ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় উৎপন্ন কোরবানির বর্জ্য ডাম্পিংয়ের একমাত্র স্থান মাতুয়াইল প্রস্তুত করা হয়েছে। ডিএসসিসি সূত্র জানিয়েছে, তাদের আওতাধীন এলাকায় কোরবানির ঈদে সাধারণ ২০ হাজার মেট্রিক টন বর্জ্য উৎপন্ন হয়; যা মাত্র দু’টি স্পটেই ডাম্পিং করা যায়। তবে অতিবৃষ্টি বা কোনও প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিলে বর্জ্য অপসারণ নিয়ে যাতে কোনও সমস্যা না হয়, সেজন্য তারা আরও পাঁচটি স্পট প্রস্তুত করেছে। কোরবানির বর্জ্য অপসারণে ডিএসসিসির ৯ হাজার ৪৯৩ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী কাজ করবেন। আর একাজে ৬০০ ভ্যানসহ ৩৮২টি যান-যন্ত্র ব্যবহার করা হবে।
ডিএসসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ সূত্র জানায়, প্রতিবছরের মতো এবারের কোরবানির ঈদে মহানগর দক্ষিণ এলাকায় প্রায় ১৫-২০ হাজার মেট্রিক টন বর্জ্য হতে পারে। বৃষ্টি হলে এর পরিমাণ আরও বাড়বে। এই দুই বিষয় মাথায় রেখে বর্জ্য অপসারণের সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কোরবানির বর্জ্য সংগ্রহ করে মাতুয়াইল নেওয়ার জন্য খোলা ট্রাক, কন্টেইনার বক্স, কন্টেইনার ক্যারিয়ার, ডাম্পার ট্রাক, কম্পেক্টর, পে-লোডার, পানির গাড়ি ও টায়ার ডোজারসহ ৩৮২টি যান-যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হবে। এর বাইরে ঈদের আগের রাতে কোরবানির পশুর হাট পরিষ্কারের জন্য ৩৪টি ও ঈদের দিন বর্জ্য পরিষ্কারের জন্য ১১৭টি খোলা ট্রাক নিয়োজিত থাকবে।
রবিবার (১১ আগস্ট) দক্ষিণ সিটির মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে গিয়ে দেখা যায়, ১০০ একর আয়তনের এই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার স্টেশনটির সিংহভাগই ডাম্পিং করা বর্জ্যে ভরে আছে। ডাম্পিং করা এই বর্জ্যের পরিমাণ প্রায় ৮০ লাখ টন ঘনমিটার। আর এর আশেপাশেই এবারের কোরবানির বর্জ্য অপসারণের জন্য ইট-পাথর দিয়ে সাতটি স্পট তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র দুটি স্পট ব্যবহার করা হবে; যার প্রতিটির দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ্য ১০০ ফুট। যদি কোনও প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দেয়, তাহলে জরুরি মুহূর্তে বাকি ৫টি স্পটও ব্যবহার করা হবে। প্রতিটি স্পটে বর্জ্যবাহী গাড়ি চালিয়ে নিয়ে যাওয়া যাবে। আর বর্জ্য ফেলে যাওয়ার সময় গাড়ি পরিষ্কারের জন্য পর্যাপ্ত ব্লিসিং ফাউডার, সেভলনসহ অন্য উপকরণ মজুদ রাখা হয়েছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কাজে নিয়োজিত সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে।
ল্যান্ডফিলে কর্মরত পরিচ্ছন্নতাকর্মী রোকাইয়া বেগম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা এখানে নিজের মতো করে কাজ করি, ভালো লাগে। কোরবানির ঈদে ময়লা বেশি হয়। গাড়িতে করে সে ময়লা আসে। আমরা তা ডাম্পিং করার জায়গায় নিয়ে যাই। এবারও নিয়ে যাবো। সেভাবেই প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। আমাদের শ্রমে ঢাকা শহরটা ভালো থাকুক, পরিষ্কার থাকুক।’
বিলকিছ বেগম নামের অন্য একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী বলেন, ‘ময়লা আসলে স্তুপ করে পড়ে থাকতে দেবো না। ময়লা আসার সঙ্গে সঙ্গে সেগুলো সঠিক জায়গায় ফেলে জায়গা খালি করে দেবো।’
ডিএসসিসির নির্বাহী প্রকৌশলী (বর্জ্য) আ হ ম আব্দুল্লাহ হারুন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মেয়রের ঘোষণা অনুযায়ী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বর্জ্য অপসারণে মাতুয়াইল ল্যান্ডফিল প্রস্তুতি করেছি। আমাদের সব কর্মী ও যান-যন্ত্রপাতি প্রস্তুত রয়েছে।’
ভিডিও-








