রাজনৈতিক সদিচ্ছার ঘাটতির কারণে বাংলাদেশের জনপ্রশাসনে শুদ্ধাচার চর্চা পুরোপুরি বাস্তবায়ন হচ্ছে না। শুদ্ধাচার সম্পর্কিত ১১টি কৌশলের মধ্যে পাঁচটির চর্চা সন্তোষজনক, তিনটির চর্চা শুরুই হয়নি। বাকিগুলোর চর্চা যথাযথভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে না।
রবিবার (২৩ জুন) ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) ‘জনপ্রশাসনে শুদ্ধাচার: নীতি এবং চর্চা’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
গবেষণা, জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলে জনপ্রশাসন সম্পর্কিত ১১টি কৌশলের কথা বলা হয়। সেগুলো হল- প্রতিবছর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের সম্পদ বিবরণ প্রদান, জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রদান (সুরক্ষা) আইন বাস্তবায়ন, পাবলিক সার্ভিসে অভিযোগ ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি প্রবর্তন, বার্ষিক কর্ম মূল্যায়ন পদ্ধতি, প্রণোদনা ও পারিতোষিক ব্যবস্থা প্রবর্তন, প্রতিবছর নিয়মিতভাবে শূণ্য পদে কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ নিশ্চিত করা, সিভিল সার্ভিস আইন প্রণয়ন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মজীবন উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন, কর্মকালীন প্রশিক্ষণ ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানসমূহের সক্ষমতা বৃদ্ধি, জ্যেষ্ঠতা, কৃতি, জ্ঞান ও দক্ষতার ভিত্তিতে প্রতিযোগিতামূলক পদোন্নতি, সরকারি সেবায় ই-গভর্নেন্স প্রবর্তন এবং যৌক্তিক বেতন কাঠামো ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য বিধান।
এর মধ্যে পাঁচটির চর্চা সন্তোষজনক। সেগুলো হল- প্রণোদনা ও পারিতোষিক, প্রশিক্ষণ, সরকারি চাকরি আইন প্রণয়ন, যৌক্তিক বেতন কাঠামো এবং ই-গভর্নেন্স। তিনটি কৌশলের চর্চা শুরু হয়নি। সেগুলো হলো- বার্ষিক কর্ম-মূল্যায়ন পদ্ধতি, জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রদান (সুরক্ষা) আইন বাস্তবায়ন এবং কর্মজীবন উন্নয়ন পরিকল্পনা।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি নিয়োগের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রিতার কারণে প্রতিবছর গড়ে ২০ শতাংশ পদ খালি থাকছে। রাজনৈতিক ও অন্যান্য প্রভাবে কোনও কোনও কৌশলের চর্চা ফলপ্রসূ হচ্ছে না এবং তা প্রশাসনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে, প্রতিযোগিতামূলক পদোন্নতি না হওয়া।
টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘এই রাজনীতিকরণ নতুন নয়, ‘৯০ এর অভ্যুত্থানের পর থেকে তা চলে আসছে। যা এখন উদ্বেগজন পর্যায়ে পৌঁছেছে।’
গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রণয়ন ও উপস্থাপন করেন টিআইবির রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি বিভাগের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মহুয়া রউফ। অনুষ্ঠানে টিআইবির মহাসচিব প্রফেসর পারভীন হাসান, উপদেষ্টা প্রফেসর ড. সুমাইয়া খায়ের উপস্থিত ছিলেন।








