ইতিহাসের যেটা সরল সত্য সেটাকে ঘুরিয়ে দেওয়া যায় না বলে মন্তব্য করেছেন সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের সহ-সভাপতি ম. হামিদ। ‘১৯৭১ ভেতরে বাইরে’ বইটিতে ‘জয় বাংলা, জয় পাকিস্তান’ ব্যবহার করায় মুক্তিযুদ্ধের উপ অধিনায়ক এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) এ কে খন্দকারের (বীর উত্তম) দুঃখ প্রকাশ করে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। শনিবার (১ জুন) রাতে একাত্তর টিভির টক শো ‘একাত্তর জার্নাল’-এর ভিডিও কনফারেন্সে যোগ দিয়ে ম. হামিদ বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন।
ম. হামিদ বলেন, ‘ইতিহাসের সত্যটাকে ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা তিনি কেন করলেন? সত্যটা আজ সামনে চলে এসেছে। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ এমনই একটা ভাষণ, যেখানে শেষে তিনি কী বললেন, সেটা বিতর্কের বিষয় নয়, বরং বঙ্গবন্ধু যে জাতীয় নেতা হিসেবে চলে এসেছিলেন, এই ভাষণটা তারই একটা প্রতীক। আমাদের স্বাধীনতার প্রতীক, বঙ্গবন্ধুর পরিচয়ের প্রতীক, আমাদের জাতিসত্তার অহংকারের প্রতীক। কাজেই এই ভাষণটি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করা খুবই দুঃখজনক হয়েছে বলে আমি মনে করি।’
সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের সহ-সভাপতি বলেন, ‘এই বইটা স্বাধীনতাবিরোধীদের উস্কে দিয়েছে। তারা এই বইয়ের বক্তব্যকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছে। এমনকি অনেক রাজনৈতিক দলও এখান থেকে কোড করেছে। পরবর্তীতে দেখা গেছে, এই বইয়ে আরও এমন অনেক বিষয় আছে, যা তাদের পক্ষে যায়নি, তখন তারা চুপ করে গেছে। বিএনপি ‘জয় বাংলা, জয় পাকিস্তান’ ইস্যু নিয়ে সরব হয়েছে, আবার যখন দেখেছে বইয়ের মধ্যে লেখা আছে স্বাধীনতার ঘোষণার ক্ষেত্রে জিয়াউর রহমানের অবদান নেই, তখন তারা চুপ করে গেছে। শুধু এটুকুই নয়, আরও কিছু জায়গা আছে, যেগুলো বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। কাজেই বইটাকে আমরা গ্রহণ করিনি।’
ম. হামিদ আরও বলেন, ‘আমাদের জাতীয় জীবনে যারা বীর ছিলেন, তাদের লেখাগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ কে খন্দকারের লেখা বলেই ‘১৯৭১ ভেতরে বাইরে’ বইটিকে এত গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছিল এবং এত বিতর্কের সৃষ্টি করেছিল। দেরিতে হলেও তিনি যে ভুল স্বীকার করেছেন, তাতে করে তিনি যে বিভ্রান্তিটুকু সৃষ্টি করে ফেলেছিলেন, সেটার হয়তো অবসান ঘটবে। তবে ক্ষতি ইতিহাসের পাতায় কিছু হয়ে গেছে। সেটা থেকেই যাবে।’ তিনি বলেন, ‘বইটি সৈনিকের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে লেখা, রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে এর অনেক পার্থক্য আছে। বই লেখার সময় শুধু সৈনিকের দৃষ্টি ভঙ্গি নয়, রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিও মাথায় রাখতে হয়। বিশেষ করে এ ধরনের বই লেখার ক্ষেত্রে সবারই অনেক সতর্ক থাকা উচিত। দেরিতে হলেও তিনি ভুল স্বীকার করায়, আমাদের ইতিহাস বিকৃতির জায়গাটা পরিষ্কার হলো।’
উল্লেখ্য, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত দেশের আলোচিত কিছু সংবাদ নিয়ে একাত্তর টিভির নিয়মিত আলোচনার আয়োজন ‘একাত্তর জার্নাল’। অনুষ্ঠানটির উপস্থাপনা করেন কাওসার মাহমুদ। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সিনিয়র সাংবাদিক নাজমুল আশরাফ ও এনটিভির প্রধান বার্তা সম্পাদক জহিরুল আলম।








