ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের ব্যালট পেপারে সিরিয়াল নম্বর ছিল না। এছাড়াও প্রতিটি হলে অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের ভোট দিতে নিরুৎসাহিত করা ও দীর্ঘ কৃত্রিম লাইন তৈরি করে ভোটারদের ভোট দিতে ছাত্রলীগ বাধার সৃষ্টি করেছে বলে শিক্ষকদের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০ জন শিক্ষক পর্যবেক্ষক হিসেবে সারাদিন ভোটকেন্দ্র ঘুরে এসে বাংলা ট্রিবিউনকে একথা বলেন। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ভোট দিতে যাওয়ার পথটি মোটেই মুক্ত ছিল না।
গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ জন শিক্ষক বিবৃতি দেন। রবিবার গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. ফাহমিদুল হক স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা অঙ্গীকার করছি, নির্বাচনের দিনে স্বেচ্ছাসেবী পর্যবেক্ষক দল হিসেবে ভোটকেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করবো এবং আমাদের অভিজ্ঞতা জাতির সঙ্গে শেয়ার করবো।
পর্যবেক্ষক দলের সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক কাজী মারুফুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ব্যালটে কোনও নম্বর না থাকা সবচেয়ে বড় অনিয়ম। যদি ব্যালট পেপারে নম্বর না থাকে তাহলে ট্র্যাক করা যাবে না কোন হলে কোন ব্যালট যাচ্ছে। ফলে কাগজে কলমে কারচুপি ট্র্যাক করা যাবে না। এমনকি যে ব্যালট পেপারগুলো পাওয়া গেলো সেগুলো কোন অংশের তেমন কিছু প্রমাণ করা যাবে না। আমাদের পর্যবেক্ষণে এটি সিরিয়াস সমস্যা মনে হয়েছে। এধরনের ঘটনা কেন হয়েছে এখনই বলতে পারব না। ব্যবস্থাপনার সমস্যা হতে পারে কিন্তু এটি আমরা দেখেছি।
ভোট দিতে যাওয়ার প্রক্রিয়াটি মোটেই মুক্ত রাখা হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনাবাসিক ছাত্রদের সাধারণত হলে নিয়ন্ত্রণ থাকে না। যারা বাইরে থেকে এসেছেন তাদের নানাভাবে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। সকাল থেকেই আমরা দেখেছি অনাবাসিক ছাত্রদের না আসতে বলা, ভোট দেওয়া হয়ে গেছে ধরনের কথা বলার প্রবণতা ছিল। বুথের সামনে উদ্দেশ্যমূলক জটলা ছিল বলেও পর্যবেক্ষণে এসেছে জানিয়ে মারুফুল ইসলাম বলেন, বুথে ঢোকার মুখে ছাত্রলীগ জটলা করছে এমনটা আমরা দেখেছি। ফলে পেছনে লম্বা লাইন। বুথের মুখে জটলা করে থেকে পরিচিতদের ঢোকানো হচ্ছিল। একজন শিক্ষার্থী ভোট দিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে তাকে আবারও লাইনে দাঁড় করিয়ে পেছনের ছাত্রদের সামনে আসা ব্যাহত করার চেষ্টা ছিল। কেননা ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে একসময় পেছনের ভোটাররা চলে গেছে। প্রশাসনের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে কেবল পে-স্লিপ দিয়ে ভোট দিতে পারার কথা থাকলেও আমরা জানতে পেরেছি এসএম (সলিমুল্লাহ মুসলিম) হলে সেটা পারছিল না। শোনার পর আমরা সেখানে গেলে কর্তৃপক্ষ জানায়, দেড়টার পর তাদের ভোট নেওয়া হবে। যদিও ততক্ষণে হতাশ হয়ে বেশিরভাগ ভোটার চলে গেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পর্যবেক্ষক শিক্ষকদলের সদস্যরা হলেন, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক গীতি আরা নাসরীন, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কামরুল হাসান, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ফাহমিদুল হক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সামিনা লুৎফা, অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রুশাদ ফরিদী, উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক কাজী মারুফুল ইসলাম, অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক অতনু রব্বানী, ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাহমিনা খানম এবং শান্তি ও সংঘর্ষ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সাজ্জাদ এইচ সিদ্দিকী।








