দেশে করোনাভাইরাস আক্রান্তের (কোভিড-১৯) ৪৬ দশমিক ৮৭ শতাংশই রাজধানীতে। দেশে মোট আক্রান্ত চার হাজার ১৮৬ জনের মধ্যে ঢাকা মহানগরীতে রয়েছেন এক হাজার ৬৮৩ জন। বিভাগভিত্তিক তথ্যেও এগিয়ে রয়েছে ঢাকা। এ বিভাগে মোট করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা তিন হাজার ৬৫ জন। শতকরা হিসাবে এর হার দাঁড়িয়েছে ৮৫ দশমিক ৩৬ শতাংশে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) আইইডিসিআর প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এ তথ্য পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার রাতে আইইডিসিআরের ওয়েবসাইটে তথ্য প্রকাশ করা হয়। এর আগে দুপুরে আইইডিসিআরের নিয়মিত বুলেটিনে এর সামারি তুলে ধরা হয়।
আইইডিসিআর প্রতিদিন সকাল আটটায় আগের চব্বিশ ঘণ্টার করোনাভাইরাস সংক্রান্ত তথ্যের প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। দুপুরে বুলেটিনে তার সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হয়। পরে তা সংস্থার ওয়েবসাইটে বিস্তারিত প্রতিবেদন আকারে প্রকাশ করে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ঢাকা মহানগরী বাদে ঢাকা বিভাগের মোট করোনা রোগীর সংখ্যা এক হাজার ৩৮২ জন (৩৮.৪৯%)। ঢাকা বিভাগের ১৩টি জেলার মধ্যে কমবেশি সবক’টিতেই করোনাভাইরাসের সংক্রমণ হয়েছে।
আক্রান্তের সংখ্যার দিক থেকে ঢাকা বিভাগের পরে রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ। এ বিভাগে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১৪৯ জন (৪.১৫%)। এ বিভাগের ১১টি জেলার মধ্যে ৯টিতে করোনা সংক্রমণ ঘটেছে। রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় এখন পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়নি।
করোনা শনাক্তে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ময়মনসিংহ জেলা। এ জেলায় মোট করোনা রোগীর সংখ্যা ১৩৯ জন (৩.৮৭%)। বিভাগের চারটি জেলার সবক’টিতেই করোনাভাইরাস সংক্রমণ হয়েছে।
বরিশাল বিভাগের পাঁচটি জেলার মধ্যে চারটিতে করোনা সংক্রমণ হয়েছে। এ বিভাগের দ্বীপ জেলা ভোলা এখনও করোনা আক্রান্ত হয়নি। এ পর্যন্ত বিভাগে মোট ৭৪ জন (২.০৩%) করোনা শনাক্ত হয়েছে।
রংপুর বিভাগের ৮টি জেলার কোনোটিই করোনার ছোবল থেকে রেহাই পায়নি। এ বিভাগে প্রথম করোনা শনাক্ত হয় গাইবান্ধা জেলায়। রংপুর বিভাগে এ পর্যন্ত ৬৩ জন (১.৭৫%)শনাক্ত হয়েছেন।
খুলনা বিভাগে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মোট ৩৭ জন (১.০৩%) করোনা পজিটিভ। নতুন করে এ বিভাগের মাগুরা, কুষ্টিয়া ও মেহেরপুরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। বিভাগের ১০টি জেলার মধ্যে এখন পর্যন্ত ঝিনাইদহ ও সাতক্ষীরায় করোনা আঘাত হানেনি।
চারটি জেলা নিয়ে গঠিত সিলেট বিভাগের সব জেলায় করোনা পজিটিভ রোগী পাওয়া গেছে। সর্বশেষ তথ্য মতে, এ জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৩৩ জন (০.৯২%)।
এখন পর্যন্ত করোনা সংক্রমণের দিক থেকে ভালো অবস্থানে আছে রাজশাহী বিভাগ। এ বিভাগের আটটি জেলার সবক’টিতে করোনা পজিটিভ পাওয়া গেলেও সংখ্যার দিক থেকে তুলনামূলক কম। এ জেলায় মোট করোনা পজিটিভ সংখ্যা ৩১ জন। জাতীয়ভাবে মোট আক্রান্তে এর হার ০.৮৬%।
এখন পর্যন্ত দেশে মোট আক্রান্ত চার হাজার ১৮৬ জন করোনা রোগীর মধ্যে মারা গেছে ১২৭ জন। এ সময় সুস্থ হয়েছেন ১০৮ জন।
জেলা ভিত্তিক তথ্য
দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে পর্যন্ত ৫৯ টিতে করোনা সংক্রমণ হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা জেলায় রয়েছে এক হাজার ৭৩৬ জন। ঢাকা জেলার মোট করোনারোগীর মধ্যে ঢাকা মহানগরীতে এক হাজার ৭৮৩ এবং মহানগরীর বাইরে চারটি উপজেলায় ৬৩ জন। অন্য জেলাগুলোর মধ্যে নারায়ণগঞ্জে ৫৩২ জন, গাজীপুরে ২৯২ জন, কিশোরগঞ্জে ১৭৯ জন, নরসিংদী ১৪১ জন, ময়মনসিংহ ৬৮ জন, মুন্সিগঞ্জ ৬৩, চট্টগ্রাম ৪৫ জন, গোপালগঞ্জ ৪০ জন, বরিশাল ৩৪ জন, জামালপুর ৩০ জন, মাদারীপুর ২৮ জন, কুমিল্লা ২৭ জন, লক্ষ্মীপুর ২৬ জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫ জন, নেত্রকোনা ২২ জন, বরগুনা ২০ জন, হবিগঞ্জ ১৮ জন, টাঙ্গাইল ১৬ জন, গাইবান্ধার ১৪ জন, দিনাজপুর ১৩ জন, ১১ জন করে শরীয়তপুর ও রাজবাড়ীতে। ১০ জন করে বগুড়া, পটুয়াখালী, নীলফামারী, রংপুর ও চাঁদপুরে। ৯ জন মানিকগঞ্জে, ৮ জন করে রাজশাহী, চুয়াডাঙ্গা ও ঠাকুরগাঁওয়ে। ৭ জন করে নড়াইল, যশোর ফরিদপুরে। ৬ জন করে খুলনা ও সিলেটে। ৫ জন করে ঝালকাঠি, পিরোজপুর, সুনামগঞ্জ ও কক্সবাজারে। ৪ জন করে জয়পুরহাট, কুষ্টিয়া, কুড়িগ্রাম, মৌলভীবাজার, নোয়াখালী ও বান্দরবানে। ৩ জন করে পাবনা ও ফেনীতে। ২ জন করে সিরাজগঞ্জ, মেহেরপুর, মাগুরা, পঞ্চগড় ও লালমনিরহাটে এবং একজন করে নাটোর, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও বাগেরহাটে।








