করোনা কিংবা বজ্র থেকে বাঁচতে ঘরই ভরসা

সঞ্চিতা সীতু
২০ এপ্রিল ২০২০, ১৩:৩৫আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০২০, ১৪:৫৪

করোনা কিংবা বজ্র থেকেই বাঁচতে হলে ঘরে থাকাই ভরসা

করোনাভাইরাসে প্রতিদিন মৃত্যু সংবাদের সঙ্গে যোগ হয়েছে দেশে বজ্রাঘাতে মানুষের মৃত্যুর খবর। শুরু হয়েছে বজ্রপাতের মৌসুম। এদিকে বিশ্বব্যাপী লকডাউনের ফলে পরিবেশে জীবন ফিরেছে। মনে করা হচ্ছিল চলতি বছর এজন্য বজ্রপাতের পরিমাণ কমে আসতে পারে। কিন্তু এই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করে গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) বজ্রাঘাতে সুনামগঞ্জে চারজনের মৃত্যুর খবর এসেছে। আবহাওয়া অধিদফতর বলছে, এর আগে ২১ এবং ২২ মার্চ দেশে বজ্রপাতের ঘটনা ঘটেছে। আর বজ্রাঘাতে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেতে আকাশে মেঘ ডাকলে ঘরে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন আবহাওয়াবিদরা। বলা হচ্ছে, করোনা ও বজ্র থেকে বাঁচতে হলে ঘরে থাকাই বড় ভরসা।

আবহাওয়াবিদ আরিফ হোসেন বলেন, শীতকালে সাধারণত উত্তর দিক থেকে বাতাস প্রবাহিত হয়। আর শীতের পর তা দক্ষিণ দিক থেকে বইতে শুরু করে। এই বাতাসে প্রচুর পরিমাণে জ্বলীয় বাষ্প থাকে। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গসহ আশেপাশের এলাকাগুলোতে তাপমাত্রা বেড়ে গিয়ে তাপীয় লঘুচাপ সৃষ্টি হয়। এই লঘুচাপগুলো পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে, সেই সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়। এর ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল বিশেষ করে মধ্যাঞ্চলে রংপুর, রাজশাহী, সিলেট, ময়মনসিংহ এসব এলাকায় বজ্রমেঘ তৈরি হয়। সেখান থেকেই বজ্রপাতের সৃষ্টি হয়। এ সময় আকাশ অনেক কালো মেঘে ঢেকে যায়। আর সেই মেঘের উচ্চতা হয় অনেক বেশি।

কীভাবে এই বজ্রপাতের বিষয়ে সতর্ক থাকা যায় জানতে চাইলে তিনি বলেন, আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাসগুলো নিয়মিত দেখা। আমরা চারবার নদীবন্দরের বিষয়ে পূর্বাভাস দিয়ে থাকি। ১০৯০ এই নম্বরে ফোন দিয়ে এই পূর্বাভাস জানা যাবে। আবহাওয়ার দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসেও বলা হয়, চলতি মাসে বেশ কয়েকদিন বজ্রসহ বৃষ্টি,  কালবৈশাখী ঝড় এবং শিলাবৃষ্টি হতে পারে।

বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের সঙ্গে অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য ক্রমাগতভাবে পরিবেশ দূষণকেই বজ্রপাতের প্রধান কারণ মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বব্যাপী লকডাউন চলছে। শিল্পের চাকা যেমন ঘুরছে না, ছুটছে না উন্নয়নের গাড়িও। এতে করে এবার অন্তত প্রাকৃতিক এই দুর্যোগ কিছুটা হলেও কম হবে বলে ধারণা করা হয়েছিল। কিন্তু সেই হিসাব উল্টে দিয়েছে সুনামগঞ্জে এক দিনে চার মৃত্যুর খবর। শনিবার মাত্র দুই ঘণ্টার কালবৈশাখীতে বজ্রপাতের ঘটনায় চারজন মারা গেছে হাওর জেলা সুনামগঞ্জে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হাওরে সাধারণত এখন ধান কাটার কাজ চলে। এইসময় মানুষ ধান কাটতে গিয়ে বেশিরভাগ বজ্রাঘাতে মারা যায়। মার্চের শেষ ভাগ থেকে জুনের প্রথম ভাগ পর্যন্ত বজ্রাঘাতের আঘাতে প্রতি বছর ২০০ মানুষের মৃত্যু হয়। গত ৯ বছর ধরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় যে হিসাব দিয়েছে তার গড় হিসাব করলে এই পরিমাণ মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।

জলবায়ু বিশেষজ্ঞ আইনুন নিশাত বলেন, বজ্রপাতের সঙ্গে বৈশ্বিক উষ্ণতার এক যোগ আছে। পৃথিবীর উষ্ণতা বেড়ে যাওয়ায় আকাশে মেঘের পরিমাণ বেড়েছে। এতে বজ্রপাতও বেড়েছে। যেহেতু বৈশ্বিক উষ্ণতা কমেনি ফলে বজ্রপাতও কমার সম্ভাবনা নেই। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে অনেক এলাকায় শুরু হয়ে গেছে। বিশেষ করে সুনামগঞ্জে। এরইমধ্যে বেশ কজন মারাও গিয়েছেন। করোনায় সব থেমে যাওয়ায় পরিবেশ দূষণ কমেছে। কিন্তু গ্রিন হাউজ গ্যাস তো কমেনি। সেটি তো আগেই জমা হয়ে আছে। এখন বলা যায়, পরিবেশ দূষণ কম হবার কারণে নতুন করে হয়তো কম জমছে। কিন্তু গ্রিন হাউজের প্রভাবে যে উষ্ণায়ন তা তো অব্যাহত আছেই।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বছরে এত মানুষের মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেও খুব বেশি কিছু করা হয়নি বজ্রপাত নিরোধে। বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা করে কীভাবে মানুষকে বাঁচানো যায় তার বিকল্প দাঁড় করানো সম্ভব হয়নি। সরকার বজ্রপাত কমাতে তাল গাছ লাগানোর প্রকল্প নিয়েছে। কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে কীভাবে বজ্রনিরোধ এলাকা গড়ে তোলা সম্ভব—সে বিষয়ে এখনও তেমন কোনও কাজ হয়নি দেশে। এ বিষয়ে যথেষ্ট গবেষণা হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

/এমআর/এমএমজে/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম