বাংলাদেশ থেকে ওষুধ আমদানি করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

শেখ শাহরিয়ার জামান
২১ মে ২০২০, ০২:২১আপডেট : ২১ মে ২০২০, ০২:২৪

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন পৃথিবীর অন্যতম বড় ওষুধের বাজার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ থেকে ওষুধ আমদানির আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন।  বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী  বুধবার এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় একথা জানান।
এর আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রী জানিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ থেকে পিপিইসহ আরও ২৫টি স্বাস্থ্য সামগ্রী আমদানি করতে আগ্রহী এবং এরমধ্যে ১৪টি পণ্যের বিষয়ে দুদেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে আলোচনা চলছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের কাছে সম্প্রতি ১০০ এর বেশি ওষুধের তালিকা দিয়েছি যেগুলো এফডিএর অনুমতি সাপেক্ষে বাংলাদেশের ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলো যেকোনও মুহূর্তে রফতানি করতে সক্ষম।’ এগুলো কী ধরনের ওষুধ জানতে চাইলে তিনি বলেন,  ‘সাধারণ রোগের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত ওষুধ যেগুলো আমাদের কোম্পানিগুলো প্রচুর পরিমাণে উৎপাদন করতে সক্ষম।’

এই তালিকা আগে দেওয়া হয়নি কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ওষুধ অত্যন্ত স্পর্শকাতর পণ্য এবং যুক্তরাষ্ট্র নির্দিষ্ট সংখ্যক কোম্পানির কাছ থেকে এটি আমদানি করে থাকে। করোনাভাইরাসের কারণে তারা বুঝতে পেরেছে এই কোম্পানির সংখ্যা বাড়াতে হবে এবং এই সুযোগটা আমরা নিয়েছি।’

করোনাভাইরাসের প্রভাব কয়েক মাস বা বছরের মধ্যে চলে যাবে না এবং স্বাস্থ্যক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তনের সম্ভাবনার প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র তাদের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসাবে এখন বিভিন্ন দেশ থেকে ওষুধ নিতে আগ্রহী, বাংলাদেশ এই সুযোগ নিতে চায়।’

বাংলাদেশ অত্যন্ত সীমিত আকারে যুক্তরাষ্ট্রে কয়েকটি ওষুধ রফতানি করে জানিয়ে তিনি বলেন,  ‘এখানকার ওষুধ বাজার অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিত কিন্তু কিছু সংখ্যক ওষুধের রফতানির অনুমতি পেলেও অন্য অনেক লাভ আছে।’ এফডিএ সার্টিফাইড কোম্পানি ও ওষুধ পৃথিবীর যেকোনও দেশে রফতানি করা যায় এবং এর ফলে সুনাম তৈরি হয় জানিয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন,  ‘যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের কারণে অন্য দেশেও ওইসব ওষুধের রফতানি বাড়ার সম্ভাবনা আছে।’ এফডিএ’র অনুমোদন পেতে কতদিন লাগবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটি নির্ভর করে কি ধরনের ওষুধ এবং যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের আগ্রহের ওপর।’

জীবন রক্ষাকারী ওষুধের ক্ষেত্রে অনুমতি পেতে বছরের ওপর লেগে যায় এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে কম সময় লাগে জানিয়ে তিনি বলেন,  ‘এটি ঠিক যে আমাদের কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে কিন্তু কোভিড-১৯ এর জন্য আমাদের এই সুবিধাটি তৈরি হয়েছে।’

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশের জন্য ফ্যাক্টরি লাইসেন্সিং-এর পাশাপাশি ওষুধও অনুমোদিত হতে হয় অর্থাৎ কোম্পানিটি রফতানি করার উপযুক্ত এই অনুমোদন পাওয়ার পরে প্রতিটি ওষুধের ক্ষেত্রে আলাদাভাবে অনুমোদন নিতে হয় বলে তিনি জানান।  বাংলাদেশের বেক্সিমকো, স্কয়ার, ইনসেপ্টাসহ পাচঁটি কোম্পানি ইতিমধ্যে এফডিএ অনুমোদন পেয়েছে এবং বেক্সিমকো কয়েকটি ওষুধ রফতানি করছে বলেও তিনি জানান।

 

/এসএসজেড/এমআর/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক