কক্সবাজারে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে আরও জোর দেবে সরকার। গত ২৫ আগস্ট অনুষ্ঠিত রোহিঙ্গা সমাবেশ, কক্সবাজারে দেশি-বিদেশি এনজিওর কার্যক্রম, ক্যাম্পে মোবাইল ফোন-ইন্টারনেটের ব্যবহার, রোহিঙ্গাদের পরিচালিত বাজারসহ সংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে কী করা যায়, তা নিয়েও ভাবছে সরকার।
এ বিষয়ে বুধবার (২৮ আগস্ট) একজন সরকারি কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা কক্সবাজারে নিরাপত্তা রক্ষাসহ অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি।’
শুধু তাই নয়, ক্যাম্পে অবস্থিত রোহিঙ্গাদের সেবা দেওয়ার জন্য বিভিন্ন সংস্থাকে সহায়তা করা হয় বলে তিনি জানান।
তিনি বলেন, ‘গত ২৫ আগস্টের রোহিঙ্গাদের বিশাল সমাবেশের বিষয়ে সরকারের একটি অংশের জানা ছিল না। এটি কীভাবে হলো— সেই বিষয়টি আমার জানার চেষ্টা করছি।’
এর আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন গত সোমবার (২৬ আগস্ট) বলেন, তিনি টেলিভিশন দেখে বিষয়টি জেনেছেন।
সরকারের আরেকজন কর্মকর্তা বলেন, ‘রোহিঙ্গারা অবাধে মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। এ বিষয়টি নিয়েও আমরা চিন্তাভাবনা করছি।’
বিভিন্ন দেশি-বিদেশি এনজিওর রোহিঙ্গা বিষয়ক কার্যক্রমের বিষয়ে সরকারের নজরদারি বাড়ানোর চিন্তাভাবনা আছে কিনা, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং এ কারণে আমরা সবাইকে অনুরোধ করেছি সরকারের গৃহীত নীতির বাইরে কোনও কাজ না করার জন্য।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ
নতুন চীনা রাষ্ট্রদূত লি জিমিং বুধবার রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের কাছে পরিচয়পত্র পেশ করেন। পরে সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হকের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৯ আগস্ট) সকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তার সৌজন্য সাক্ষাৎ করার কথা।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বাস্তবায়নে চীনের সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ।’
মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে প্রত্যাবাসন এবং অন্যান্য বিষয়ে পেপারওয়ার্ক চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ। কিন্তু এর বাস্তবায়ন পাশের দেশের সরকার করছে না বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘রাখাইনে সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, রোহিঙ্গাদের ফেরত যেতে উৎসাহিত করা, নাগরিকত্বের বিষয়টি বিবেচনা করাসহ সব বিষয়ে মিয়ানমার রাজি হয়েছে। কিন্তু কোনোটির বাস্তবায়ন করছে না।’ এটি তারা যাতে করে এজন্য চীনা সহায়তার বিষয়ে আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি।
ডিপ্লোমেটিক ব্রিফিং
গত ২২ আগস্ট রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন না হওয়া এবং ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের দুই বছরপূর্তি বিষয়ে সর্বশেষ পরিস্থিতি বিদেশি কূটনীতিকদের জানাবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। আগামীকাল বৃহস্পতিবার বিকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় এ ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হবে।
এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘সর্বশেষ পরিস্থিতি কী এবং সামনে কী করণীয়— এসব বিষয় তিনি কূটনীতিকদের কাছে তুলে ধরবেন।’








