জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে মুজিববর্ষ পালন করা হচ্ছে। বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মদিন ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে শুরু হয়ে টানা একবছর মুজিববর্ষের কর্মসূচি চলবে। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দফতর এ উপলক্ষে হাতে নিয়েছে নানা কর্মসূচি। অন্যদের মতো জাতীয় সংসদও নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে মুজিববর্ষ পালন করবে। ডাকা হবে সংসদের একটি বিশেষ অধিবেশন। এতে বঙ্গবন্ধুর কর্মময় জীবন, তাঁর সংগ্রাম ও অর্জনের বিষয়টি আলোকপাত করা হবে। বঙ্গবন্ধুকে জানেন এমন বিদেশি অতিথিকে ওই বিশেষ অধিবেশনে আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে। বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিচারণ করতে ওই বিদেশি অতিথিকে সংসদে ভাষণ দেওয়ার সুযোগও দেওয়া হতে পারে। সংসদ সচিবালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে গত ২৩ এপ্রিল মুজিববর্ষের কর্মসূচির বিষয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকেই বিশেষ অধিবেশন ডাকার সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়া, প্রকাশনা, আন্তর্জাতিক সেমিনারসহ নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে মুজিববর্ষ পালনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ লক্ষ্যে সংসদ সদস্য ও সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে বিশেষ অধিবেশন কমিটিসহ মোট ১২টি উপকমিটি করা হয়েছে। কমিটিগুলো নিজ নিজ অবস্থান থেকে পরিকল্পনা গ্রহণ করছে।
বিশেষ অধিবেশন ডাকার বিষয়ে যুগ্ম সচিব ছুমিয়া খানমকে আহ্বায়ক ও উপসচিব (আইন শাখা-১) নাজমুল হককে সদস্য সচিব করে সাব কমিটি গঠন করা হয়েছে।
জানা গেছে, সংসদ সচিবালয় থেকে আগামী ২২ মার্চ সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকার বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই অধিবেশন হবে দুই দিনের। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে যোগাযোগ ছিল এমন কোনও বিদেশি নেতাকে ওই অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ানোর লক্ষ্যে আমন্ত্রণ জানানোর প্রক্রিয়া চলছে। এজন্য ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জীকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে বলে সংসদ সবিচালয় সূত্রে জানা গেছে। এছাড়া, ওই অধিবেশন দেখার জন্য বিভিন্ন দেশের নেতাদেরও আমন্ত্রণ জানানো হবে।
দুই দিনব্যাপী ওই বিশেষ অধিবেশনে বাংলাদেশের সংসদ সদস্যরাও বঙ্গবন্ধুর কর্মময় জীবনের ওপর আলোকপাত করবেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশেষ অধিবেশন আহ্বানে গঠিত উপকমিটির সদস্য সচিব নাজমুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিদেশি অতিথিদের আমন্ত্রণসহ বিশেষ অধিবেশনের সার্বিক প্রস্তুতি চলছে। তবে এখনও চূড়ান্ত কিছু হয়নি।’
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সম্প্রতি (সোমবার, ১১ ডিসেম্বর) বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে বিশেষ অধিবেশনসহ মুজিববর্ষে সংসদের বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলাপ করেন।
বিশেষ অধিবেশন সম্পর্কে স্পিকার বলেন, ‘বিশেষ অধিবেশনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতীয় সংসদের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হবে। তাঁর কর্মময় জীবন, তার সংগ্রাম, তিনি যে সাড়ে তিন বছর দেশের নেতৃত্ব দেওয়ার সময় পেয়েছিলেন, সেই সময় তার গৃহীত নানা পদক্ষেপ নিয়ে আলোকপাত করা হবে। তার সময়ে সংসদে যেসব আইন প্রণয়নসহ বড় বড় সিদ্ধান্ত এসেছিল, তা তুলে ধরা হবে। দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার যে ভিত জাতির পিতা করেছিলেন, সেসব কিছুই আলোচনা হবে। সব মিলিয়ে তাঁর পুরো কর্মময় জীবন ও অর্জন সবই আলোচনা হবে ওই দুই দিনে।’
একপ্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ জানানোর পরিকল্পনা রয়েছে। কয়েকদিন পরে জানা যাবে চূড়ান্ত করা গেলো কিনা।
বিশেষ এই অধিবেশনটি কবে হবে জানতে চাইলে স্পিকার বলেন, ‘আসন্ন অধিবেশন শেষ করে ভালো মতো গ্যাপ রেখেই বিশেষ অধিবেশন করা হবে। বিশেষ অধিবেশনের খসড়া সময় ২২ মার্চ ঠিক করেছি। তবে এখনও চূড়ান্ত হয়নি। সবার সঙ্গে সমন্বয় করে ঠিক করতে হবে। এতে কিছুটা এদিক-সেদিক হতে পারে। আর অধিবেশন তো প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শ করে রাষ্ট্রপতি আহ্বান করেন। তিনি যেদিন আহ্বান করবেন সেদিনই হবে।’
এদিকে, জাতীয়ভাবে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ মুজিববর্ষের কর্মসূচির উদ্বোধনের একদিন বিরতি দিয়ে ১৯ মার্চ সংসদ সচিবালয় তার কর্মসূচি শুরু করবে। ধারাবাহিকভাবে সারাবছরই কর্মসূচি চলবে।
সার্বিক সমন্বয় কমিটি ও বিশেষ অধিবেশন কমিটি ছাড়াও সেমিনার বিষয়ক উপকমিটি, মুজিবমঞ্চ উপকমিটি, ওয়েবসাইট উপকমিটি, আলোকচিত্র ও প্রামাণ্য দলিল প্রদর্শনী উপকমিটি, ইয়ুথ পার্লামেন্টবিষয়ক উপকমিটি, শিশুবিষয়ক উপকমিটি, সংসদ টিভিবিষয়ক উপকমিটি, প্রকাশনা উপকমিটি, প্রকাশনা ও রিভিউ কমিটি ও আন্তর্জাতিক উপকমিটি গঠন করা হয়েছে।
মুজিববর্ষ উপলক্ষে জাতীয় সংসদ বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে তিনটি আন্তর্জাতিক সেমিনারের আয়োজন করবে। সংসদে বঙ্গবন্ধুর দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ বা ভাষণের অংশ নিয়ে বই প্রকাশ করা হবে। তার গুরুত্বপূর্ণ ভাষণের অডিওগুলোও সিডি আকারে প্রকাশ করা হবে। এজন্য দুটি পৃথক কমিটিও কাজ করছে।
সূত্র জানায়, মুজিববর্ষের অনুষ্ঠানের জন্য সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বঙ্গবন্ধু স্মরণে বিশেষ মঞ্চ তৈরি করা হবে। যেখানে বছরব্যপী অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা থাকবে। থাকবে ছবি ও ভিডিও প্রদর্শনীর ব্যবস্থা। এতে পাকিস্তানের গণপরিষদ, স্বাধীন দেশে নতুন সংবিধান প্রণয়ন ও জাতীয় সংসদে বঙ্গবন্ধুর কাজগুলো ফোকাস করা হবে। একটি রাষ্ট্রের জন্ম, সংবিধান প্রণয়ন ও সংসদীয় গণতন্ত্রের জন্য বঙ্গবন্ধু যা কিছু করেছেন, তা তুলে ধরা হবে।
এছাড়া, মুজিববর্ষ উপলক্ষে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন আইপিইউ-ভুক্ত দেশগুলোর স্পিকারের কাছে বিশেষ উপহারের প্যাকেট পাঠাবেন। ওই প্যাকেটে বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনীর ইংরেজি ভার্সন, বিভিন্ন প্রকাশনা ও মেমোরিয়াল কয়েন ইত্যাদি থাকবে।
এসব বিষয়ে স্পিকার বলেন, ‘মুজিববর্ষ উদযাপনের প্রস্তুতি শুরু করেছি। জাতীয় পর্যায়ে উদযাপনের পাশাপাশি জাতীয় সংসদ থেকে এটা আমরা উদযাপন করবো। সেখানে পৃথক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। তা বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘১৭ মার্চ ২০২০ থেকে বর্ষ উদযাপন শুরু হবে। ওইদিন জাতীয় পর্যায়ে বড় কর্মসূচি থাকবে। এজন্য আমরা ওইদিন আলাদা কোনও কর্মসূচি রাখছি না। আমরা ১৯ মার্চ জাতীয় শিশু-কিশোর দিব্স পালনের মধ্যদিয়ে মুজিববর্ষের কর্মসূচি শুরু করবো। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য কর্মসূচি পালন করবো।’








