রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে ভারতসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন।শনিবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় কক্সবাজারের ইনানীতে একটি তারকা হোটেলে ২ দিনব্যাপী বাংলাদেশ-ভারত নবম ফ্রেন্ডশিপ ডায়লগের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ আহ্বান জানান।
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে মিয়ানমারের উপর চাপ সৃষ্টি করার জন্য ভারতের সহযোগিতা কামনা করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গার এই বোঝা আমরা দীর্ঘদিন ধরে বহন করতে পারি না। এই সমস্যা আমাদের একার নয়, এর সমাধানে ভারতসহ সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।’
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ভারত নবম ফ্রেন্ডশিপ সংলাপ সীমান্তে নদীর পানি বণ্টন, তথ্য প্রযুক্তি, বিদ্যুৎ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সমুদ্র অর্থনীতিসহ পারস্পরিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে দু’দেশের মাঝে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারে। দু’দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্যে ভারসাম্য আনার ক্ষেত্রে কাজ করার সুযোগ রয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ভারত বন্ধুত্ব সংলাপ উভয় দেশের সম্পর্কে নব দিগন্তের সূচনা করেছে। বন্ধুত্ব সংলাপ এমন একটি প্ল্যাটফর্ম যেখানে মতবিনিময়ের মাধ্যমে উভয় দেশ পারস্পরিকভাবে লাভবান হতে পারে। দুই দেশের সম্পর্ক গভীর ও বিশ্বাসের।
তিনি বলেন, আঞ্চলিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও মোদী সরকার কার্যকর ভূমিকা রাখছে। দু’দেশের সম্পর্ক সুরক্ষিত করে পারস্পরিক বিশ্বাসযোগ্যতার মাধ্যমে সন্ত্রাস দমন করে শান্তি প্রতিষ্ঠায় উভয় দেশের ভূমিকা মাইলফলক হয়ে থাকবে।
‘কক্সবাজার ঘোষণা’র মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয়েছে এই ফ্রেন্ডশিপ ডায়লগ। ঘোষণাপত্রে বাংলাদেশ-ভারত দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার লক্ষ্যে নানা পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে। এছাড়াও তথ্য প্রযুক্তি, বিদ্যুৎ, জ্বলানি খাত, জলবায়ু পরিবর্তন জনিত সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত পরিকল্পনাসহ সম্ভাবনাময়ী আরও বিভিন্ন খাতের সার্বিক উন্নয়নে নানা পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে। এই সংলাপে ভারতের ২৬ জন এবং বাংলাদেশের ৫৪ জন প্রতিনিধি অংশ নিয়েছেন। খবর বাসস।








