নিরাপদ সড়কের দাবিতে ফের রাস্তায় নেমেছেন শিক্ষার্থীরা। রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে বিক্ষোভ করছেন তারা। স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় সব পর্যায়ের শিক্ষার্থীই রাস্তায় রয়েছেন। দাবি আদায় ও বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ না ছাড়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
মঙ্গলবার (১৯ মার্চ) সকালে রাজধানীর কুড়িলের যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে সুপ্রভাত পরিবহনের একটি বাস বিইউপি শিক্ষার্থী আবরার আহমেদ চৌধুরীকে চাপা দেয়। নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাসে ওঠার জন্য রাস্তা পার হচ্ছিলেন তিনি। ঘটনাস্থলেই আবরার নিহত হন।
এ দুর্ঘটনার পর থেকেই নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামেন। তারা মঙ্গলবার বিকাল পর্যন্ত রাস্তা অবরোধ করে আন্দোলন করেন। সেখান থেকেই বুধবারের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
সুপ্রভাত পরিবহনের রুট পারমিট বাতিল, ঘাতক চালকের ফাঁসির দাবিসহ আট দফা দাবিতে নানা স্লোগান দিয়ে সড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা।
দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সড়ক ছাড়বেন না বলেও তারা জানান। মঙ্গলবার রাতেই এ বিষয়ে একটি মামলা হয়েছে।
বুধবার (২০ মার্চ) সকাল ৯টা থেকে আট দফা দাবি বাস্তবায়নের জন্য শিক্ষা ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভ শুরু করেন।
প্রগতি সরণিতে সকালে বিইউপি, নর্থ সাউথ ছাড়াও বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।
এছাড়া ফার্মগেট ও মিরপুর রোডেও বিক্ষোভ চলছে। ফলে যান চলাচল বন্ধ থাকায় তীব্র যানজট দেখা দিয়েছে। এতে করে দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা।
আট দফা দাবির মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, চালকের সর্বোচ্চ শাস্তি। এ কথা উল্লেখ করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী মায়েশা নূর বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ শাস্তি বলতে বাসচালকের ফাঁসি চেয়েছি। গত বছর শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে জাবালে নূরের রোড পারমিট বাতিল করা হয়েছিল বলে আমাদের জানানো হয়েছিল। কিন্তু জাবালে নূর এখনও রাস্তায় চলছে। আমরা জাবালে নূর ও সুপ্রভাত বাস রাস্তায় দেখতে চাই না।'
সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের সামনের সড়কগুলো বন্ধ ও শিক্ষার্থীদের অবরোধের মুখে পড়তে হয়েছে গণপরিবহনকে। তবে অন্যান্য দিনের তুলনায় গণপরিবহন কম। প্রাইভেট যানবাহনও চলছে কম।
দীর্ঘক্ষণ রাস্তায় বসে থাকা, গাড়ি না পেয়ে হেঁটে গন্তব্যে রওনা দেওয়া, বাইক থেকে নেমে পার্কিংয়ে বাইক রেখে হেঁটে অফিসে ঢোকার মতো ঘটনা ঘটতে দেখা গেছে। রাস্তায় ভোগান্তির মুখে পড়া মানুষের মধ্যে ছিল মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
পরিবহন মালিকদের দাবি, তারা শঙ্কায় থাকার কারণেই রাস্তায় পরিবহন কম নামিয়েছেন। তাছাড়া, গাড়ির কাগজপত্রও পরীক্ষা করছেন শিক্ষার্থীরা। এ অবস্থায় পায়ে হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের।
ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির দফতর সম্পাদক সামদানি খন্দকার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আসলে আন্দোলনের সময় অনেক পরিবহন ভাঙচুর হয়। এছাড়া রাস্তা বন্ধ থাকার কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা একই স্থানে বসে থাকতে হয়। সেকারণে পরিবহন কিছুটা কম নেমেছে।’
গত বছর ২৯ জুলাই রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের কাছে বিমানবন্দর সড়কে (র্যাডিসন হোটেলের উল্টোদিকে) বাসচাপায় রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়। এই ঘটনায় বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। তারা সংশ্লিষ্ট চালকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতকরণসহ বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলন করে। সড়ক নিরাপদ করার বিষয়ে সরকারের আশ্বাসে ওই সময় আন্দোলন শেষ হয়েছিল।
ছবি তুলেছেন: নাসিরুল ইসলাম, আমানুর রহমান রনি, রাফসান জানি।
আরও পড়ুন-
দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে








