স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, ‘দিন শেষে সবার নজর থাকে পুলিশ কী করেছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কী করলো সেদিকে। আমরাও অনেক রকমভাবে তৈরি হচ্ছি। বঙ্গবন্ধু পুলিশকে জনগণের পুলিশ হতে আহ্বান জানিয়েছিলেন। আমরা ধীরে ধীরে সেই দিকেই যাচ্ছি। সেবার মান যাতে বৃদ্ধি পায়, সেজন্য পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট গড়ে তোলা হয়েছে।’ মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে ‘পুলিশ সপ্তাহ-২০২০’ এর তৃতীয় দিনে উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আপনাদের (পুলিশের) দাবি-দাওয়া নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করেছি। তিনি রিভিউ কমিটি যুগোপযোগী করার নির্দেশনা দিয়েছেন। এই নিয়ে আমরা সেমিনার করবো। মামলার জট নিরসনের বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করবো। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণের যে কমিটি করা হয়েছিল, সেটা নিয়েও কথা বলবো। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরকে বলবো, পুলিশের আইজিপি, ডিআইজি এবং এসপিসহ বিজিবি’র চিফকেও যেন কমিটিতে নিয়ে আসা হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে যদি অধিদফতর একাই কাজ করতে পারতো তবে জননিরাপত্তা বিভাগের ক্রেডিট হতো না। পুলিশ, র্যাব, বিজিবি মাদকদ্রব্য অধিদফতর সবাই তো কাজ করছে। জাতীয় পর্যায়ে এই কমিটি রিভিউ করার বিষয়ে আলোচনা করবো।
পুলিশের চিকিৎসাসেবা বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আর্মির মেডিক্যাল কোরের মতো পুলিশের জন্যও একটি মেডিক্যাল কোর গঠনের নির্দেশনা দিয়েছেন, সেটাও হবে। আমরা ভীষণভাবে চিকিৎসক সংকটে রয়েছি। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পর্যায়ে গাড়ির দাবি প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা গাড়ির কথা বলেছেন। পুলিশের গাড়ির স্বল্পতা ছিল। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অনেক গাড়ি দিয়েছেন, এবং পর্যায়ক্রমে আপনারও পাবেন। প্রধানমন্ত্রী সবসময় বলে থাকেন যে দাবি করতে হবে না, আমরা দিচ্ছি। পর্যায়ক্রমে আপনারাও গাড়ি পাবেন।’
পুলিশের যে ভূমিকা তা অস্বীকার করার কোনও উপায় নেই উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দীন বলেন, ‘পুলিশের সুবিধা বাড়ানো মানে গণতন্ত্রের সুবিধা। একজন মানুষ বিপদে পড়লে প্রথমে পুলিশের কাছে যায়। আমরা রাজনৈতিক সরকারের অধীনে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে কাজ করি। একজন সংসদ সদস্য জবাবদিহিতা করেন সংসদে। আর আমরা জবাবদিহিতা করি জনগণের কাছে।’








