রাজধানীর ড্রেনের দূষিত পানি বুড়িগঙ্গাতে প্রবেশের আগে পরিশোধনের জন্য ট্রিটমেন্ট প্লান্ট বসানো হয়েছে। এই পরিশোধনে পানি পুরোপুরি বিশুদ্ধ না হলেও মাছসহ জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণীর বসবাসের উপযোগী হবে। নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) উদ্যোগে সদরঘাট এলাকায় প্রাথমিকভাবে দুটি ট্রিটমেন্ট প্লান্ট বসানো হয়েছে। এটি সফল হলে প্লান্টের সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে। বুধবার (১৮ মার্চ) রাজধানীর সদরঘাটের টার্মিনাল এলাকায় প্রথম ট্রিটমেন্ট প্লান্টটি উদ্বোধন করেন নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। এ সময় তিনি বলেন, মুজিব শতবর্ষের সূচনালগ্নে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে ড্রেনের মুখে দূষিত পানি পরিশোধনের জন্য ট্রিটমেন্ট প্লান্ট বসানো হয়েছে। এটি পাইলট প্রকল্প হিসাবে গ্রহণ করা হয়েছে। এই ট্রিটমেন্ট প্লান্টের ফলাফল আশাব্যাঞ্জক হলে স্থায়ীভাবে গ্রহণ করা হবে।
তিনি দাবি করেন, ট্রিটমেন্ট করার পরে নদীতে যে পানি যাচ্ছে তা প্রায় ওয়াসার পানির মতো স্বচ্ছ হবে। এটি পান করার উপযোগী না হলেও তা দূষিত থাকবে না।
খালিদ মাহমুদ বলেন, বুডিগঙ্গাসহ ঢাকার চারপাশে যে নদীগুলো আছে তা বিভিন্ন কারণে দূষিত হয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৯ সালে বুড়িগঙ্গার পানির দূষণরোধে পদক্ষেপ শুরু করলেও বিএনপি-জামাত জোট ক্ষমতায় আসার পর তার ধারাবাহিকতা ছিল না। ফলে নদীর পানি আরও দূষিত হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নদী রক্ষায় ‘টাস্কফোর্স’ গঠন করে দিয়েছেন। সে অনুযায়ী দেশের গুরুত্বপূর্ণ নদী রক্ষায় কাজ করা হচ্ছে। পাশাপাশি বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু ও শীতলক্ষ্যা নদীর দখল ও দূষণরোধে বিআইডব্লিউটিএ কাজ করছে। প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। তীররক্ষা, ওয়াকওয়ে (পায়ে চলার পথ), ইকো-পার্ক এবং জেটি নির্মাণ করা হচ্ছে।
এসময় করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে প্রয়োজন ছাড়া নৌপথে যাতায়াত সীমিত করার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব অনল চন্দ্র দাস, বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেক প্রমুখ।








