শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের দুই শিক্ষার্থীকে চাপা দিয়ে হত্যার ঘটনায় আলোচিত সেই জাবালে নূর পরিবহনের নাম পরিবর্তনের আবেদন করা হয়েছে। কোম্পানির পক্ষ থেকে আঞ্চলিক পরিবহন কমিটিতে (আরটিসি) এ আবেদন করা হয়। কমিটি অনুমোদন বা সুপারিশ করলে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) পদক্ষেপ নেবে। তবে এখনও আবেদনের বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত দেয়নি আরটিসি। জাবালে নূরের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন বিষয়টি বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেন।
২০১৮ সালের ২৯ জুলাই রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন কলেজের শিক্ষার্থী দিয়া খানম মিম ও আবদুল করিম রাজিব নিহত হওয়ার পরপরই ‘নিরাপদ সড়ক’ দাবিতে রাস্তায় নেমেছিল শিক্ষার্থীরা। ওই সময় শিক্ষার্থীদের টানা কয়েক দিনের বিক্ষোভে কার্যত অচল হয়ে পড়ে ঢাকা। আন্দোলনের মুখে সরকার ওই সময় জাবালে নূরের দু’টি বাসের রুট পারমিট বাতিল করে। এরপর পরিবহনটির নিবন্ধনও স্থগিত করা হয়।
এভাবে আইন ও নীতিমালার বেড়াজালে দীর্ঘদিন অতিবাহিত হওয়ার পর সম্প্রতি আরটিসির আওতাধীন একটি সাব-কমিটি এই কোম্পানির সব পরিবহনের রুট পারমিট বাতিলের জন্য আরটিসির কাছে সুপারিশ করেছে। কিন্তু সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্ত দেয়নি আরটিসি। ফলে, পরিবহনটি নিষিদ্ধের বিষয়ে শিক্ষার্থীদের দাবি থাকলেও আগের মতোই চলছে জাবালে নূরের বাস। পরিবহনটি ঢাকা মহানগরীর ১৮৪নং রুট বসিলা থেকে আবদুল্লাহপুরে চলাচল করতো।
জানতে চাইলে বিআরটিএ’র সড়ক নিরাপত্তা বিভাগের পরিচালক মাহবুব-ই-রাব্বানী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জাবালে নূরের মালিকপক্ষ তাদের কোম্পানির নাম পরিবর্তনের জন্য আরটিসি’র কাছে আবেদন করেছে। সে বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি।
তিনি আরও বলেন, ‘আরটিসি’র (আঞ্চলিক পরিবহন কমিটি) অধীনে একটি সাব-কমিটি রয়েছে। ওই কমিটি জাবালে নূরের রুট পারমিট বাতিলের সুপারিশ করেছে। এখনও বাতিল করা হয়নি। আগামী ৪ আগস্ট কমিটির বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। যে কারণে পরিবহনটি এখনও চলাচল করছে। আর গত বছরের দুর্ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট দু’টি বাসের রুট পারমিট বাতিল করা হয়েছে।’
এদিকে সরেজমিন দেখা গেছে, পরিবহনটির রুট পারমিট বাতিলের জন্য আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের দাবি থাকায় কিছুদিন বন্ধ রাখার পর আবারও নিজস্ব রুটে চলাচল করছে জাবালে নূর। কিছু কিছু বাস নাম পরিবর্তন করে অন্যান্য কোম্পানিতে ঢুকে পড়ছে। আবার কিছু কিছু বাস নিজস্ব নামেই চলাচল করছে। যদিও কোম্পানিটির দাবি, তাদের কোনও পরিবহন এখন রাস্তায় চলাচল করছে না। তাহলে সেই বাসগুলো কোথায় রয়েছে, সে বিষয়েও কোম্পানির কাছ থেকে কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি।
জানতে চাইলে পরিবহন কোম্পানিটির চেয়ারম্যান জাকির হোসেন বলেন, জাবালে নূরের কোনও বাস রাস্তায় চলে না। সুপ্রভাতের ঘটনার পর আমাদের বাসগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে কোনও কোম্পানিতে শুধু এক মালিকানাধীন গাড়ি থাকে না। একটি ট্রান্সপোর্ট কোম্পানিতে একাধিক ব্যক্তির মালিকানাধীন পরিবহন থাকে। এর সঙ্গে অনেকেই জড়িত। চালক ও হেলপাররা বেকার। কর্মহীন। এ কারণে আমরা আরটিসি’র কাছে কোম্পানির নাম পরিবর্তনের জন্য আবেদন করেছি। তারা যদি সাড়া দেয় তাহলে বিআরটিএ ব্যবস্থা নেবে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দুটি কোম্পানি। একটি জাবালে নূর-১; অন্যটি জাবালে নূর-২। প্রথমটি বসিলা থেকে মিরপুর হয়ে আবদুল্লাহপুর ও দ্বিতীয়টি বসিলা থেকে মিরপুর হয়ে বাড্ডার দিকে চলাচল করে। জাবালে নূর-১-এ ৫০টি এবং জাবালে নূর-২-এ ৪০টি বাস চলাচলের অনুমোদন ছিল। এই কোম্পানিতে ৬০-৭০ জন মালিকের বাস রয়েছে। তারা সবাই ক্ষতিগ্রস্ত।’
আরও পড়ুন: জাবালে নূর চলছেই








