মুক্তিযোদ্ধাদের কেন রাষ্ট্রীয় সম্মান গ্রহণে অনীহা

আদিত্য রিমন
১৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৩:২৩আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ০০:০০




রাষ্ট্রীয় মর্যাদা না নিতে মুক্তিযোদ্ধা সলিম উদ্দিনের লেখা চিঠি একাত্তরে জীবন বাজি রেখে দেশ স্বাধীন করেছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা। বাংলাদেশ পেয়েছিল লাল-সবুজের একটি পতাকা। কিন্তু জাতির সেই সূর্যসন্তানদের অনেকই এখন রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন হতে অনীহা প্রকাশ করছেন। সম্প্রতি যথাযথ সম্মান না পেয়ে বেশ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা মৃত্যু পরবর্তী রাষ্ট্রীয় সম্মান না নিতে লিখিত আবেদন করেছেন। জানিয়েছেন বেঁচে থাকা অবস্থায় যে সম্মান তারা পাচ্ছেন না, মৃত্যু পরবর্তী সময়ে সেই সম্মান আর নিতে চান না তারা।

মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০০৫ সালে মৃত মুক্তিযোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয় সম্মান দেওয়ার নীতিমালা হয়। তবে জীবদ্দশায় অনেক মুক্তিযোদ্ধা যথাযথ সম্মান পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। সরকারি বিভিন্ন সুবিধা নিতেও তাদের পোহাতে হয় নানা ঝামেলা। অনেক সময় প্রাপ্য সুবিধা নিতে তাদের ঘুষ দিতে বাধ্য করা হয়। এছাড়া তাদের সন্তানদের চাকরি ও পরিবারের সদস্যদের প্রাপ্য বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার ক্ষেত্রেও সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। অনেক মুক্তিযোদ্ধা এখন পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় সুবিধার বাইরেই রয়ে গেছেন। এসব কারণে ক্ষোভ ও অভিমানে মুক্তিযোদ্ধারা মৃত্যু পরবর্তী রাষ্ট্রীয় সম্মান গ্রহণে অনীহা জানাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

অনৈতিক লেনদেনে রাজি না হওয়ায় প্রাপ্য সুবিধা পাননি জানিয়ে ফেনীর গেজেটেড মুক্তিযোদ্ধা ইদ্রিস আলী অভিযোগ করেন, আমার ছোট ছেলে পল্লী বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডে তৃতীয় শ্রেণির চাকরির জন্য আবেদন করে। নিয়োগের ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা কোটার প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা ছিল। তবে ঘুষ দেইনি বলে আমার ছেলের চাকরি হয়নি।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যে দেশ স্বাধীন করেছিলাম, সেখানে যদি একজন মুক্তিযোদ্ধার ছেলেকে ঘুষ দিয়ে চাকরি নিতে হয়, এরচেয়ে দুঃখের কিছু হতে পারে না। যেখানে মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের সন্তান ও সদস্যরা প্রাপ্য সুবিধা পাবে না, কষ্ট করবে, সেখানে মৃত্যুর পর সম্মাননার কোনও দাম থাকে না। সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে, কোনও মুক্তিযোদ্ধা পরিবার যেন চাকরি ও বিভিন্ন সুযোগ গ্রহণের ক্ষেত্রে সমস্যার সম্মুখীন না হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মুক্তিযোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয় সম্মান দেওয়ার নীতিমালার পর এখন পর্যন্ত কতজন মুক্তিযোদ্ধার মৃতদেহ রাষ্ট্রীয় সম্মান ছাড়া দাফন হয়েছে এবং কতজন মুক্তিযোদ্ধা রাষ্ট্রীয় সম্মান গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তার কোনও হিসাব নেই জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) বা মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে।

তবে সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত নভেম্বর ও চলতি ডিসেম্বর মাসে দুই জন মুক্তিযোদ্ধার মরদেহ রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই দাফন হয়েছে। এই দুই মুক্তিযোদ্ধা মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় সম্মান গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান।

সর্বশেষ গত ২ ডিসেম্বর নরসিংদীর মনোহরদীতে মুক্তিযোদ্ধা মো. আবুল হাশেমকে (৭৫) রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই দাফন করা হয়।

এর আগে, গত ২৪ অক্টোবর রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই দাফন করা হয় দিনাজপুর উলিয়াপুর ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেনকে। অন্যায়ভাবে ছেলে নুর ইসলামকে চাকরিচ্যুত ও বাস্তুচ্যুত করার ক্ষোভে এই মুক্তিযোদ্ধা মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই তাকে দাফন করার কথা বলে যান পরিবারকে।

গত ১ নভেম্বর পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা সলিম উদ্দিন ঘুষ দিতে না পারায় ছেলের চাকরি হয়নি। এই কারণে মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় সম্মান নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের কাছে চিঠি দেন তিনি।

এছাড়া গত ২৫ নভেম্বর মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় সম্মান নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে চিঠি দেন পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা আবুল খায়ের ভুঁইয়া। ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ভোগ করা ও প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের অবমূল্যায়ন করার অভিযোগ এনে তিনি জেলা প্রশাসককে চিঠিও দেন।

এদিকে সমাজ ও রাষ্ট্রের কোন পরিস্থিতিতে মুক্তিযোদ্ধারা অভিমান করে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা বর্জন করেন তার প্রেক্ষাপট সংশ্লিষ্টদের যথাযথভাবে অনুধাবনের জন্য বলেছেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মো. আমিন উদ্দিন মোল্লা।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে দেশে এখন একটা অরাজকতা চলছে। গতকাল মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী যে রাজাকারের তালিকা প্রকাশ করেছেন সেখানে অনেক মুক্তিযোদ্ধার নাম আছে বলেও শোনা যাচ্ছে। একটা দায়িত্বশীল জায়গা থেকে যদি এমন হয়, সেটি মেনে নেওয়া যায় না।

তিনি আরও বলেন, যেসব মুক্তিযোদ্ধা রাষ্ট্রীয় সম্মাননা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন, তার কারণ তারা উল্লেখ করে গেছেন। শুরু থেকে এসব ঘটনার জন্য দায়ী সরকারি লোকদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করলে পরবর্তীতে এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতো না।

মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মুক্তিযোদ্ধাদের সার্বিক কল্যাণে প্রয়োজনীয় কার্যক্রমে গ্রহণের দায়িত্ব জামুকার। কিন্তু তারাও সেই দায়িত্ব পালন করছে না। আর যথাসময়ে মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষোভ-অভিমানের বিষয় মন্ত্রণালয়ে না পৌঁছানোয় সমস্যা নিরসন হচ্ছে না বলে দাবি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীর।

মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন হতে চাননি মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেন জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) কার্যক্রমের মধ্যে উল্লেখ আছে, মুক্তিযোদ্ধা, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণসহ সর্বোতভাবে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা।

তবে সংগঠনটির কর্মকর্তারা বলছেন, মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা তৈরি এবং ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে তাদের প্রধান কাজ। এর বাইরে সারাদেশে মুক্তিযোদ্ধাদের নামে বিভিন্ন সংগঠনের নিবন্ধন দেওয়াও তাদের কাজের মধ্যে পড়ে। এছাড়া অন্য কোনও কাজ জামুকা করে না।

জামুকার উন্নয়ন পরিচালক মো সলিমুল্লাহ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের গেজেটে অন্তর্ভুক্তির সুপারিশ, গেজেট থেকে বাতিলের সুপারিশ এবং মুক্তিযোদ্ধা সমিতির নিবন্ধন দেওয়া হচ্ছে আমাদের কাজ। এর বাইরে আমরা কোনও কাজ করি না।

তবে জামুকার মহাপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন এসব বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি। কাকরাইলস্থ জামুকার অফিসে এই কর্মকর্তার সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলে তিনি এ প্রতিবেদক বলেন, এসব বিষয়ে আমি কোনও মন্তব্য করতে চাই না।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জামুকার শীর্ষ এক কর্মকর্তা জানান, মুক্তিযোদ্ধাদের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেখভাল করার দায়িত্ব তাদের। তবে লোকবল সংকটের কারণে তা হয়ে উঠছে না।

এ বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ.ক.ম. মোজাম্মেল হক বলেন, জামুকার বিষয়ে ডিসেম্বরে একটি নীতিমালা হবে। নীতিমালা হয়ে গেলে তারা নিয়োগ দিতে পারবে। আশা করা যায়, এরপর তাদের লোকবল সংকট কেটে যাবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, রাষ্ট্রীয় সম্মান ছাড়াই মুক্তিযোদ্ধার দাফন হয়েছে, এমন ৩টি কেস আমাদের বিবেচনায় এসেছে। এই ৩টি ঘটনায় জড়িতদের শোকজ করা হয়েছে। একইসঙ্গে তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে। একটি ঘটনায় দুই জনকে বদলিও করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কতজন মুক্তিযোদ্ধা রাষ্ট্রীয় সম্মান গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তার কোনও হিসাব মন্ত্রণালয়ে নেই।

আ.ক.ম. মোজাম্মেল হক বলেন, অন্যায্য প্রক্রিয়ায় একজন মুক্তিযোদ্ধার ছেলেকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এমন অভিযোগে একজন মুক্তিযোদ্ধ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা নেননি। বিষয়টি আমরা আগে জানলে একটা ব্যবস্থা নিতে পারতাম। পত্রিকার মাধ্যমে জানার পর তো মৃত মুক্তিযোদ্ধার সেই ক্ষোভ বা কষ্ট লাঘব করতে পারি না।

মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে যেন এসব ঘটনা আর না ঘটে, সে জন্য জেলা প্রশাসকদের সর্তকবার্তা দেওয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের কোনও অভিযোগ থাকলে তা দ্রুত সমাধানের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তবে এ বিষয়ে কাজ করার জন্য আলাদা কোনও টিম মন্ত্রাণলয়ের নেই বলেও জানান মন্ত্রী।

যে প্রক্রিয়ায় মুক্তিযোদ্ধাদের জানানো হয় শেষ বিদায়
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৫ সালের আগস্ট মাসে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মৃত্যুতে সরকারিভাবে যথাযথ সম্মান প্রদর্শন নীতিমালা’ শিরোনামে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়। তখন থেকেই মুক্তিযোদ্ধাদের মৃত্যুর পরে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দিয়ে দাফন করা হয়।
এ প্রক্রিয়ায় মৃত মুক্তিযোদ্ধার কফিন জাতীয় পতাকায় মোড়ানো হয়। তবে কফিন কবরে নামানো/সৎকারের সময় জাতীয় পতাকা খুলে ফেলা হয়। সরকারের পক্ষে প্রতিনিধিত্বকারী কর্মকর্তা কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে অনুমোদিত সংখ্যক পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা সশস্ত্র সালাম জানান এবং বিউগলে করুণ সুর বাজানো হয়। তবে সশস্ত্র বাহিনীতে কর্মরত মুক্তিযোদ্ধাদের মৃত্যুতে লাশ দাফন/ সৎকার হয় তাদের নিজস্ব নীতি অনুযায়ী।

আরও পড়ুন:
‘শেষ ইচ্ছা’য় রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই মুক্তিযোদ্ধাকে দাফন!

রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে দাফন




বাঁশের চাটাইয়ে মুক্তিযোদ্ধাকে গার্ড অব অনার!

আরেক অভিমানী মুক্তিযোদ্ধার চিঠি, ‘শেষযাত্রায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদা চাই না’

মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় সম্মান চান না মুক্তিযোদ্ধা আবুল খায়ের

/টিটি/এমওএফ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম