আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত বনানীর এফ আর টাওয়ারে তিন শ্রণির মানুষ জড়িত ছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। তার মতে, এই তিন শ্রেণির মানুষ হলো জমির মালিক, জমির ডেভেলপার এবং এই ভবনের দেখভালকারীরা।
শনিবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে ঢাকা ইউটিলিটি রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডুরা) আয়োজিত ‘ইমারত নির্মাণে সরকারের দায়িত্ব ও নাগরিকদের করণীয়’ শীর্ষক মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
শ ম রেজাউল করিম বলেন, ‘অর্থাৎ ওই অঞ্চলে রাজউকের যেসব কর্মকর্তা, অথরাইজড অফিসার ছিলেন তাদের চোখ বন্ধ থাকা। আরেকটি হচ্ছে অপরাধের চিত্র দেখার পরেও চোখ বন্ধ করে রাখা। কেন তারা ব্যবস্থা নেয়নি সেজন্য একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাতে কোনও মন্ত্রী বা উপদেষ্টার প্রভাব ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ২০০৪ সালে যারা ক্ষমতায় ছিলেন সে সময় তাদের প্রভাব ছিল কি না, ওই সময়ের রাজউক চেয়ারম্যানের প্রভাব ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
পুরান ঢাকার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘পুরান ঢাকাকে নিয়ে আমরা রি-ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প হাতে নিয়েছি। এই প্রকল্পের আওতায় পাঁচ কাঠা জায়গার ওপর যদি তিনটি ভবন থাকে তাহলে আমরা পরিবেশসম্মত, বিল্ডিং কোড অনুযায়ী ভবন করে দেবো এবং অনুপাত অনুযায়ী ওই ভবন মালিকদের ফ্ল্যাট দেবো।’
‘পুরান ঢাকাকে পুনর্নির্মাণ করা হবে’
রেজাউল করিম বলেন, ‘ঢাকা শহরের অনেক ইমারত আছে, যেগুলো একটির সঙ্গে আরেকটি লেগে আছে, যেমন পুরান ঢাকা। সেগুলোকে রাতারাতি ভেঙে ফেলে নতুন কিছু করা সম্ভব হয়নি। আমরা একটা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। রি-ডেভেলপমেন্ট, অর্থাৎ পুরান ঢাকায় যদি পাঁচ কাঠা জায়গার ওপর কোথাও কোথাও তিনটা ভবন থাকে, সেগুলো ভেঙে আমরা মানসম্মত, পরিবেশসম্মত, বিল্ডিং কোড অনুযায়ী ইমারত করে দেবো। বিনিময়ে জমির মালিক ওই তিনজনকে যার যা রেশিও সেই অনুযায়ী ফ্ল্যাট দেবো। যাতে পুরান ঢাকার ঘিঞ্জিমার্কা অবস্থা না থাকে, ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা না থাকে।’ একই ভবন নির্মাণ করতে দুই ধরনের প্ল্যানের বিষয় নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে রেজাউল করিম বলেন, ‘নতুন ট্র্যাডিশন চালু হয়েছে। ভবন নির্মাণে একটা অ্যাপ্রুভড প্ল্যান, আরেকটা থাকছে ওয়ার্কিং প্ল্যান। এ ধরনের ঘটনা আর টলারেট করতে চাই না। ভবন নির্মাণে দীর্ঘদিনের জঞ্জাল জমা হয়েছে, সেগুলো দূর করতে চাই।’
কাজ করতে গিয়ে কোনও চাপে আছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, “আমি একজনের চাপে বিশ্বাস করি, উপরে আল্লাহ, মাঝখানে শেখ হাসিনা। মাঝখানে কোনও চাপটাপ কিছু নাই। আমি ভয় পাই আল্লাহকে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি শেখ হাসিনাকে ঘিরে। কোনও চাপের কাছে মাথা নত করি না। আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন শেখ হাসিনা, তিনি যেটা চাইবেন সেটা হবে। তিনি চেয়েছেন কোনও অপরাধীর কোনও দুর্নীতি, কোনও অনিয়মকে সহ্য করা যাবে না; ‘জিরো টলারেন্স’। সেজন্য কোনও চাপই আমাকে আমার লক্ষ্য থেকে ফেরাতে পারবে না।”
সংগঠনের সভাপতি মশিউর রহমান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন রুবেল, সহসভাপতি শফিকুল ইসলাম শামীম, অর্থ সম্পাদক রুহুল আমিন প্রমুখ।








