২০২০-২১ অর্থবছরের পেশকৃত বাজেটে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ কার্যক্রমের জন্য ৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। যা বর্তমান ২০১৯-২০ অর্থবছরে ছিল ৯ হাজার ৮৭২ কোটি টাকা।
বিগত কয়েক বছরে আমরা প্রথাগত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা থেকে বেরিয়ে এসে দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ঝুঁকি ও সহনশীলতা নিশ্চিত করার জন্য কাজ করার কথা উল্লেখ করে বক্তৃতায় বলা হয়, সাম্প্রতিক কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবের প্রেক্ষিতে দুর্যোগকালীন সময়ে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম সম্প্রসারণে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে গিয়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সংকুচিত হয়ে আসার কথা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বক্তৃতায় বলেন, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অনেকেই কর্মহীন পড়ায় আমরা সারাদেশে বিনামূল্যে খাদ্য সহায়তা কার্যক্রম শুরু করেছি। পাশাপাশি দেশব্যাপী ওএমএস-এর মাধ্যমে অতিরিক্ত চাল বিক্রয় শুরু করেছি এবং এপ্রিল মাসের শুরুতেই ওএমএস চালের বিক্রয়মূল্য কেজিপ্রতি ৩০ টাকা হতে কমিয়ে ১০ টাকায় নির্ধারণ করেছি। একইসঙ্গে আমরা চাল ছাড়াও অন্যান্য খাদ্যপণ্য, বিশেষ করে শিশুখাদ্য ক্রয় করে দরিদ্রদের মাঝে তা বিনামূল্যে বিতরণ করে আসছি। করোনা প্রাদুর্ভাবের শুরুতে সরকারি খাদ্য গুদামগুলোতে পর্যাপ্ত চাল-গম মজুদ থাকায় দুর্যোগকালীন সময়ে দেশের মানুষ অনাহারে থাকেনি, যা আমাদের একটি বড় সাফল্য। এ সাফল্যকে ধরে রাখতে আগামী ২০২০-২১ অর্থবছরে আমরা স্বাভাবিকের তুলনায় আরও দুই লাখ মেট্রিক টন ধান ও চাল অতিরিক্ত ক্রয় করবো।
শিক্ষক ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশ্লেষক গওহার নঈম ওয়ারা এই বরাদ্দ কম বিষয়ে হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, সামনে আরও সংকটময় পরিস্থিতি আসছে। আক্রান্তদের সাশ্রয়ীভাবে কতোটা দিতে পারি সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি। আমরা বিভিন্ন সময় দুর্নীতির খবর পাই। সেসব বিবেচনায় মানুষের কাছে কতটা সহায়তা পৌঁছাবে সেটাও ভেবে দেখার আছে।








