প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদাকে দেওয়া আন অফিসিয়াল নোটের (ইউনোট) ব্যাখ্যা তৈরি করছেন নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর। সিইসির নির্দেশে তিনি এই ব্যাখ্যা প্রস্তুত করছেন। একইসঙ্গে তিনি এও দাবি করেছেন, সংসদ সচিবালয়ের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে কোনও অভিযোগ আসেনি। সোমবার (২৫ নভ্ম্বের) নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ইসি সচিবালয়ে ১২ থেকে ২০তম গ্রেডের ৩৩৯ জন কর্মচারীকে নিয়োগ দেওয়া হয়। ওই পদের বিপরীতে ৮৫ হাজার ৮৯৩ জন আবেদন করেন। এই নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনায় ইসির ব্যয় হয় ৪ কোটি ৮ লাখ টাকা। জালিয়াতির দায়ে সাক্ষাৎকারে ১৩৫ জনকে বহিষ্কার করা হয়। ইসির জনবল শাখা এ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। এসব নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন কমিশনাররা।
এ সংক্রান্ত ইউনোটের বিষয়ে ইসির সিনিয়র সচিব বলেন, ‘সিইসির কাছে তারা দিয়েছেন। সিইসি আমাকে এ বিষয়ে আইন-কানুন দেখে ও নিয়োগের বিষয়ে স্ট্যাটাস পেপারসহ সার্বিক তথ্য দিতে বলেছেন। সিইসি যদি প্রয়োজন মনে করেন, কমিশনারদের কাছে উপস্থাপন করে তা আলোচনা করবেন।’
নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে কোনও অভিযোগ পাননি দাবি করে সচিব বলেন, ‘আমার দায়িত্ব পালনকালে কেউ কোনও অভিযোগ করেননি। স্বচ্ছতার কোনও অভাব আছে বলেননি। গণমাধ্যম, দল, নেতা, জনগণ, কর্মকর্তা-কর্মচারী—কেউ অভিযোগ করেননি। ফল ঘোষণার ছয় দিন পরও কেউ অভিযোগ করেননি। এরপরও কাজে কোনও অনিয়ম হলে যথাযথ কর্তৃপক্ষ দেখবে।’
নিয়োগ-প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে চার নির্বাচন কমিশনারের সব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে সচিব বলেন, ‘কর্মচারী নিয়োগ-সংক্রান্ত বিষয়টি নির্বাচন কমিশনারদের জানানোর বিষয় নয়। শতভাগ আইনসম্মত ও স্বচ্ছভাবে কাজ হয়েছে।’
চার নির্বাচন কমিশনারকে না জানিয়ে কাজ করা আইনসম্মত হয়েছে কিনা—জানতে ইসি সচিব বলেন, ‘এটি হানড্রেড পার্সেন্ট আইনসম্মত। সংবিধান, আইন, বিধি ও নিয়ম-কানুন ফলো করে করা হয়েছে। এ নিয়োগে আইনের কোনও ব্যত্যয় হয়নি। এটি প্রথম নিয়োগ নয়; প্রতিবারই একইভাবে নিয়োগ হয়েছে। কখনও কমিশনে যায়নি বিষয়টি। বিষয়টি তো কমিশনারদের কাছে যাওয়ারই কথা নয়; তাহলে বাইপাস হলো কীভাবে?’
আইন-বিধি তুলে ধরে ইসি সচিব বলেন, ‘কমিশনাররা যেমন বলেছেন, কমিশনকে বাইপাস করে দেওয়া হয়েছে এটা। তাহলে উত্তর দিতে পারলাম, এটি কমিশনে যাওয়ার বিষয় নয়। আমরা আইনে দেখিয়ে দিলাম, এটি কমিশনের কাছে যায় না।’ তিনি আরও বলেন, ‘ইসির সার্বিক নিয়ন্ত্রণ সিইসির কাছে ন্যস্ত থাকবে এবং সচিব ইসি সচিবালয়ের প্রশাসনিক দায়িত্ব দেখবেন।সিইসি যদি প্রয়োজন মনে করেন কোনও কিছু জানানোর দরকার হলে তিনিই কমিশনকে জানাবেন। সচিবের জানানোর কিছু নেই।’
এক প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, ‘কমিশনে কোনও দ্বন্দ্ব আছে বলে আমার জানা নেই। আমি সচিব হিসেবে সেটা ফিল করি না। এটি হয়তো নির্বাচন কমিশনাররা কেন বলেছেন, তারাই ভালো বলতে পারবেন। আমি তো ডিটেইল বলে দিলাম।’
স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগের বিষয়ে সচিব বলেন, ‘এই অভিযোগ আগে আসেনি।’
শুধু নির্বাচন সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয়ে পুরো নির্বাচন কমিশনকে জানানোর বাধ্যবাধকতার কথা জানিয়ে সচিব বলেন, ‘সব বিষয়ে জানানোর বাধ্যবাধকতা নেই। শুধু নির্বাচন সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয়ে জানাতে হবে। প্রশাসনিক হেড সচিব, নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ সিইসি। নির্বাচন সংক্রান্ত যে বিষয়, এর পুরো বিষয় কমিশন থেকে অনুমোদন নিতে হবে। পুরো ইসিও সচিবালয়েরও নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ। কিন্তু সেটা কীভাবে? সরাসরি নয়, তারা যদি বলেন, সচিব এ তথ্যটা দেন, তাহলে আমি দিতে বাধ্য। এ নিয়োগ কীভাবে হয়েছে, সব কাগজপত্র দেখান, দেখাতে হবে।’
চার নির্বাচন কমিশনারের অভিযোগ ভিত্তিহীন কিনা জানতে চাইলে সচিব বলেন, ‘তারা যেটা ভালো মনে করেছেন, তা বলেছেন, নিয়োগ নিয়ে এটি তো প্রথম প্র্যাকটিস না।’ প্রতিটি নিয়োগ এভাবেই হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।








