ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার কথা বললেও অর্থমন্ত্রী তাদের ছাড় দিয়েছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্য রুস্তম আলী ফরাজী।
শনিবার (২২ জুন) জাতীয় সংসদে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ অভিযোগ করেন।
রুস্তম আলী ফরাজী বলেন, ‘ব্যাংক খাত ও পুঁজিবাজারের অবস্থা খারাপ। একটি শ্রেণি ষড়যন্ত্র করে নিজেরা লাভবান হওয়ার চেষ্টা করছে। ব্যাংক খাত সংস্কার করতে দ্রুত ব্যাংক কমিশন করতে হবে। অর্থমন্ত্রী বাজেটের এ বিষয়ে কিছু বলেননি। অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, ঋণখেলাপিদের বিষয়ে তিনি কঠোর হবেন। কিন্তু বাস্তবে তিনি ঋণখেলাপিদের ছাড় দিয়েছেন।’
তিনি বলেন, ‘দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এটা কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। কিন্তু পাশ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের উন্নয়ন ব্যয় কম। সরকারি বিনিয়োগ বাড়লেও বেসরকারি ও ব্যক্তি বিনিয়োগ বাড়ছে না। মানুষ সুশাসন দেখতে চায়। বিনিয়োগে নানা ধরনের সমস্যা আছে।’ তিনি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানান।
‘বিএনপির আমলে খেলাপি ঋণের চর্চা শুরু’
সরকারি দলের সদস্য আহসানুল ইসলাম বলেন, অর্থমন্ত্রী যেসব উদ্যোগ ও পদক্ষেপ নিয়েছেন তাতে খেলাপি ঋণের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
তিনি দাবি করেন, বিএনপির আমল থেকে রাষ্ট্রীয় সহায়তায় খেলাপি ঋণের চর্চা শুরু হয়। ১৯৯২ সালে বিএনপির আমলে ড্যান্ডি ডাইংকে ঋণ দেওয়া হয়। ২০০১ সালে তাদের ১২ কোটি ১৬ লাখ সুদ মওকুফ করা হয়। খেলাপি ঋণের সংস্কৃতি সেই আমল থেকে শুরু হয়েছে।
‘নয়া পল্টন-গুলশানে যা খুশি বলুন, সংসদে নয়’
আওয়ামী লীগের মৃণাল কান্তি দাস বিএনপির সংসদ সদস্যদের সমালোচনা করে বলেন, “বিএনপির এমপিরা আবোল–তাবোল কথা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চেয়েছেন। তারা এই সংসদে অশ্লীল গালিগালাজ করতেন। এখন সে দিন শেষ। সংসদে যা খুশি তা বলা যাবে না। ‘ভাইয়া গ্রুপ অব ইন্ড্রাস্ট্রিজের’ দুটি জায়গা গুলশান আর নয়া পল্টনে হাতপা ছুটিয়ে যা খুশি বলতে পারেন, কিন্তু সংসদে সংবিধান, সংসদীয় রীতিনীতি নিয়ে কথা বলতে হবে।”
সরকারি দলের আবুল কালাম মো. আহসানুল হক বলেন, বিএনপির একজন সাংসদ শপথ নিয়ে সংসদকে অবৈধ বলেছেন। তিনি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন অথবা তার মস্তিষ্কের বিকৃতি হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, ‘বাজেটের আকার ৯ গুণ বেড়েছে। মাথাপিছু আয় ৪ গুণের বেশি বেড়েছে। প্রতিবছর জিডিপি বাড়ছে। বড় প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হলে জিপিডি ২ অঙ্কের ঘরে যাবে। এসব হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্ব, দক্ষতা ও দূরদর্শীতায়।’
নির্বাচন নিয়ে বিএনপির সমালোচনার জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘৩১ ডিসেম্বর প্রথম আলো পত্রিকা পড়ুন। ঢাকার নির্বাচন সম্পর্কে একটি আর্টিকেল লিখেছিল, সুন্দর নির্বাচন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জনগণের সঙ্গে ছলচাতুরি করে না।’
শিল্পীদের পেশার স্বীকৃতি দাবি
সংরক্ষিত নারী আসনের সুবর্ণ মুস্তফা বলেন, শিল্পী এখনও এ দেশে কোনও স্বীকৃত পেশা নয়। তিনি এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। সেই সঙ্গে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ বাড়ানো, শিল্পীদের ক্ষেত্রে অগিম কর ১০ শতাংশ না করে ৩ শতাংশ করা এবং মূসক প্রত্যাহার করার দাবি জানান।
এ কে এম সারোয়ার জাহান স্ত্রী কর্তৃক নিগৃহীত স্বামীদের জন্য বাজেটে বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব রাখেন। তার এই প্রস্তাব শুনে সাংসদদের অনেকে হেসে উঠলে তিনি বলেন, এখানে হাসার কিছু নেই।
অন্যদের মধ্যে সরকারি দলের আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ, প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমেদ, প্রতিমন্ত্রী, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, ফরিদুল হক খান, এম এ মতিন, হাসান ইমাম খান, শামসুল হক প্রমুখ বক্তব্য দেন।








