পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, যে দেশগুলো ভালো করে তাদের শত্রু থাকে। সেজন্য দেশবাসীকে সতর্ক থাকতে হবে।’ বৃহস্পতিবার (১৬ মে) আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে জাতীয় প্রেস ক্লাবে বঙ্গবন্ধু একাডেমি আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যেসব দেশ উন্নয়নের মহাসড়কে যাত্রা শুরু করে, ইতিহাস বলে সেসব দেশে যুদ্ধবিগ্রহ, সন্ত্রাস লেগে থাকে। ইরাক মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে সবচেয়ে ভালো দেশ ছিল, ধ্বংস হয়ে গেছে। লিবিয়া কোনও দিন বিদেশের ওপর নির্ভর ছিল না। এখন সে দেশ বলতে কিছু নেই, শেষ হয়ে গেছে। যে দেশগুলো ভালো করে তাদের শত্রু থাকে। সেজন্য দেশবাসীকে এখন সতর্ক থাকতে হবে।’
দারিদ্র্য একটি অভিশাপ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘‘গত কয়েক বছরে দারিদ্র্যের হার আমাদের অনেক নিচে নেমে এসেছে, এখন ২১ দশমিক ৩ শতাংশ। অতি দারিদ্র্য ১১ শতাংশ। আমরা আশা করি, আগামী ৫ বছরে অতি দারিদ্র্যের হার আমরা ৫ শতাংশের মধ্যে নিয়ে আসবো। এসবই সম্ভব হচ্ছে শেখ হাসিনার দৃঢ়তা এবং স্বচ্ছ নীতির কারণে। আরেকটি হলো পদ্মা সেতুর ঘটনা, যখন সবাই ডেকে বললো পয়সা দেবে না, শেখ হাসিনা তখন বললেন- ‘আমি নিজের পয়সায় পদ্মা সেতু তৈরি করবো’। আজকে পদ্মা সেতু দৃশ্যমান। সুতরাং শেখ হাসিনা বাংলাদেশের জন্য, আমাদের জন্য একটি আশীর্বাদ। তবে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন গ্রুপ তাকে মারার প্রচেষ্টায় আছে। কারণ, দেশে দুষ্টলোকের অভাব নেই। ২৩ বার তাকে বিভিন্নভাবে মারার প্রচেষ্টা চালিয়েছে। এখন যে তারা বসে আছে, এমন না।’’
আবদুল মোমেন বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর শেখ হাসিনা দীর্ঘ ছয় বছর প্রবাস জীবন কাটিয়েছেন। তাকে আওয়ামী লীগের সভাপতি করার পর তিনি ৮১ সালের ১৭ মে দেশে প্রত্যাবর্তন করেন। তার প্রত্যাবর্তনে ভঙ্গুর আওয়ামী লীগ আবার শক্তিশালী হয়ে ওঠে। শুধু তা-ই নয়, দলকেও তিনি চারবার ক্ষমতায় আনেন। ক্ষমতায় আসার পর তিনি আইনের মাধ্যমে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করেন। বঙ্গবন্ধু হত্যার সঙ্গে যারা জড়িত ছিল তাদের বিচার করেন। এভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করেছেন। দেশের মানুষ যাতে সুখে শান্তিতে বসবাস করতে পারেন সে জন্য বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করছেন তিনি।’
বঙ্গবন্ধু একাডেমির সহ-সভাপতি শেখ ইকবাল খোকনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন অ্যাডভোকেট আবদুল বাসেত মজুমদার, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু, অধ্যাপক আবদুল মান্নান চৌধুরী, ড. সিদ্দিকুর রহমান, অ্যাডভোকেট বলরাম পোদ্দার, এম এ করিম, এস এম তফাজ্জল হোসেন, হুমায়ুন কবির মিজি, সিনিয়র সাংবাদিক মানিক লাল ঘোষ, কাজী বসির আহমেদ, খায়রুজ্জামান ফরিদ প্রমুখ।








