বাংলাদেশিদের জন্য ইউরোপের দুয়ার খুলতে চলছে দরকষাকষি

শেখ শাহরিয়ার জামান
২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১০:২১আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৬:১২

বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইউরোপ থেকে অনিয়মিত বাংলাদেশিদের ফেরত আনতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে চুক্তি সই করেছে বাংলাদেশ। দুই বছর আগে করা এই চুক্তির আওতায় এখন পর্যন্ত ১৫০ জনের মতো বাংলাদেশি ফেরত এসেছে।

এখন দক্ষ বাংলাদেশিদের ইউরোপে বৈধভাবে পাঠাতে এই চুক্তিকে ব্যবহার করতে চায় সরকার। এ বিষয়ে ব্রাসেলসসহ (ইইউ সদর দফতর) ইউরোপীয় অন্যান্য দেশের সঙ্গেও আলোচনা চলছে।

এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘এই চুক্তি করার জন্য ইউরোপের দেশগুলো আগ্রহী ছিল এবং আমরা সাড়া দিয়েছি। বৈধভাবে আরও দক্ষ বাংলাদেশিদের কীভাবে ইউরোপে পাঠানো যায়, তা নিয়ে এখন আমরা তাদের সঙ্গে দরকষাকষি করছি ।’

তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের বিভিন্ন বৈঠকে বলে থাকি, আমরা অবৈধ বাংলাদেশিদের ফেরত নেবো। কারণ, আমরা চুক্তিবদ্ধ। কিন্তু ওই দেশগুলো যেন আমাদের ইউরোপে বৈধভাবে মানুষ পাঠাতে সহায়তা করে।’

ইউরোপের সঙ্গে প্রত্যাবাসন চুক্তিতে ফেরত আনাসহ পুনর্বাসন এবং সমাজে আত্তীকরণের বিষয়টি রয়েছে এবং এখন বাংলাদেশিদের দক্ষতা বৃদ্ধির বিষয়টিও তুলে ধরা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

সরকারের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘ইউরোপে দক্ষ লোকের ঘাটতি আছে। কারণ, ওখানে জনসংখ্যা কম এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বাংলাদেশে দক্ষ জনগোষ্ঠী তৈরি করা সম্ভব।’

উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, প্রতিবছর ইউরোপের দেশগুলো ছাড়া অন্য দেশের ৮ হাজার লোককে সুইজারল্যান্ড ওয়ার্ক পারমিট দিয়ে থাকে এবং সম্প্রতি তাদের সঙ্গে একটি বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে লোক নেওয়ার কথা হয়। তখন তারা জানায়, এটি বাজার ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, ‘আমরা তখন তাদের বলেছি, তোমাদের বাজারে কাজ করতে পারার মতো করে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে দিলে বাংলাদেশিরা সেখানে প্রতিযোগিতা করতে পারবে।’

এ ধরনের প্রস্তাব ইইউসহ অন্যান্য দেশগুলোকে দেওয়া হচ্ছে, যাতে বৈধপথে অধিক সংখ্যক বাংলাদেশি বিদেশে যেতে পারেন বলে তিনি জানান।

এদিকে ইইউর সঙ্গে চুক্তির পর বাংলাদেশ এই জোটের বাইরের দেশ নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে একই রকম চুক্তি (স্ট্যান্ডার্ড অব প্রসিডিওর—এসওপি) করেছে।

ওই এসওপি অনুযায়ী একজন বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানোর আগে তার বিরুদ্ধে সব ধরনের প্রশাসনিক ও আইনগত বিধিবিধান শেষ করতে হবে।

এছাড়া তাকে ফেরত পাঠানোর আগে তার বাংলাদেশি নাগরিকত্ব ইউরোপেই নিশ্চিত করতে হবে এবং এ চুক্তির অধীনে প্রতিমাসে ১০০ জনের বেশি তারা ফেরত পাঠাতে পারবে না।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তা জানান, ২০১৪ সালে ইইউভুক্ত দেশগুলো বাংলাদেশিদের জন্য প্রায় ২৬ হাজার, ২০১৫ সালে প্রায় ২১ হাজার এবং ২০১৬ সালে প্রায় ২৫ হাজার রেসিডেন্ট পারমিট ইস্যু করলেও ২০১৭ সালে জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত মাত্র ৪ হাজার ১০০ পারমিট ইস্যু করেছে।

ইইউর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাজ্য বাদে ইইউর বাকি ২৭ দেশে প্রায় ২ লাখ বৈধ ভিসাধারী বাংলাদেশি অবস্থান করছেন। সেখানে তাদের থাকার ও কাজ করার অনুমতি আছে।

/এইচআই/এমওএফ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
বিশ্ব অর্থনীতির সামনে দুই কঠিন পথ, নেপথ্যে ইরান যুদ্ধ ও এআই সংকট
বিশ্ব অর্থনীতির সামনে দুই কঠিন পথ, নেপথ্যে ইরান যুদ্ধ ও এআই সংকট
এবার পল্লবীতে মিললো আরেক নারীর গলিত মরদেহ
এবার পল্লবীতে মিললো আরেক নারীর গলিত মরদেহ
নিখোঁজ ব্যবসায়ীর হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার
নিখোঁজ ব্যবসায়ীর হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার
ওপেনএআই’র নতুন বাজি ‘কোডেক্স’
ওপেনএআই’র নতুন বাজি ‘কোডেক্স’
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের