প্রস্তাবিত বাজেট কোভিড-১৯ মোকাবিলায় যেমন হওয়া দরকার ছিল তেমন হয়নি। বাজেট অন্যান্যবারের মতো গতানুগতিক ধারাতেই প্রণয়ন করা হয়েছে, যেটি বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় যথেষ্ট নয় বলে জানিয়েছে সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম)। শনিবার (১৩ জুন) ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেট সম্পর্কে এক পর্যালোচনায় এ মন্তব্য করে সানেম। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হানের নেতৃত্বে সানেম প্যানেলে আরও ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও সানেমের গবেষণা পরিচালক ড. সায়মা হক বিদিশা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক ও সানেমের গবেষণা ফেলো মাহতাব উদ্দিন ও সানেমের রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট ইশরাত শারমীন।
ভিডিও কনফারেন্সিং অ্যাপ জুমের মাধ্যমে এ বাজেট পর্যালোচনায় প্রায় ৭০ জন অর্থনীতিবিদ, গবেষক, শিক্ষক, উন্নয়ন কর্মী, সাংবাদিক ও শিক্ষার্থী যুক্ত ছিলেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পর্যালোচনায় ড. সেলিম রায়হান বলেন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে যে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে সেটি প্রশংসনীয়, তবে যথেষ্ট নয়। অতীতের অভিজ্ঞতা বিবেচনায়, বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হলেও সেটির বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় রয়েছে।
তিনি স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দকৃত বাজেটের সঠিক ব্যবহারের জন্য একটি উচ্চ পর্যায়ের বিশেষজ্ঞ কমিটিও গঠনের প্রস্তাব দেন। স্বাস্থ্য খাতের অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও সক্ষমতার অভাব নিয়ে বাজেটে আলোচনা করা দরকার ছিল। কোভিড-১৯ এর ভ্যাকসিন পাওয়া এবং জনগণের কাছে সেটি সহজলভ্য করে তোলার জন্যও বাজেটে বরাদ্দ থাকার দরকার ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ড. রায়হান বলেন, নতুন করে দরিদ্র হয়েছেন যারা তাদের জন্য বাজেটে বিশেষ কিছু নেই এবং এ ক্ষেত্রে আরও বিস্তৃতভাবে নগদ ও খাদ্য সহায়তা, বেকার ভাতা, ইত্যাদি পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতো। কালো টাকা সাদা করার সুযোগ অতীতে কোনও সুফল বয়ে আনেনি। এতে সৎ লোকদের নিরুৎসাহিত করেছে। বাজেটে পোশাক শিল্পকে যে পরিমাণে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে অন্য রফতানি শিল্পকে সেভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।
সানেম বলেছে, ব্যাংকিং সেক্টরের মাধ্যমে বাজেট ও প্রণোদনা প্যাকেজ উভয়েরই আংশিক অর্থায়ন করা হচ্ছে। কিন্তু, ব্যাংকিং সেক্টরের যে সংকটগুলো আছে, বাজেটে এ সংক্রান্ত দিকনির্দেশনা নেই।








