ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকের প্রশ্নে কাউন্সিলররা ক্ষুব্ধ হন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে মেয়র মোহাম্মদ সাইদ খোকন কাউন্সিলরদের ওপর রাগান্বিত হন। পরে কয়েকজন কাউন্সিলর সাংবাদিকদের কাছে ক্ষমা চান। রবিবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ডিএসসিসির নগর ভবনে মেয়র হানিফ মিলনায়তনে এ ঘটনা ঘটে।
অনুষ্ঠানে ২০১৯-২০ অর্থ বছরের জন্য তিন হাজার ৬৩১ কোটি ৪০ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়। বাজেট ঘোষণা শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন মেয়র।
এসময় মেয়রের কাছে বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিবেদক শাহেদ শফিক জানতে চান, ‘কাউন্সিলরদের আবেদনের প্রেক্ষিতে দুই বছর আগে পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও মশকনিধন কর্মীদেরকে নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব তাদেরকে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নগরবাসীর অভিযোগ, এ দায়িত্ব কাউন্সিলররা ঠিকমত পালন করেন না। তাহলে দায়িত্ব কি শুধু নগর পিতার? না কি কাউন্সিলরদেরও আছে?’ এমন প্রশ্নের উত্তরে মেয়র জবাব দেওয়ার আগেই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন উপস্থিত বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলররা। এসময় উপস্থিত কাউন্সিলরদের কয়েকজন ওই সাংবাদিকের দিকে তেড়ে আসার চেষ্টা করেন। তখন অন্য সাংবাদিকরা বাধা দিলে সব সাংবাদিককে উপস্থিত কাউন্সিলররা চোখ রাঙানি দিতে থাকেন। এসময় মিলনায়তনে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় কাউন্সিলরদের ওপর মেয়র খোকন চরম ক্ষুব্ধ হলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। তখন কাউন্সিলরদের উদ্দেশে মেয়র বলেন, ‘আমি আশ্চর্য। আপনারা কি কাউন্সিলর? উনারা আমাদের গেস্ট।’ এরপর মেয়র উচ্চস্বরে কয়েকজনকে বসতে বলেন। পরে তেড়ে আসা ওই কাউন্সিলরদের একজন গোলাম হোসেন ক্ষমা চান। তিনি ডিএসসিসির ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর।
এদিকে সংবাদ সম্মেলনে মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন দাবি করেন, তার সংস্থার ৯০ ভাগ রাস্তা চলাচল উপযোগী। ৯৫ ভাগ সড়ক আলোকিত। মেয়রের এমন দাবির প্রেক্ষিতে একটি জাতীয় দৈনিকের একজন সাংবাদিক মেয়রকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনি বলেছেন ৯০ ভাগ রাস্তা ভালো। কিন্তু, আমি বলছি, ৯০ ভাগ রাস্তা চলাচলের উপযোগী না বরং উল্টো। সড়ক চলাচলের অনুপযোগী। আপনি যেহেতু গুলশান থাকেন, সে কারণে এই চিত্র দেখেন না।’
এসময় মেয়র বলেন, ‘৯০ ভাগ সড়ক চলাচলের অনুপযোগী আপনি যদি লিখিত আকারে এটা দিতে পারেন, তাহলে আপনি যে পুরস্কার চাইবেন আমি দেবো। আপনাকে প্রমাণ করতে হবে ৯০ শতাংশ রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী। অথাৎ এগারোশ কিলোমিটার রাস্তার মধ্যে এক হাজার কিলোমিটার রাস্তা ঢাকা শহরে চলাচলে অনুপযোগী রয়েছে, এ কথা ঢাকা শহরের নাগরিকরা মানবে, এটা আমার মনে হয় না।’ পরে ওই সাংবাদিক বলেন, ‘ওয়ার্ড পর্যায়ে যে খারাপ অবস্থা, আমি তা বলছি।’ তখন মেয়র ওই সাংবাদিককে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনি কোথায় থাকেন? জবাবে তিনি (সাংবাদিক) বলেন, ‘আমি কলাবাগানে থাকি। আপনি ওই ওয়ার্ড ভিজিট করেন।’
মেয়র বলেন, ‘কোন রাস্তা খারাপ? আমি সিরিয়াসলি বলছি আমি ঠিক করে দেবো।’ পরে ওই সাংবাদিক বলেন, ‘সারা এলাকাতেই ভাঙা রাস্তা রয়েছে। আপনার কাউন্সিলর বলছেন তিনি কোনও বরাদ্দ পান না। ৫ বছর ধরে সেখানে কোনও উন্নয়ন কাজ হয়নি। বরাদ্দ চাইলেও আপনি দেন না।’ তখন মেয়র কাউন্সিলর থেকে বিষয়টি জানতে চান। জবাবে কাউন্সিলর বলেন, ‘আমার ওয়ার্ডের সব রাস্তারই বেহাল অবস্থা স্যার।’ মেয়র বলেন, ‘আপনি রাস্তাগুলোর কথা বলেন, আমি নোট করে নেবো।’ এসময় কাউন্সিলর কাঁঠালবাগান, কলাবাগান, দলফিন রাস্তাসহ বেশ কয়েকটি রাস্তার কথা বলেন।’
পরে মেয়র বিষয়টি সম্পর্কে ওই এলাকার নির্বাহী প্রকৌশলী (ডিএসসিসির অঞ্চল-১) মোহাম্মদ শফিউল্লাহর কাছে এর কারণ জানতে চান। নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, কাউন্সিলর যেসব রাস্তার কথা বলেছেন, সেগুলোর টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন। জবাবে মেয়র বলেন, ‘আপনি আগের প্রকল্পগুলোতে এই রাস্তাগুলোর চাহিদা দিলেন না কেন।’ তখন প্রকৌশলী বলেন, ‘তখন রাস্তাগুলো ভালো ছিল।’
মেয়র বলেন, ‘আমাদের মেঘা প্রকল্পসহ অনেকগুলো প্রকল্প রয়েছে। কেন রাস্তা খারাপ থাকবে?’ এসময় চুপ থাকেন নির্বাহী প্রকৌশলী। মেয়র তাকে উদ্দেশ করে উত্তেজিত হয়ে বলেন, ‘কথা বলেন। উত্তর আপনাকে দিতেই হবে।’ এসময় মেয়র তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদেরকে নির্দেশ দেন। কারণ সন্তোষজনক না হলে ওই প্রকৌশলীকে বরখাস্তের জন্য অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আসাদুজ্জামানকে নির্দেশও দেন তিনি।








