘোষণা করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত লক্ষ্য অর্জনের জন্য ধূমপায়ী- অধূমপায়ী সবাইকে তামাকের বিপজ্জনক বিষয়গুলো জনসাধারণের মধ্যে আরও বেশি করে জানাতে হবে।’
আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন বিআইএসএস-এর গবেষণা পরিচালক ড. মাহফুজ কবীর, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম, ক্যানসার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার, ডা. গোলাম মহিউদ্দিন, এটিএন বাংলার প্রধান প্রতিবেদক ও অ্যান্টি-টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স- আত্মা’র কো-কনভেনর নাদিরা কিরণ এবং প্রজ্ঞা’র কো-অর্ডিনেটর মো. হাসান শাহরিয়ার প্রমুখ।








