নাগরিকদের জীবন মান উন্নয়নে স্থপতিরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন বলে মনে করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘বিশ্বায়নের এই যুগে নগরের ওপর চাপ বাড়ছে। দ্রুত পরিবর্তনশীল নাগরিক জীবনে পরিবেশ, দুর্যোগ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় স্থপতিদের উদ্ভাবনী সক্ষমতাকে কাজে লাগাতে হবে।’ পরিবেশবান্ধব নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে স্থপতিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
রবিবার (৩ নভেম্বর) বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউটের আয়োজনে স্থপতিদের পাঁচ দিনব্যাপী মিলনমেলা ‘আর্ক এশিয়া ২০ ফোরাম’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সম্মেলনের উদ্বোধন করেন স্পিকার। এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ‘আর্কিটেকচার ইন এ চেঞ্জিং ল্যান্ডস্কেপ’।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম ও আর্ক এশিয়ার প্রেসিডেন্ট সিঙ্গাপুরের স্থপতি রিতা সো।
স্পিকার বলেন, ‘এই সরকারের অগ্রাধিকার কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ‘গ্রাম হবে শহর’। গ্রামে শহরের সুযোগ সুবিধা পৌঁছে দিতে সরকার কাজ করছে।’ তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে স্বল্পোন্নত দেশের কাতার থেকে বেরিয়ে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছে।’ বাংলাদেশ ২০২৪ সালে পুরোপুরি উন্নয়নশীল এবং ২০৪১ সালে উন্নত সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশের রয়েছে সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। ঢাকাসহ সারা দেশে অসংখ্য নান্দনিক স্থাপনা রয়েছে। রয়েছে লুই আই কাননির্মিত অনন্য স্থাপত্য শৈলীর জাতীয় সংসদ ভবন; যা পৃথিবীর সর্ববৃহৎ আইন প্রণয়ন বিভাগের স্থাপনা।’ এ সময় তিনি উপস্থিত অতিথিদের দেশের নান্দনিক স্থাপত্য শৈলী উপভোগ করার আহ্বান জানান।
আর্ক এশিয়া বা আর্কিটেক্ট রিজিওনাল কাউন্সিল এশিয়া—এশিয়ার ২১টি দেশের স্থপতিদের শীর্ষ সংগঠন। এ বছর সংগঠনটির সম্মেলন হচ্ছে বাংলাদেশে। ২১টি দেশের দুই শতাধিক প্রতিনিধি ছাড়াও প্রায় দেড় হাজার স্থপতি এ সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন।
সম্মেলনের মূল আয়োজন হয়েছে আগারগাঁওয়ের বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে। এর বাইরে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, হাতিরঝিল, জিন্দা পার্ক ও সোনারগাঁওয়ের ঐতিহাসিক পানাম নগরে সম্মেলনের বিভিন্ন আয়োজন থাকছে।
এ আয়োজন ঘিরে ৩ থেকে ৫ নভেম্বর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র প্রাঙ্গণে নির্মাণ মেলার পাশাপাশি থাকবে আর্ক এশিয়া ও আগা খান স্থাপত্য পুরস্কারপ্রাপ্ত ডিজাইনের প্রদর্শনী এবং সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি ও গ্রিন অ্যান্ড সাসটেইনেবল আর্কিটেকচার শীর্ষক প্রদর্শনী।
অন্যদের মধ্যে আয়োজনের উপদেষ্টা স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন, স্থপতি ইনস্টিটিউটের সহ-সভাপতি এহসান খান, সহ-সভাপতি স্থপতি মামনুন মুর্শেদ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক স্থপতি নওয়াজীশ মাহবুব এবং প্রধান স্থপতি কাজী গোলাম নাসির বক্তব্য রাখেন।








