মানুষকে বাঁচানোর প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়নে সবার সহযোগিতা চেয়েছেন অর্থমন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, ‘টাকা কোথা থেকে আসবে সে চিন্তা আমরা করিনি। মানুষকে বাঁচাতে হবে, কমর্সংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। গ্রামের অর্থনীতিসহ সামষ্টিক অর্থনীতিতে প্রাণ সঞ্চার করতে হবে। অর্থ যাই লাগবে, জোগাড় করা হবে।’
শুক্রবার (১২ জুন) ২০২০-২১ অর্থবছরের মোট পাঁচ লাখ ৬৮ হাজার টাকার প্রস্তাবিত বাজেট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।
তিনি বলেন, এ যাত্রায় দেশের সব মানুষের সহযোগিতা চাই। সাংবাদিক, অর্থনীতিবিদ, সবাইকে বলতে চাই, সবার দায়িত্ব আছে। আল্লাহ বলেছেন, আমি একজন নারী ও একজন পুরুষ থেকে মানুষ তৈরি করেছি। ছোট গোত্রে বিভক্ত করেছি যাতে একে অন্যকে চিনতে পারো। দেশের মানুষের দায়িত্ব অন্যদের রক্ষা করা। যে যার জায়গা থেকে সাহায্যের হাত সম্প্রসারণ করবেন এটি চাই। সবার পাশে দাঁড়িয়ে করোনা মোকাবিলা করতে হবে। অন্ধকার মোকাবিলা করে আসুন আলোর পথের যাত্রী হই।
নতুন অর্থবছরে ৮ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ‘অতীতের অর্জনের ধারাবাহিকতায়’ এই লক্ষ্য ঠিক করেছি।
বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ এবং এই বিষয়টি সবার-ই মনে রাখা উচিত বলেও মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এখন যারা বাংলাদেশকে গরিব দেশ বলেন, তারা পক্ষান্তরে নিজে নিজেকেই ছোট করছেন।’
সংবাদ সম্মেলনে একজন সাংবাদিক বাংলাদেশকে গরিব দেশ হিসেবে আখ্যা দিয়ে প্রশ্ন শুরু করলে অর্থমন্ত্রী ওই সাংবাদিককে থামিয়ে দিয়ে বলেন, বাংলাদেশকে ‘গরিব দেশ’ বলায় আপনি নিজেকেই ছোট করলেন। আপনি সাংবাদিক। আপনি কীভাবে বাংলাদেশকে গরিব দেশ বলেন? আমরা তো গরিব দেশ নই। আমরা উন্নয়নশীল দেশ। ভারত ও চীন কিন্তু আমাদের কাতারে রয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, পৃথিবীতে আরও অনেক দেশই বাংলাদেশের চেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে। আমেরিকার অবস্থাতো আমাদের চেয়েও খারাপ। ক্যালিফোর্নিয়ায় কত মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে। তাহলে আমেরিকা কি গরিব দেশ? আমেরিকা তো গরিব দেশ নয়।
অর্থমন্ত্রী বলেন, এবারের বাজেট হলো ‘মানুষকে রক্ষার বাজেট’। টাকা কোথা থেকে আসবে, প্রধানমন্ত্রী সেই চিন্তা করেননি। মানুষকে বাঁচাতে হবে। তাই আয়ের অপেক্ষা না করে খরচের হিসাব করেছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।








