দক্ষিণাঞ্চলে মিষ্টির জন্য বিখ্যাত ইন্দ্রমোহন সুইটস। খুলনা শহরে বেড়াতে গেলে অনেকই ঢু মারেন ১২৮ বছরের পুরনো এ মিষ্টির দোকানে। বাদ গেলেন না বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার। গত মঙ্গলবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সদলবলে খুলনা সফরে গিয়ে তিনি চেখে দেখলেন ঐতিহ্যবাহী এ দোকানের রসগোল্লা ও পানতোয়া। শুধু দোকানে বসে খাওয়া নয়, এই মিষ্টি তাকে এতটাই মুগ্ধ করেছে যে রসগোল্লা ও পানতোয়া কিনে সঙ্গে নিয়েও গেছেন তিনি। মিলারের সঙ্গে ছিলেন তার স্ত্রীও। তিনিও এই মিষ্টির তারিফ করেছেন খুব।
রবিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রে দূতাবাসের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে এসংক্রান্ত একটি পোস্ট আপলোড করা হয়। সেখানে বলা হয়েছে, আপনার কি জানেন ইন্দ্রমোহন খুলনার সবচেয়ে পুরনো মিষ্টির দোকান? রাষ্ট্রদূত মিলার খুলনা সফরে গিয়ে সেই দোকানে গিয়েছেন, যেটি ১৮৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত। রাষ্ট্রদূত মিষ্টিও খান। পোস্টটির শেষে একটি প্রশ্নও করা হয়, বাংলাদেশের কোন খাবার আপনার পছন্দ? পোস্টটিতে আশিক রুশদির তোলা বেশ কিছু ছবিও প্রকাশ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজের এ পোস্ট দেখে অনেকেই রাষ্ট্রদূতকে ধন্যবাদ জানিয়ে মন্তব্য করেছেন।
শুমাইয়া করিম ঐশী নামের একজন লিখেছেন, ‘আমাদের প্রিয় খুলনা শহরে গিয়ে আমাদের প্রিয় দোকানে মিষ্টি খেতে গিয়েছেন। খুশি হয়েছি, স্বাগতম আমাদের খুলনা শহরে।’
জানা গেছে, ইন্দ্রমোহন দে ১৮৯০ সালে এ দোকানটি চালু করেন। খুলনা শহরের বড় বাজারে অবস্থিত ইন্দ্রমোহন সুইটস নামের দোকানটিতে বাইরের চাকচিক্য নেই। চোখ ধাঁধানো মিষ্টির প্যাকেটও নেই তাদের। তবুও আদি মিষ্টির দোকানটির স্বাদের খ্যাতি রয়েছে খুলনাজুড়ে। বিশেষ ধরনের পানতোয়া পাওয়া যায় সেখানে। আর দোকানটিতে গরম গরম মিষ্টি খেতেও ছুটে যান অনেকেই। যেমন গেছেন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্টদূত।
তবে তাদের মিষ্টি পরিবেশনেও রয়েছে ভিন্নতা। পিরিচে মিষ্টি পরিবেশন করা হলেও দেওয়া হয় না কোনও চামচ। প্লেটের ওপর দেওয়া হয় কলাপাতা। তার ওপরে রসগোল্লা, পানতোয়া বা সন্দেশ। হাত দিয়েই খেতে হয় মিষ্টি। রাষ্ট্রদূত মিলারও যেতে পারেননি এ নিয়মের বাইরে। ছবিতে দেখা যায়, মিলার, তার ডান পাশে বসা তার স্ত্রী এবং অপর দুই সফরসঙ্গী রীতি মেনে হাত দিয়েই মিষ্টি খাচ্ছেন।
দূতাবাসের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজের ছবিতে দেখা যায়, রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার ইন্দ্রমোহন সুইটসের বাইরে দাঁড়িয়ে ছবি তুলেছেন। ভেতরে কাঠের চেয়ারে বসে হাত দিয়ে মিষ্টি খাচ্ছেন। এমনকি রান্না ঘরে গিয়ে দেখছেন মিষ্টি তৈরির প্রক্রিয়া।
এ বিষয়ে জানতে ইন্দ্রমোহন সুইটসের অন্যকম স্বত্বাধিকারী সঞ্জয় দে বলেন, ‘গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মিলার, তার স্ত্রীসহ পাঁচ জন এসেছিলেন। তারা আমাদের এখানে বসে মিষ্টি খেয়েছেন। মিষ্টির বেশ তারিফ করেছেন।মিলার সাহেব রসগোল্লা ও পানতোয়া খেয়েছেন। বারবার তাদের ‘ভেরি গুড’ বলতে শুনেছি। তারা আমাদের ওয়ার্কশপও (মিষ্টি তৈরির কারখানা) ঘুরে দেখেছেন। মিষ্টি পছন্দ হওয়ায় দুই প্যাকেট পানতোয়া আর রসগোল্লাও নিয়ে গেছেন।’
মিলারকে মিষ্টি পরিবেশন কীভাবে করেছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তিন পুরুষের মিষ্টির দোকান আমাদের। দাদা যখন এই দোকান করেছেন তখন থেকেই আমাদের দোকানের মিষ্টি হাত দিয়েই খেতে হয়। আমরা চামচ ব্যবহার করি না। মিলার সাহেবকেও আমাদের নিয়ম অনুযায়ী প্লেটের ওপর কলাপাতা দিয়ে তাতে মিষ্টি দিয়েছি। ওভাবেই খেয়েছেন।’








