বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ রাব্বীকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় চার্জশিট শিগগিরই দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেন, ‘নির্ভুল চার্জশিট না হলে সুষ্ঠু বিচার পাওয়া যায় না। তাই আবরার হত্যার ঘটনায় আমরা নির্ভুল চার্জশিট দিতে চাই। আমি নিজে প্রতিনিয়ত এর খোঁজখবর নিচ্ছি। শিগগিরই হত্যার চার্জশিট দেওয়া হবে।’
রবিবার (৩ নভেম্বর) বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএসআরএফ) সংলাপে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। বিএসআরএফ’র নিজস্ব কার্যালয়ে সংগঠনের সভাপতি তপন বিশ্বাসের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদের সঞ্চালনায় এই সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী ফরিদ উদ্দিন আহম্মেদকে পুকুরে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার ঘটনাটি আমরা জেনেছি। ইতোমধ্যে এই ঘটনায় ২২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আমরা ভিডিও ফুটেজ দেখে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবো।’
সাগর-রুনির ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ছিল আট বছর আগে। উচ্চ আদালতের নির্দেশনায় র্যাব এর তদন্ত করছে। তদন্ত রিপোর্ট দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে।’
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে ক্যাসিনো, জুয়া বৈধ নয়। সংবিধানে জুয়া ক্যাসিনো নিষিদ্ধ করা আছে। আমরা এর বিরুদ্ধে কাজ করছি। ক্যাসিনো ও জুয়া যারা সংগঠিত করছে, সরকার তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে। কারণ যারা ক্যাসিনো বা জুয়া খেলছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হলে কয়েক লাখ মানুষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।’
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি (বিসিবি) নাজমুল হাসান পাপনের যে ভিডিওটি ফেসবুকে প্রচার হচ্ছে তার বিষয়ে আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘প্রচার করা ভিডিওটি এই দেশের নয়। দেশের বাইরে অন্য কোথাও।’
সরকারের চলমান অভিযানের নাম শুদ্ধি অভিযান কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা শুদ্ধি অভিযান বলছি না। আমরা বলছি সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য এই অভিযান। এই অভিযানে দলীয় নেতাকর্মী, ব্যবসায়ী, যে কেউ আসতে পারে। যার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, তাকেই এর আওতায় আনা হবে।’
উপজেলা ও জেলা পর্যায়েও এই অভিযান চলবে কিনা, ‘আমরা কোনও সেক্টর বা এলাকার ওপর ভিত্তি করে অভিযান পরিচালনা করছি না। যেখানে অনিয়ম, দুর্নীতি হচ্ছে সেখানেই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। কোনও দুর্নীতিবাজ ও দখলবাজ যাতে কোনও ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি করতে না পারে, সেজন্যই এই অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে এই অভিযানে নির্দোষ কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হোক, তা আমরা চাই না।’
আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত ও মিয়ানমারের সীমান্ত ঘেঁষা। ওই সমস্ত দেশের সন্ত্রাসীরাও অনেক সময় বাংলাদেশে প্রবেশ করে। তাদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন নিতে গেলে তারা জঙ্গলে ঢুকে পড়ে। বিজিবিতে হেলিকপ্টার যুক্ত হলে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযানে ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে।’








