বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, সাশ্রয়ী মূল্যে জ্বালানি সরবরাহের চ্যালেঞ্জ সরকার সাফল্যের সঙ্গে মোকাবিলা করছে। বর্তমানে গ্যাসের চাহিদা মোটামুটিভাবে পূরণ করা হচ্ছে। এ বছর শেষে সরবরাহ আরও ভালো অবস্থায় আসবে। মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) ঢাকায় সোনারগাঁও হোটেলে ‘সাউথ এশিয়া এলএনজি ফোরাম ২০১৯’ সেমিনারের উদ্বোধনের সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ক্রমবর্ধমান উন্নয়নের কারণে গ্যাসের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরকার গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম বাড়িয়েছে। এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে। ধীরে ধীরে বাংলাদেশে এলএনজি’র আকার বড় হচ্ছে। আগামী ৫ থেকে ১০ বছরে গ্যাসের মূল্য কেমন হতে পারে তা বিশ্লেষণ করা সময়ের দাবি। তিনি আঞ্চলিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, এক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর উপায় খুঁজে বের করতে হবে।
অনুষ্ঠানে পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসেন ‘দ্য ক্রুসিয়াল রোল অব ন্যাচারাল গ্যাস অ্যান্ড এলএনজি ফর পাওয়ার ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বর্তমানে দৈনিক ২ হাজার ৭৫০ মিলিয়ন ঘনফুট নিজস্ব গ্যাস উত্তোলন করে আমদানি করা এলএনজির সঙ্গে মিশ্রণ করে দৈনিক ৩৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। গ্যাস পাওয়ার নতুন সম্ভাবনাময় স্থান চিহ্নিতকরণ ও মজুত বৃদ্ধির লক্ষ্যে ভূতাত্ত্বিকসহ দ্বিমাত্রিক ও ত্রিমাত্রিক জরিপ পরিচালনা করা হচ্ছে। বিভিন্ন মেয়াদে নতুন অনুসন্ধান কূপ খনন, উন্নয়ন কূপ খনন ও উৎপাদিত কূপের ওয়ার্ক ওভার করার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। এলএনজি সরবরাহের সক্ষমতা দৈনিক ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট। বর্তমানে দৈনিক ৫০০ থেকে ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুটের সমপরিমাণ এলএনজি সরবরাহ করা হচ্ছে। কাতার ও ওমানের দুটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এলএনজি সরবরাহের চুক্তি করা আছে। এছাড়া স্পট ভিত্তিতে এলএনজি আমদানির লক্ষ্যে ১৭টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি সইয়ের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।
‘ইউটিলাইজিং ন্যাচারাল গ্যাস অ্যান্ড এলএনজি থ্রো ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন টু মিট ইনক্রিজিং ডিমান্ড ফর পাওয়ার’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে দুই দিনব্যাপী কনফারেন্সে ১৬টি দেশের ২২টি প্রতিষ্ঠান থেকে ৪০ জন বিশেষজ্ঞ অংশ নিচ্ছেন।








