রাজধানীর চকবাজারের চুড়িহাট্টায় ভয়াবহ আগুনের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট এজেন্সিগুলোর কোনও গাফিলতি আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হবে। এজন্য জাতীয় মানবাধিকার কমিশন থেকে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
ভয়াবহ আগুনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এ ঘটনায় এপর্যন্ত ৭০ জনের বেশি মানুষ মারা গেছেন। আমি তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। তাদের শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট এজেন্সিগুলোর কোনও গাফিলতি আছে কিনা, সেটাও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। আমরা ভয়াবহ এই আগুনের ঘটনা তদন্ত করবো।’ ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা আর না ঘটে— সেজন্য একটি নীতিমালা তৈরি করে সরকারের কাছে পাঠাবো। এজন্য একটি উচ্চপর্যায়ের তথ্যানুসন্ধান কমিটিও গঠন করা হবে।’ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ক্ষতিপূরণ এবং সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন— কমিশনের সদস্য আখতার হোসেন, মেঘনা গুহ ঠাকুরতা, সচিব হিরন্ময় বাড়ৈ, অভিযোগ ও তদন্ত বিভাগের পরিচালক আল মাহমুদ ফায়জুল কবির ও উপ-পরিচালক গাজী সালাউদ্দিন। প্রয়োজনে তদন্ত কমিটির সঙ্গে এক বা একাধিক বিশেষজ্ঞকেও অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে এই তদন্ত কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, বুধবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাত পৌনে ১১টার দিকে রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজার এলাকার চুড়িহাট্টা শাহী মসজিদের সামনে একটি পিকআপের সিলিন্ডার বিস্ফোরণের পর আশেপাশের ভবনে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। রাতে ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিট সাড়ে চার ঘণ্টার মতো কাজ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এই ভয়াবহ আগুনের ঘটনায় বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার কর্মীরা ৭০টি মৃতদেহ উদ্ধার করেছেন। এছাড়া,আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক মানুষ।








