বাংলাদেশ এখন মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরিত হয়েছে উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘এখন আমাদের আর দরিদ্র বলার সুযোগ নেই। বিশ্বগণমাধ্যম এখন বাংলাদেশকে আর দরিদ্র দেশ হিসেবে লিখে না। অর্থাৎ আমাদের জাতীয় পরিচয় বদলে দিয়েছেন শেখ হাসিনা ।’
শনিবার (২৯ জুন) দুপুরে রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত ‘তারুণ্যের ভাবনায় আওয়ামী লীগ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন।
এসময় ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমরা স্বল্পোন্নত দেশ ছিলাম। আমরা যখন কোনও সংকটে পড়তাম, যদি বড় নৌকাডুবির ঘটনা ঘটতো, জলোচ্ছ্বাস হতো, তখনই আমরা বিশ্বের কাছে আলোচনায় আসতাম। যখন আলোচনায় আসতাম তখন বাংলাদেশের সঙ্গে লেখা হতো -পৃথিবীর অন্যতম দরিদ্র দেশ। আর এখন আমরা বিশ্ব সংবাদ মাধ্যমে আসি যখন ক্রিকেটে ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, ভারতকে হারিয়ে দেয় বাংলাদেশ, যখন আমাদের কিশোরী ফুটবল দল ভারতকে হারিয়ে দেয়। যেভাবে বাংলাদেশ সবাইকে চমকে দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে, সেটি যখন জাতিসংঘের মহাসচিব বলেন, যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বলেন, তখন আমরা বিশ্বে সংবাদ হই।’
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব প্রতিরোধে সরকারের করণীয় বিষয়ে তরুণদের পক্ষ থেকে জানতে চাইলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘পৃথিবীতে এখন সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। এর মাধ্যমে কোটি কোটি মানুষের কাছে পৌঁছানো যায়। আগে মানুষের ভাব প্রকাশের জন্য পত্রিকার শরণাপন্ন হতে হতো। এখন সেটি হয় না। এখন ফেসবুকে, টুইটারে কিংবা অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দেওয়া হয়, সেটি সঙ্গে সঙ্গে লাখ লাখ মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। এই দুয়ার অবারিত করেছে আমাদের সরকার। ২০১০ সালে যখন আমরা সরকার গঠন করি, তখন ৪০-৫০ লাখ মানুষ ফেসবুক ব্যবহার করতো, এখন কয়েক কোটি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব একটি বিশ্বব্যাপী সমস্যা, এটা শুধু বাংলাদেশের সমস্যা নয়। আমরা মানুষের অধিকার হরণ করতে চাই না। কিন্তু অবারিত অধিকারের চর্চা করতে গিয়ে যেন অন্যের অধিকার হরণ না হয় কিংবা ব্যক্তি স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ না হয়, রাষ্ট্রে কোনও হানাহানির সৃষ্টি না হয়, সমাজে কোনও অস্থিরতার সৃষ্টি না হয়, সেটি আমাদের সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে। সেই কারণে আমাদের সরকার ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট করেছে। যার মাধ্যমে কেউ যদি গুজব ছড়ায়, সেক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ আছে। এছাড়া আইসিটি মন্ত্রণালয় একটি প্রকল্প নিয়েছে, আমাদের তথ্য মন্ত্রণালয়ে একটি সেল আছে, কেউ গুজব ছড়ালে সেই কন্টেন্টকে কীভাবে নামানো যায়, ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সেজন্য আমাদের ব্যবস্থা আছে।’
অনলাইন গণমাধ্যমের রেজিস্ট্রেশনের সময়সীমা বাড়তে পারে জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী ৩০ তারিখের মধ্যে সব অনলাইন পত্রিকাকে রেজিস্ট্রেশনের জন্য আবেদন করতে হবে। এরপরে যাচাই বাছাই করে আইসিটি , স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ আমরা নিবন্ধনের ব্যবস্থা করবো। এরপর এত বছরে ৩ হাজার আবেদন জমা পড়েছিল, আমি দুই দিন আগে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি যে আরও ৫ হাজার জমা পড়েছে। আমরা হয়তো আরও এক সপ্তাহ সময় বাড়াবো, সবাই যাতে রেজিস্ট্রেশনের জন্য আবেদন করতে পারে। কিন্তু অবশ্যই রেজিস্ট্রেশন করতে হবে।’








