কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনায় বাধা রাজনৈতিক প্রভাব: কৃষিমন্ত্রী

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১৬ মে ২০১৯, ২০:৪৫আপডেট : ১৬ মে ২০১৯, ২১:২৪



কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক

সরকার রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে বাজার থেকে সরাসরি কৃষকের ধান কিনতে পারছেন না বলে স্বীকার করেছেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, এটি নতুন কোনও ঘটনা নয়, এরশাদের আমল থেকেই এই সমস্যা রয়েছে। সব সরকারই কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনার উদ্যোগ নিয়েছিল, কিন্তু সবাই ফেল করেছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ মে) সচিবালয়ে নিজ দফতরে ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ঝাং জুয়ার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে কৃষিমন্ত্রী এ স্বীকারোক্তি দেন।
ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বাজারে কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনার ক্ষেত্রে আরও সমস্যা রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে, কৃষকের কাছ থেকে কেনা ধান সবসময় মানসম্পন্ন পাওয়া যায় না। কৃষকের কাছ থেকে কেনা ধান অনেক সময় ভেজা থাকে। ভেজা থাকার কারণে সেই ভেজা ধান যদি সরকার না কেনে তাহলে সেই ধান আবার মাথায় করে কৃষককে তার বাড়ি ফেরত নিয়ে যেতে হয়। যা সত্যিই বেদনাদায়ক। তবে মিলারদের কাছ থেকে মানসম্পন্ন ধান পাওয়া যায়। সেই ধান ভেজা থাকে না।
তিনি বলেন, আশা করছি এ বছর বোরো, আউশ ও আমনসহ সাড়ে তিন কোটি টনের বেশি ধান উৎপাদন হবে। এরমধ্যে বোরো ধান উৎপাদন হবে এক কোটি ৯৬ লাখ টন।
ধান কাটায় শ্রমিক না পাওয়া প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে কৃষিমন্ত্রী বলেছেন, দেশের অর্থনীতির জন্য একটি শুভ সংবাদ যে দেশে শ্রমিক নেই। এটি একটি ভালো দিক।
সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে কৃষিমন্ত্রী বলেন, সরকার প্রতিবছর সর্বোচ্চ ১২ থেকে ১৫ লাখ টন চাল কেনে। যা বাজারে তেমন কোনও প্রভাব ফেলে না। সরকার যদি ২০ লাখ টন চাল কিনতো তাহলেও উৎপাদিত এই সাড়ে তিন কোটি টনের ক্ষেত্রে তেমন প্রভাব ফেলতো না।
মন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর সাংবাদিকরা পাল্টা প্রশ্ন করেন, তাহলে ১০ লাখ টন চাল রফতানি করলে তা বাজারে কী প্রভাব ফেলবে? এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী সরাসরি কোনও মন্তব্য করেননি।
আব্দুর রাজ্জাক জানান, সম্প্রতি উৎপাদিত বোরোর কম দাম নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে সরকার। এ অবস্থায় চাল রফতানির বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। উৎপাদিত বোরোর ৮০ শতাংশ কাটা হয়ে গেলে সরকার বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনা করবে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ধান-চাল কেনার ক্ষেত্রে বাজারের মধ্যস্বত্বভোগীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কোনও লক্ষ্য আপাতত নেই। তিনি বোরো ধান নিয়ে বিদ্যমান সমস্যা নিরসনে তিনটি উপায়ের কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, এ সমস্যা নিরসনে ১. ধান-চাল রফতানির বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে হবে। ২. ধান উৎপাদনে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি বা উপকরণের দাম কমাতে হবে এবং ৩. আরও উচ্চ ফলনশীল ধানের জাত উন্নয়ন করতে হবে।

/এসআই/এইচআই/এমওএফ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম