দেশব্যাপী বেসরকারি উদ্যোক্তা তৈরিতে ৬৪ জন প্রশিক্ষক নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)। দেশের শহর ও গ্রামাঞ্চলের বিনিয়োগে আগ্রহী সম্ভাবনাময় বেকার ও শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের বিনিয়োগ-সংক্রান্ত ধারণা দিতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ‘তারুণ্যের শক্তি, বাংলাদেশের সমৃদ্ধি’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে আগ্রহী উদ্যোক্তাদের লক্ষ্য হচ্ছে, ‘চাকরি করবো না, চাকরি দেবো’। ২০৩০ সালের মধ্যে তিন কোটি বেকারের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যেই দুই বছরের জন্য ‘উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্প’ নামে প্রকল্প হাত নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সরাসরি প্রকল্পটি মনিটরিং করছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৯৯৯ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত আগ্রহে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে বিডা সূত্রে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, উদ্যোক্তা তৈরিতে ৯ সদস্যবিশিষ্ট বাছাই কমিটি করা হবে। আর এই বাছাই কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসকরা। কমিটিতে আরও থাকবেন জেলা বণিক সমিতির সভাপতি, বণিক সমিতি কর্তৃক একজন ব্যবসায়ী, জেলা প্রশাসক কর্তৃক মনোনীত একজন সফল নারী উদ্যোক্তা, একজন সফল ব্যবসায়ী, জেলা কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ, জেলা উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একজন অধ্যক্ষ, জেলা প্রশাসক কর্তৃক মনোনীত জেলার ব্যবসা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের একজন প্রতিনিধি উদ্যোক্তা বাছাই কমিটির সদস্য হবেন এবং বিডা কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত জেলা প্রশিক্ষক হবেন এই কমিটির সদস্য সচিব।
বিডা সূত্রে জানা গেছে, দেশে চলমান বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের নেওয়া বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যস্ত সময় পার করছেন জেলা প্রশাসকরা। ফলে বেসরকারি উদ্যোক্তা তৈরিতে সময় দিতে পারছেন না তারা। এ কারণে জেলায় জেলায় উদ্যোক্তা বাছাই কমিটিও গঠন করা হচ্ছে না। এতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উদ্যোগে নেওয়া ‘উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্প’ বাস্তবায়ন কাজও শুরু করতে দেরি হচ্ছে।
সূত্র জানায়, উচ্চ প্রযুক্তিসম্পন্ন বহুজাতিক বা আন্তজার্তিক ভারী ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্পের প্রাথমিক ও মধ্যম পর্যায়ের ইনপুট, কাঁচামাল, যন্ত্রাংশ, কম্পোনেন্ট সরবরাহের জন্য স্থানীয় শিল্প গড়ে তোলার লক্ষ্যে উদ্যোক্তাদের সহায়তা করাই হবে নতুন এই প্রকল্পের মূল কাজ। এছাড়া, নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও তাদের দক্ষতা উন্নয়ন হবে এ প্রকল্পের মাধ্যমে। ২০১৯ সালের ১ জানুয়ারি শুরু হয়েছে এ প্রকল্পের কার্যক্রম। যদিও প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০১০ সালের ৩১ ডিসেম্বর। তবে, প্রকল্পটিকে একনাগাড়ে ৫ বছর মেয়াদি করার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে অন্য একটি সূত্র বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দেশব্যাপী বেসরকারি উদ্যোক্তা তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এসব উদ্যোক্তা তৈরি করা হবে। এজন্য প্রতিটি জেলায় একজন করে মোট ৬৪ জন প্রশিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তৈরি করা উদ্যোক্তাদের লক্ষ্যই হবে ‘চাকরি দেওয়া, চাকরি করা নয়’। এ কাজটি করার জন্য ইতোমধ্যেই একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, যা বিডা বাস্তবায়ন করছে। শিগগিরই প্রকল্পটির কাজ শুরু হচ্ছে।’
এ প্রসঙ্গে বিডার চেয়ারম্যান কাজী আমিনুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়েছে। নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশিক্ষকরা জেলায় জেলায় চলে গেছেন। আগ্রহী উদ্যোক্তাদের কারিগরি সহায়তা দেবে। তাদের মানসিকভাবে গড়ে তোলা হবে। প্রশিক্ষকরা এ কাজটিই করবেন। বিনিয়োগে আগ্রহী উদ্যোক্তাদের বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরিতে সহায়তা করা হবে। তবে, বিডা থেকে সরাসরি কোনও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে না।’
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কুমিল্লা জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশিক্ষক গোলাম হাফিজ পাভেল বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, ‘উদ্যোক্তা বাছাই কমিটি গঠিত হলেই কাজ শুরু হবে। তবে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসক ব্যস্ত থাকায় এই কমিটি গঠন করা যাচ্ছে না। তিনি ফ্রি হলেই কমিটি গঠন করা হবে। তখন কাজও শুরু করা যাবে। জেলা প্রশাসক হবেন এই কমিটির সভাপতি।’
প্রশিক্ষক হিসেবে যারা নিয়োগ পেয়েছেন তারা হলেন- ঢাকায়- আল্পনা ফেরদৌসী বীথি, নারায়ণগঞ্জে তহুরা আরমিন, গাজীপুরে মাহবুবা-এ-খোদা, নরসিংদীতে মো. তৌহিদুল ইসলাম, মানিকগঞ্জে আজিজুর রহমান, রাজবাড়ীতে ফাতেমা-তুজ-জোহরা, ফরিদপুরে নাজনীন নাহার নিপা, মুন্সীগঞ্জে মো. এনামুল হক, শরীয়তপুরে সাইফুর রহমান, মাদারীপুরে মো. রিয়াজুল ইসলাম, টাঙ্গাইলে ফাইজুর রহমান জুয়েল, গোপালগঞ্জে হাফিজুর রহমান মোল্লা, কিশোরগঞ্জে মো. শরিফুল ইসলাম, ময়মনসিংহে কায়সার হামিদ রিপন, জামালপুরে সানা মণ্ডল, শেরপুরে নাসিমুল আহমেদ, নেত্রকোনায় ফরহাদ হোসেন, বরিশালে আবরারুল হক, বরগুনায় সামছুল আরেফিন চৌধুরী, ভোলায় আরিফ হোসেন, ঝালকাঠিতে মো. আরমান, পটুয়াখালীতে মনিরুজ্জামান, পিরোজপুরে নাহারুল ইসলাম, বাগেরহাটে মশিউর রহমান, চুয়াডাঙ্গায় তানভীর আহম্মেদ, যশোরে উম্মে হাবিবা, ঝিনাইদহে আবুল কালাম আজাদ, খুলনায় মিজানুর রহমান, কুষ্টিয়ায় জাফর আহম্মেদ, মাগুরায় বজলুর রশিদ, মেহেরপুরে হুসাইন ফারুক, নড়াইলে জাকির হোসেন, সাতক্ষীরায় রাশিদুল ইসলাম, বগুড়ায় মোজাইদুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জে এস.এ.এ. শাফী, জয়পুরহাটে সাহিদ হাসান, নওগাঁয়ে মো. এরফান, নাটোরে ইমরান হোসেন, পাবনায় আবদুল কাইয়ুম, রাজশাহীতে জামিলা আফসারী আলম, সিরাজগঞ্জে রুবেল হোসেন সৈকত, রংপুরে মো. মনিরুজ্জামান, ঠাকুরগাঁওয়ে আফিয়া ফাহমিদা অনামিকা, পঞ্চগড়ে আজাদুল ইসলাম, দিনাজপুরে মো. হাসানুজ্জামান, গাইবান্ধায় মো. সোহরাব আলী, কুড়িগ্রামে জাহাঙ্গীর আলম, লালমনিরহাটে জেড.এফ.এম. ফিরোজ পাশা, নীলফামারীতে মামুনুর রশীদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সালমান রহমান, কুমিল্লায় নীলা নূর, চাঁদপুরে তাজুল ইসলাম, লক্ষ্মীপুরে এ.কে.এম. শাহরিয়ার, নোয়াখালীতে জয়নাল আবেদিন, ফেনীতে ইসমাইল হোসেন, খাগড়াছড়িতে রিটন চাকমা, চট্টগ্রামে মোহাম্মদ মোহাইমিনুল ইসলাম, বান্দরবানে সোয়ায়েব হোসেন, রাঙামাটিতে শ্রান্তিক চাকমা, কক্সবাজারে মুহাম্মদ শাহজাহান সাজিদ, সিলেটে মো. সালিহুর রহমান, হবিগঞ্জে তরিকুল ইসলাম, সুনামগঞ্জে মোহাম্মদ আশরাফ সিদ্দিকী ও মৌলভীবাজারে বেলাল হোসেন সরকার। এছাড়া, প্রধান কার্যালয়ে রয়েছেন ইসরাত জাহান, সালমা আক্তার পান্না ও গোলাম হাফিজ পাভেল।








