গত ২৬ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর কাউন্সিল অব ফরেন রিলেশন্সের (সিএফআর) সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্রের বিকাশের জন্য ভারত দেশটির মিলিটারি সরকার বা বিএনপির চেয়ে আওয়ামী লীগের প্রতি সব সময় সমর্থন দিয়েছে।
দিল্লির এই অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্ককে আরও ঝালিয়ে নেবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আগামী শনিবারের বৈঠকে।
শেখ হাসিনা ৪ দিনের ভারত সফরে বৃহস্পতিবার (৩ অক্টোবর) দিল্লি পৌঁছেছেন।
বাংলাদেশ-ভারতের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে রাজনৈতিক সম্পর্ক, পানি, সীমান্ত হত্যাসহ অন্যান্য সহযোগিতার ওপর জোর দেবে ঢাকা। এবারের আলোচনায় ঝুলে থাকা কয়েকটি বিষয় মীমাংসা হতে পারে বলে জানিয়েছে একাধিক সূত্র।
এরমধ্যে গঙ্গা ব্যারাজের জন্য যৌথ টেকনিক্যাল কমিটি গঠন, অভিন্ন নদীর পানিবণ্টনের রূপরেখা চুক্তির জন্য কমিটি গঠন, আগাম পানিপ্রবাহ সম্পর্কে তথ্য আদান প্রদান, সমুদ্রের মহীসোপান-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক সম্পর্ক
২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি প্রথমবারের মতো ক্ষমতায় আসার পর বিশ্লেষকদের অনেকে ধারণা করেছিলেন, দুই দেশের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক পর্যায়ে একে অপরকে জানা-বোঝার ক্ষেত্রে একটি ঘাটতি তৈরি হতে পারে। কারণ, আওয়ামী লীগের সঙ্গে ভারতের কংগ্রেসের মধুর সম্পর্ক আছে। কিন্তু এই ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছে এবং মোদির হাত ধরে দুই দেশের মধ্যে কয়েক দশকের ঝুলে থাকা স্থলসীমান্ত জটিলতার নিরসন হয়েছে। এরপর গত ৫ বছরে দুই নেতার মধ্যে অনেকবার দেখা হয়েছে এবং তাদের বোঝাপড়া অত্যন্ত চমৎকার।
এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কে বিশ্বাস ও আস্থার কোনও ঘাটতি নেই এবং দুই রাজনীতিবিদ একে অপরকে বোঝেন।’
দুই দেশের সম্পর্কে বিভিন্ন কণ্টকময় ইস্যু আছে এবং ভবিষ্যতে তৈরি হবে। কিন্তু আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের মনমানসিকতাও রাজনৈতিক নেতৃত্বের আছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
উদাহরণ হিসেবে এই কর্মকর্তা বলেন, সীমান্তে বাংলাদেশিদের হত্যা বন্ধ করার জন্য ভারতের রাজনীতিকরা একমত, কিন্তু নিচে বাস্তবায়ন পর্যায়ে এই অনুভূতি ঠিকভাবে প্রবাহিত হচ্ছে না।
তিনি বলেন, ‘সীমান্তে হত্যা বন্ধের বিষয়টি বাংলাদেশ জোরালোভাবে তুলবে, যাতে করে এই নির্মম ঘটনা আর না ঘটে।’
পানি সহযোগিতা
দুই দেশের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে। এরমধ্যে মাত্র গঙ্গা নদীর পানিবণ্টন চুক্তি করা সম্ভব হয়েছে। ২০১১ সালে তিস্তা চুক্তি করার কথা থাকলেও ভারতের বিরোধিতার কারণে তা সম্ভব হয়নি।
সরকারের আরেকজন কর্মকর্তা বলেন, ‘এবার পানিবণ্টনসহ যেসব বিষয়ের এখনও সমাধান হয়নি, সেসব বিষয়ে আলোচনা হবে এবং আশা করি কয়েকটির সমাধান হবে।’
তিনি বলেন, ‘গত আগস্টে সচিব পর্যায়ের বৈঠকে কয়েকটি সিদ্ধান্ত হয়েছিল এবং সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য এবারে দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।’
গঙ্গা ব্যারাজ বা ৭টি অভিন্ন নদীর পানিবণ্টনের রূপরেখা চুক্তি তৈরিতে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং এবারের বৈঠকে বাংলাদেশ আশা করে সেসব বিষয়ে একটি সুরাহা হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
মহীসোপান-সংক্রান্ত জটিলতা
দুই দেশের মহীসোপান নির্ধারণ-সংক্রান্ত বিষয়ে জটিলতা আছে। তবে দুই দেশই বিষয়টি মিটিয়ে ফেলতে চায়।
এ বিষয়ে এক কর্মকর্তা বলেন, ‘জয়শঙ্করের সফরের সময়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং আমরা আশা করি এ বিষয়ে দুই দেশের জন্যই ভালো হবে—এমন একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারবো।’








