ঈদে ২৪ ঘণ্টা গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ স্বাভাবিক এব হাসপাতালগুলো খোলা থাকবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বিশেষ প্রয়োজনে হটলাইনে ফোন করে জরুরি তথ্য জানা ও অভিযোগও করা যাবে।
তিতাস গ্যাস কোম্পানি এবং ঢাকার দুই বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি জানিয়েছে, ঈদে গ্যাস ও বিদ্যুতের পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকবে। কারণ, ঈদের ছুটিতে শিল্প-কারখানা বন্ধ থাকে। তখন গ্যাস ও বিদ্যুতের চাহিদা কম থাকায় চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করা যাবে। উৎপাদন, বিতরণ ও সঞ্চালনে যাতে কোনেও সমস্যা না হয়, সেজন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঢাকা ও পাশের এলাকায় গ্যাস সরবরাহ করা কোম্পানি তিতাসের পরিচালক (অপারেশন) মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে এমনিতেই গ্যাসের চাহিদা কমে যায়। কারণ শিল্প কল-কারখানা বন্ধ থাকে। ঢাকার বহু মানুষ ঈদ উদযাপন করতে দেশের বাড়িতে চলে যান। ফলে চাহিদা কমে যাওয়ার ফলে গ্যাসের কোনও ঘাটতি হয় না। অন্যদিকে গ্যাসের যাতে কোনও সমস্যা না হয়, সেজন্য আমরা কিছু টিমকে ইমার্জেন্সি টিম হিসেবে স্ট্যাণ্ডবাই রেখে দিয়েছি। প্রতিবছরের মতো এ বছরও এই টিম স্ট্যাণ্ডবাই থাকবে। জরুরি সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কারও ছুটি থাকে না এই সময়। ঈদের পর তারা বাই রোটেশন ছুটি নেয়।
তিনি জানান, জরুরি প্রয়োজনে গ্রাহকরা আমাদের হটলাইন (১৬৪৯৬) নম্বরে ফোন দিতে পারেন। অভিযোগ এলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া আছে। পাশাপাশি জরুরি সেবা দিতে গাড়ি ও সরঞ্জামও রাখা হয়েছে প্রতিবছরের মতোই।
বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের ১৬৫২৩, জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেড ১৬৫১১, কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের ১৬৫১২, পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের ১৬৫১৪, সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের ১২৫৩৯। এই নম্বরগুলো কেন্দ্রীয় হটলাইন নম্বর। এরই বাইরে প্রত্যেক জোনে আলাদা নম্বর আছে। বিলের ওপরে ওই নম্বরটি লেখা থাকে। সেই নম্বরেও ফোন দিয়ে গ্রাহক তার অভিযোগ জানাতে পারবেন।
এদিকে ঢাকায় বিদ্যুৎ বিতরণ করা দুই কোম্পানির মধ্যে ঢাকা বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির (ডিপিডিসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিকাশ দেওয়ান বলেন, ‘ঈদের ছুটির মধ্যে যাতে বিদ্যুৎ সরবরাহে কোনও ধরনের ত্রুটি না হয়, সেজন্য আমরা প্রতিটি জোনের জন্য আলাদা কমিটি করে দিয়েছি। এছাড়া কোম্পানির প্রধান প্রকৌশলীর নেতৃত্বে আরেকটি কমিটির পুরো বিষয়টি মনিটরিং করবেন। আমরা এবারই প্রথম কল সেন্টারের উদ্বোধন করেছি। যেকোনও গ্রাহক কল সেন্টারে ফোন দিয়ে তার অভিযোগ জানাতে পারবেন। আমরা চেষ্টা করবো দ্রুত এর সমাধান করতে।’
আর ডিপিডিসির কল সেন্টারের নম্বর হচ্ছে ১৬১১৬। এই সেন্টারে গ্রাহক ফোন দিলে তাকে আগে গ্রাহক আইডি বলতে হবে। আইডির বিপরীতে তিনি বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট যেকোনও অভিযোগ করতে পারবেন। এছাড়া অন্য বিতরণ কোম্পানিগুলোর এখনও কোনও কল সেন্টাল করা হয়নি। তবে তাদের কেন্দ্রীয় অভিযোগ কেন্দ্র রয়েছে। এরমধ্যে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) নম্বর ০৪১-৭২৪৪৭২, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (বাপবিবো) ৮৯০০৬৭৬, ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেডের (ডেসকো)-৮৯০০৫০১ এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বাবিউবো) ০২-৪৭১২০২২৪, ০২-৪৭১২০২২৫। এছাড়া প্রত্যেক গ্রাহকের বিলের ওপরে লেখা ফোন নম্বরে ফোন দিয়েও গ্রাহক তাদের অভিযোগের বিষয়ে জানাতে পারবেন।
এদিকে পিডিবি জানায়, রমজানে গড়ে ১২ হাজার ৫শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়েছে। তবে ঈদের সময় শিল্প-কারখানা, অফিস-আদালত এবং বাণিজ্যিক সব স্থাপনা বন্ধ থাকায় বিদ্যুতের চাহিদা কমবে। সেই হিসেবে, এবার ঈদে সব মিলিয়ে প্রতিদিন ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন হতে পারে। ঈদে গ্যাসের চাহিদাও কম থাকায় বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরইবির এক কর্মকর্তা জানান, তাদের সমিতির সংখ্যা ৮০টি। প্রতিটি পবিস (পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি) এর অধীন এলাকায় যাতে বিদ্যুতের কোনও সমস্যা না হয়, সেজন্য ১০ থেকে ১২ জনের টিম করা হয়েছে। দ্রুত কাজ করার জন্য তাদের স্ট্যান্ডবাই করা হচ্ছে। যাতে কোনও সমস্যা হলে সঙ্গে সঙ্গে সেটা মেরামতের কাজ শুরু করতে পারে। এছাড়া প্রতিটি সমিতিতে হটলাইন নম্বর আছে। যেকোনও গ্রাহক তার এলাকার হটলাইন নম্বরে ফোন দিয়ে অভিযোগ জানাতে পারবেন।
২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে সরকারি হাসপাতালগুলো
টানা তিন দিনের ঈদের সরকারি ছুটিতে খোলা থাকবে দেশের সরকারি হাসপাতালগুলো। ঈদের ছুটিতে ডিউটি রোস্টার মেনে সেখানে রোগীদের সেবা দেবেন চিকিৎসক-নার্স ও সংশ্লিষ্টরা। শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে। এখানে রোস্টারভিত্তিক ডিউটি করবেন সবাই। অধ্যাপকদের অধীনে সব টিম ঠিক রাখা হয়েছে। জরুরি চিকিৎসকদের মোবাইল নম্বর দেওয়া থাকবে তারা প্রয়োজনে হাসপাতালে আসবেন।’
সার্জারি বিভাগের রেজিস্ট্রার ডা. রাজীব দে সরকার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সরকারি হাসপাতালগুলোতে ২৪ ঘণ্টা সেবা দেওয়া হয়। ঈদ-পূজা সবসময়ই আমরা রোগীর জন্য সেবা দিতে প্রস্তুত।’
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় বিএসএমএমইউ এর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের জরুরি বিভাগগুলো খোলা থাকবে। এছাড়া ঈদে যেসব রোগী ভর্তি আছেন, তারা তো ওয়ার্ডে থাকবেনই। ’
চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নিউরো সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. নোমান খালেদ চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘রোগীর জন্য আমাদের হাসপাতালের দরজা সবসময় খোলা। সেটা ঈদ হোক বা অন্য কোনও ছুটি।’
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, মুগদা হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালগুলোর জরুরি সেবা চালু থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্র জানায়, স্বাস্থ্য বাতায়নে (১৬২৬৩) স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত তথ্য পেতে ফোন করতে পারবেন যে কেউ। এটি ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে। এছাড়া স্বাস্থ্য অধিদফতরের কন্ট্রোল রুমের নম্বর ০১৭৫৯১১৪৪৮৮ তেও যোগাযোগ করে যেকোনও দুর্ঘটনা বা তথ্য জানানো যাবে।
ওয়াসা
ঈদে দিনরাত পানি সরবরাহ থাকবে বলে জানিয়েছে ঢাকা ওয়াটার অ্যান্ড স্যুয়ারেজ অথোরিটি (ওয়াসা)। সংস্থাটি বলছে নগরবাসীর অধিকাংশ বাসিন্দারা ঈদ করতে ঢাকা ছাড়ায় পানির চাহিদা অনেক কম থাকবে। এরপরও জরুরি প্রয়োজনে কোথাও কোনও সমস্যা দেখা দিলে ঢাকা ওয়াসার জরুরি হটলাইন ১৬১৬২ নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। ওয়াসার জরুরি সার্ভিস সমস্যা সমাধানে কাজ করবে। এজন্য প্রয়োজনীর জনবল রাখা আছে। ঢাকা ওয়াসার জনসংযোগ কর্মকর্তা আব্দুল কাদের এসব তথ্য জানান।
তবে বিষয়টি নিয়ে কথা বলার জন্য একাধিকবার ফোন করলেও ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী তাকসিম এ খান ফোন ধরেননি।








