হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের মধ্যে যাদের হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে তাদের হাতে সিল দিয়ে চিহ্নিত করছে ইমিগ্রেশন পুলিশ। সেই সিলে ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টিনে কত তারিখ পর্যন্ত থাকতে হবে তাও উল্লেখ করা হচ্ছে। অন্যদিকে যেসব যাত্রীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে তাদের বিমানবন্দর থেকেই সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে। শুক্রবার (২০ মার্চ) থেকে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
শাহজালাল বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, বিদেশ থেকে আসা সব যাত্রীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। যাদের মধ্যে করোনাভাইরাসের লক্ষণ নেই তাদেরও বাধ্যতামূলক ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। এজন্য ইমিগ্রেশন শেষে সব যাত্রীর হাতে সিল দিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
ইংরেজিতে লেখা এই সিলে প্রথমেই লেখা রয়েছে ‘প্রাউড টু প্রোটেক্ট বাংলাদেশ’। তার নিচে লেখা ‘হোম কোয়ারেন্টিন আনটিল’, এরপর দেওয়া হচ্ছে কত তারিখ পর্যন্ত হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে সেই তারিখ।
অন্যদিকে বিদেশ ফেরতদের মধ্যে যাদের করোনার লক্ষণ দেখা যাবে তাদের বিমানবন্দর থেকেই সরাসরি সেনা তত্ত্বাবধানে কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হচ্ছে। শুক্রবার থেকে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানান বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এএইচএম তৌহিদ-উল আহসান। তিনি বলেন, ‘বিদেশ থেকে আগত যাত্রীদের স্ক্রিনিং করে বিমানবন্দরের স্বাস্থ্য বিভাগ। তারপর তাদের চিহ্নিত যাদের কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে, সেই নির্বাচিত ব্যক্তিদের বিমানবন্দরে প্রয়োজনীয় ইমিগ্রেশন কার্যক্রম শেষে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হবে।’
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) আন্তবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) জানায়, সরকারের পক্ষ থেকে সেনাবাহিনীকে দুটি কোয়ারেন্টিন সেন্টার পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আশকোনার হজক্যাম্প এবং উত্তরার ১৮ নম্বরের দিয়াবাড়ি সংলগ্ন রাজউক অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে এই দুটি কোয়ারেন্টিন সেন্টার পরিচালিত হবে। এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিদেশ থেকে আগত যাত্রীদের প্রয়োজনীয় স্ক্রিনিং করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্বাচন করা ব্যক্তিদের বিমানবন্দরে প্রয়োজনীয় ইমিগ্রেশন কার্যক্রম শেষে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হবে। হস্তান্তরের পর সেনাবাহিনীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে এসব যাত্রীকে বিমানবন্দর থেকে কোয়ারেন্টিন সেন্টারে স্থানান্তর, ডিজিটাল ডাটা এন্ট্রি কার্যক্রম সম্পন্ন, কোয়ারেন্টিন সেন্টারে থাকার সময়ে খাদ্য-বাসস্থান-চিকিৎসা এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক সেবা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে সেনাবাহিনীকে সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয়, সংস্থা, অধিদফতর ও বাহিনী প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে।
আশকোনা হজক্যাম্প ও উত্তরার দিয়াবাড়ী কোয়ারেন্টিন সেন্টারে দুটি নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। সবাইকে নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের টেলিফোন নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে আইএসপিআর। নম্বরগুলো হচ্ছে: আশকোনা হজক্যাম্প ০১৭৬৯-০১৩৪২০, ০১৭৬৯-০১৩৩৫০। উত্তরা দিয়াবাড়ী ক্যাম্প ০১৭৬৯-০১৩০৯০, ০১৭৬৯-০১৩০৬২।








