বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে বুধবার (১ জানুয়ারি) দেশ জুড়ে ‘বই উৎসব-২০২০’ পালিত হবে। ২০২০ শিক্ষাবর্ষের প্রাক-প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত সব শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে বিনামূল্যের নতুন বই। এই আয়োজনকে ঘিরে বছরের শেষদিন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সাজানো হয়েছে।
রেওয়াজ অনুযায়ী এদিন সকালে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথমে শিশুদের হাতে বই তুলে দিয়ে উৎসবের উদ্বোধন করেন। তবে মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) জেএসসি-জেডিসি ও পঞ্চম শ্রেণির সমাপনীর পরীক্ষার ফল আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেওয়ার পর শেখ হাসিনা শিশুদের হাতে নতুন বছরের বই তুলে দেন।
এ কারণে এবার বছরের প্রথম দিন সকাল ১০টায় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি সাভারের অধরচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে বই উৎসবের উদ্বোধন করবেন এবং শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেবেন।
একই সময় কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠে বই উৎসবের উদ্বোধন করবেন।
এছাড়া রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বই উৎসব পালনে বিদ্যালয়গুলো নানা উদ্যোগ নিয়েছে। রাজধানীর ভিাকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আলপনা দিয়ে মাঠ সাজানো হয়েছে। টানানো হচ্ছে রঙিন বেলুন।
রাজধানীর কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠানের পাশাপাশি দেশের মাধ্যমিক স্তরের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ উৎসব পালিত হবে। বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উৎসবে উপস্থিত থাকবেন।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে সরকারিভাবে বিনামূল্যে বিতরণের সব বই সংশ্লিষ্ট স্কুলে পৌঁছে গেছে। ১ জানুয়ারি ‘পাঠ্যপুস্তক উৎসব’-এর মাধ্যমে সারাদেশে প্রায় চার কোটি ৩০ লাখ শিক্ষার্থীর মধ্যে নতুন ৩৫ কোটি ৩১ লাখ ৪৪ হাজার ৫৫৪ কপি পাঠ্যবই বিতরণ করা হবে।
এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১০ কোটি ৫৪ লাখ দুই হাজার ৩৭৫ কপি এবং মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ২৪ কোটি ৭৭ লাখ ৪২ হাজার ১৭৯ কপি বই বিনামূল্যে বিতরণ করা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এবার বিনামূল্যের পাঠ্যবই ছাপাতে সরকারের মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় ১১শ’ কোটি টাকা। এরমধ্যে প্রাথমিক স্তরের বই ছাপাতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা এবং মাধ্যমিক স্তরসহ অন্য বই ছাপাতে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৭৫০ কোটি টাকা। মুদ্রণ ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণে গত বছর বই ছাপতে সরকারের প্রায় ১০০ কোটি টাকা বেশি ব্যয় হয়েছিল। এবার সিন্ডিকেট কিছুটা ভেঙে দেওয়ায় সরকারের প্রায় শত কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে।
এনসিটিবি চেয়ারম্যান নারায়ণ চন্দ্র সাহা বলেন, প্রতিযোগিতামূলক দরের কারণে এবার ১০০ কোটি টাকা খরচ কম হয়েছে। বইয়ের মান ভালো হয়েছে। অসৎ মুদ্রাকররা নিম্নমানের বই ছাপার সুযোগ পায়নি। এবার ভালোভাবেই বই ছাপানো ও তৃণমূল পর্যায়ে বই পৌঁছে দেওয়ার কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, ২০১০ সাল থেকে সরকার নতুন বছরের শুরুতেই সারাদেশে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করে আসছে। ২০১৯ সাল পর্যন্ত মোট ২৯৬ কোটি সাত লাখ ৮৯ হাজার ১৭২টি বই বিতরণ করা হয়েছে।








