এবার মশা মরেছে (ভিডিও)

শাহেদ শফিক
০৬ আগস্ট ২০১৯, ১৯:২৯আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০১৯, ২৩:২৬

 


মশা নিধন কাজে বিদেশ থেকে নতুন করে আমদানি করা দুটি মশার ওষুধের মাঠপর্যায়ের পরীক্ষা (ফিল্ডটেস্ট) করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। ওই পরীক্ষায় ৮৪ থেকে ১০০ ভাগ মশা মারা গেছে। এ কারণে প্রাথমিক পর্যায়ে নতুন আমদানি করা এ দুটি ওষুধকে কার্যকর বলে ধরে নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) বিকালে দক্ষিণ নগর ভবনের বারান্দায় এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ভারতীয় কোম্পানি টেগ্রোস কেমিক্যাল ইন্ডিয়া লিমিটেডের তৈরি ওষুধ দুটির ফিল্ডটেস্টে প্রাথমিক পর্যায়ে মানসম্মত ‘কার্যকারিতা’ পাওয়া যায়। চূড়ান্ত পর্যায়ে উত্তীর্ণ হওয়ার পর এই ওষুধ দ্রুত আমদানি করা হবে বলে জানিয়েছে ডিএসসিসি।

টেগ্রোস কেমিক্যাল ইন্ডিয়া লিমিটেড থেকে আমদানি করা ওই ওষুধ দুটির নাম ম্যালাথিউন ৫% আরএফইউ (Malathion 5% RFU) ও ডেল্টামেথ্রিন ১১.২৫% ইএলভি (Deltamethrin 1.২৫% ULV)।

একেকটি ওষুধের কার্যকারিতা এমন তিনটি খাঁচায় রাখা মশার ওপর পরীক্ষা করা হয়

মঙ্গলবার বিকেল পৌনে ৫টা থেকে দুটি ওষুধের নমুনা পরীক্ষা শুরু হয়। প্রতিটি নমুনা পরীক্ষার জন্য তিনটি খাঁচার মধ্যে ৫০টি করে মশা রাখা হয়। ২০ মিনিট পর প্রতিটি খাঁচায় কয়টি মশা জ্ঞান হারিয়েছে বা মারা গেছে বা উড়ন্ত অবস্থা থেকে পড়ে রয়েছে সেটি গণনা করা হয়। এরপর গড় হার নির্ধারণ করা হয়।

পরীক্ষায় ম্যালাথিউন ৫% আরএফইউ ওষুধের কার্যকারিতা প্রথম খাঁচায় ৯২ শতাংশ, দ্বিতীয় ও তৃতীয় খাঁচায় ১০০ শতভাগ পাওয়া গেছে। আর ডেলটামেথ্রিন ১.২৫ %ইউএলভি স্প্রের পর তিনটি খাঁচায় অজ্ঞান হওয়া বা নক-ডাউন মশার শতকরা সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ৮৪, ৯২ এবং ৮২ শতাংশ। ৪টা ৪৫ থেকে ৫টা ৫ মিনিট পর্যন্ত এ ওষুধটি পরীক্ষা করা হয়।

এছাড়াও ডিএসসিসিতে  বর্তমানে ব্যবহৃত লিমিট লিকুইড ইনসেকটিসাইড ওষুধটির প্রথম নমুনায় ৯০, দ্বিতীয় নমুনায় ১০০ ও তৃতীয় নমুনায় ৮৪ শতাংশ কার্যকারিতা পাওয়া গেছে।

তিন খাঁচায় প্রয়োগ হচ্ছে মশার ওষুধ

এরপর খাঁচাগুলো সিলগালা করে রেখে দেওয়া হয়। ২৪ ঘণ্টা পর এসব খাঁচার মশাগুলোকে আবারও গণনা করা হবে। তাতে যদি ৮০ ভাগের বেশি মশা মারা যায় তখন ধরে নেওয়া হবে ওষুধগুলো ফিল্ড পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। সিটি করপোরেশনের নিজস্ব এমন পরীক্ষার পর নমুনাগুলো আবার পাঠানো হবে আইইডিসিআর ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরে। সেখানে দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফা পরীক্ষা হবে। এর ফলাফল পাওয়া যাওয়ার পর তা পাঠানো হবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছে। সেখান থেকে সুপারিশ পাওয়ার পর তা মাঠপর্যায়ে প্রয়োগ করা যাবে। এরপর শুরু হবে ওষুধ আমদানির প্রক্রিয়া।

ওষুধ স্প্রে করার পর ক’টা মশা মরলো তা গুনছেন বিশেষজ্ঞরা

ফিল্ডটেস্টের সময় উপস্থিত ছিলেন ডিএসসিসির মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির আহ্বায়ক মো. মোস্তাফিজুর রহমান, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শরীফ আহমেদ, ডিএসসিসির প্রধান ভাণ্ডার ও ক্রয় কর্মকর্তা নুরুজ্জামান, ঢাকা মশক নিবারণ দফতরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আ ন ম ফয়জুল হক, রোগতত্ত্ব রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা খন্দকার নূর ই জান্নাত, আইইডিসিআর‘র মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মিনতি সাহা, উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপ পরিচালক কৃষিবিদ মো. আমিনুর ইসলাম প্রমুখ।

মশার ওষুধ পরীক্ষার আগে সাংবাদিকদের পরীক্ষার বিষয়ে অবগত করেন ডিএসসিসি মেয়র সাঈদ খোকন

 

পরীক্ষা শেষে ডিএসসিসির প্রধান ভাণ্ডার ও ক্রয় কর্মকর্তা মো. নুরুজ্জামান বলেন, মশার ওষুধ আমরা তিনভাবে পরীক্ষা করি। প্রথমে ফিল্ড টেস্ট, এরপর ল্যাব টেস্ট ও সবশেষ প্ল্যান্ট প্রটেকশন টেস্ট। আজকের পরীক্ষায় প্রতিটি নমুনাতেই নক ডাউন হওয়া মশার শতকরা সংখ্যা ৮০ এর ওপরে। অর্থাৎ প্রাথমিকভাবে ওষুধগুলো উত্তীর্ণ হয়েছে। এরপর এই নমুনাগুলো ২৪ ঘণ্টা পর আবার দেখা হবে যে কতগুলো মারা গেলো। তাতে ফিল্ড টেস্টের সম্পূর্ণ ফলাফল পাওয়া যাবে। সেখানে যদি ৮০ ভাগের ওপর মশা মরে তাহলে ধরে নেওয়া হবে ওষুধগুলো কার্যকর।

নুরুজ্জামান আরও বলেন, সিটি করপোরেশনের মশক নিবারণ অধিদফতর থেকে এ মশাগুলো আমরা সংগ্রহ করেছি। তারা কেরানীগঞ্জ থেকে লার্ভা সংগ্রহ করে সেখান থেকে মশা উৎপাদন করেছে। তবে এসব মশা কোন প্রজাতির এবং এডিস মশা আছে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন কিউল্যাক্স ও এডিস প্রজাতির।

কবে নাগাদ ওষুধ আসবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সব পরীক্ষা শেষে ওষুধগুলো অনুমোদন পেলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আনা হবে।

মশার ওষুধের কার্যকারিতা পরীক্ষা হচ্ছে

অন্যদিকে, এই পরীক্ষায় ওষুধ নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন দুই বিশেষজ্ঞ ডা. মিনতি সাহা ও ড. আমিনুর ইসলাম। তারা বলেন, আমরা তো দেখছি ওষুধ উত্তীর্ণ হয়েছে।

এর আগে গত শুক্রবার ভারতীয় অপর কোম্পানি বায়ার করপোরেশনের ‘Aque k Delthrean (Deltamethrin) 2%EW’ নামে ওষুধটির নমুনা সংগ্রহ করে ফিল্ড টেস্ট করে ডিএসসিসি। এটি জার্মানির তৈরি যা পানির সঙ্গে মিশিয়ে প্রয়োগ করতে হয়। তাতে মশার নক-ডাউন ভালো পাওয়া যায়নি। ওই পরীক্ষায় ১নং নমুনায় ৫০টি মশার মধ্যে ১৩টি, ২নং নমুনায় ১৪টি ও ৩নং নমুনায় ৯টি মশা জ্ঞান হারিয়েছে। ফলে এর শতকরা হার দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে-২৬, ২৮ ও ১৮ শতাংশ। ফলে ওই ওষুধটি ‘অকার্যকর’ বলে ধরে নেয় ডিএসসিসি।

 

/এসএস/টিএন/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
ড্রোন কিনতে ২০০০ বিলিয়ন রুপি ব্যয়ের পরিকল্পনা ভারতের
ড্রোন কিনতে ২০০০ বিলিয়ন রুপি ব্যয়ের পরিকল্পনা ভারতের
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম