সরকার দলীয় সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শরীফের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে জাতীয় সংসদ। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সংসদে স্পিকার ডক্টর শিরীন শারমিন চৌধুরীর আনা এ সংক্রান্ত একটি শোক প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। এছাড়া বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণে বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় সবদেশে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনায় সংসদ শোক প্রকাশ করেছে। এর আগে শোক প্রস্তাবের ওপর প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনাসহ সরকারি ও বিরোধীদলের কয়েকজন সদস্য আলোচনা করেন।
শোক প্রস্তাব গ্রহণ করার পর স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী অধিবেশনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন। এটি ছিল স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত অধিবেশন। করোনাভাইরাসজনিত কারণে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার এ অধিবেশন সোয়া এক ঘণ্টার মতো চলে। এর আগে বিকেল পাঁচটায় স্পিকারের সভাপতিত্বে সংসদের সপ্তম অধিবেশন শুরু হয়।
শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শামসুর রহমান শরীফের রাজনৈতিক জীবনের কথা স্মরণ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে তার ভূমিকা ছিল। আমরা মানুষের কল্যাণ চিন্তা করে রাজনীতি করি। সেই চিন্তাটা তার মধ্যেও সব সময় দেখেছি। সব সময় তিনি মানুষের কল্যাণে রাজনীতি করছেন।
তিনি বলেন, জাতির পিতাকে হত্যার পর ১৯৮১ সালে যখন দেশে আসি তখন যাদেরকে আমি পাশে পেয়েছি তাদের মধ্যে শামসুর রহমান ছিল একজন। তাকে আমি সব সময় পাশে পেয়েছি। তাকে দেখেছি যে কোনও দুর্যোগের সময় দলের পাশে দাঁড়াতে। দেশের প্রতি তার একটা অগাধ ভালোবাসা ছিল, সংগঠনের জন্য তিনি একটি শক্ত পিলার ছিলেন। তার মৃত্যুতে আমাদের দলের ক্ষতি হয়েছে দেশের ক্ষতি হয়েছে আমি তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মসিউর রহমান রাঙ্গা
শামসুর রহমান শরীফের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে রাঙ্গা বলেন, ওয়ান-ইলেভেনের আশ্রয়হীন সময় তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
শোক প্রস্তাবের ওপর অন্যদের মধ্যে শাহজাহান খান, মতিয়া চৌধুরী ও মোহাম্মদ নাসিম অংশ নেন।
এদিকে কোনও ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারীদের জন্য সংসদে আনা শোক প্রস্তাবে বলা হয়, সমগ্র বিশ্ব আজ করোনা ভাইরাস কোভিড-১৯ এর সংক্রমণে এক কঠিন সময় অতিক্রম করছে। বাংলাদেশেও করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঘটেছে। চীনের উহান রাজ্যে শুরু হয়ে করোনাভাইরাস একের পর এক ছড়িয়ে পড়েছে ইতালি, স্পেন, ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, ভারতসহ বিশ্বের জন্য। লকডাউনে অচল হয়ে পড়েছে বিশ্ব। প্রাণঘাতী করোনায় বিশ্বে এ পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেছে লক্ষাধিক মানুষ। ইতোমধ্যে বিশ্বব্যাপী ২০ লক্ষাধিক মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। বাংলাদেশে ২ হাজার ১৪৪ জন মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে এবং এরইমধ্যে ৮৪ জন মানুষ মৃত্যুবরণ করেছে।
সংসদে করোনায় আক্রান্ত হয়ে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মঈন উদ্দিন ও দুর্নীতি দমন কমিশনের পরিচালক জালাল সাইফুর রহমানের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়।
সংসদে এছাড়া সাবেক সংসদ সদস্য, মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট রহমত আলী, সৈয়দ শহীদুল হক জামাল মো. ওয়াজি উদ্দিন খান, সেকেন্দার আলী, এম এ জব্বার, রহিম উদ্দিন ভরসা, সিরাজুল ইসলাম, হুছনে আরা ওয়াহিদ এবং সংসদ সচিবালয়ের সহকারী নিরাপত্তা পরিদর্শক মো. আব্দুল হাকিমের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়। বাংলাদেশি বৌদ্ধদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় গুরু ড. শ্রীমৎ ভদন্ত ধর্মসেন মহাথেরো, শেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক, মাগুরা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি তানজেল হোসেন খান, নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের নেতা মোফাজ্জল হোসেন চুন্নু, ভাষাসংগ্রামী মুহম্মদ আবু সিদ্দীক, ভাসাসৈনিক নজির হোসেন, কমলাপুর ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহারের অধ্যক্ষ একুশে পদকপ্রাপ্ত শুদ্ধানন্দ মহাথের, মুক্তিযোদ্ধা ও নারী নেত্রী রাখি দাস পুরকায়স্থ, আইনমন্ত্রীর মাতা মুক্তিযোদ্ধা জাহানারা হক, সংসদ সদস্য আরমা দত্তের মাতা প্রতীতি দেবীর মৃত্যুতে সংসদে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়।এছাড়া, দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থানে দুর্ঘটনায় হতাহতদের স্মরণে শোকপ্রকাশ, সকল বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানানো হয়।
এর আগে শোকপ্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নেন সরকারি দলের বেগম মতিয়া চৌধুরী, মোহাম্মদ নাসিম,শাহজান খান ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মসিউর রহমান রাঙা।
শোকপ্রস্তাবের ওপর আলোচনা শেষে মৃত্যুবরণকারীদের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করে মোনাজাত করা হয়। এর আগে তাদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
এরপর সর্বসম্মতিক্রমে শোকপ্রস্তাব গ্রহণ করে একাদশ সংসদের সপ্তম অধিবেশনের সমাপ্তি সংক্রান্ত রাষ্ট্রপতির আদেশ পাঠ করে স্পিকার অধিবেশন সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
আগে আজ বিকেল ৫টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে একাদশ জাতীয় সংসদের সপ্তম অধিবেশন শুরু হয়।








