বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা

সঞ্চিতা সীতু
২৫ জুলাই ২০২০, ১৮:৫০আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২০, ১৯:৫৬

তিস্তার পানি বেড়ে আদিতমারী উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত ভারী বৃষ্টি কমে এলেও উজানের পানি নিচের দিকে নেমে আসতে শুরু করায় এখন ৩১ জেলা বন্যা উপদ্রুত এলাকা। এসব জেলার ১৪৩টি উপজেলার ৭৯৪টি ইউনিয়নের ৮ লাখ ৩৬ হাজার ২৭১ পরিবার এখন পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছে। শনিবার (২৫ জুলাই) পর্যন্ত এই ৩১ জেলায় মোট ২৯ জন পানিতে ডুবে মারা গেছে। উজানের পানির কারণে আগামী দুই দিন বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আবহাওয়া ও বন্যা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এদিকে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান ভুঁইয়া জানান, ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদীর পানি বাড়ছে, যা আগামী ২৪ ঘণ্টা বাড়তে থাকতে পারে। একই সময়ে বাড়বে পদ্মা ও গঙ্গা নদীর পানি। ঢাকা জেলার আশেপাশের নদীগুলোর পানি বাড়ছে, যা আগামী ৪৮ ঘণ্টা অব্যাহত থাকতে পারে। এদিকে উত্তর পূর্বাঞ্চলের আপার মেঘনা অববাহিকার প্রধান নদ নদীগুলোর পানি কমতে শুরু করেছে, যা আগামী ৪৮ ঘণ্টা অব্যাহত থাকতে পারে।

এদিকে জেলাগুলোর মধ্যে আগামী ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি হতে পারে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে। মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, চাঁদপুর, রাজবাড়ী, শরীয়তপুর, ঢাকা  কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, বগুড়া, জামালপুর, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, নাটোর ও নওগাঁ জেলার বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।

এদিকে শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমানও সাংবাদিকদের বলেন, ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, ফরিদপুর, চাঁদপুর, গাইবান্ধা, রাজবাড়ী, নাটোর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, কুড়িগ্রাম, জামালপুর এবং নওগাঁ জেলায় আগামী দুই দিন বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। এরপর পানি কমতে পারে। তারপরও সমুদ্রে যদি জোয়ার থাকে তাহলে মধ্যাঞ্চলের পানি কমতে বিলম্বিত হতে পারে, তা না হলে আগস্টের প্রথম সপ্তাহেই বাংলাদেশের সব এলাকা থেকে পানি নেমে যেতে পারে।

দুর্যোগ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বন্যাকবলিত ৩১টি জেলা হলো, ঢাকা, গাজীপুর, টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, ফরিদপুর, মুন্সীগঞ্জ, রাজবাড়ী, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, জামালপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, রংপুর, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ এবং সুনামগঞ্জ।

১৭ নদীর ২৭ পয়েন্টের পানি বিপৎসীমার ওপর

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, ধরলা নদীর কুড়িগ্রাম পয়েন্টে পানি ৬২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একইভাবে ব্রহ্মপুত্র নদীর নুনখাওয়া পয়েন্টের পানি ৬৫, চিলমারী পয়েন্টে ৭৭, ঘাঘট নদীর গাইবান্ধা পয়েন্টে ৭৫, করতোয়া নদীর চকরহিমপুর পয়েন্টের পানি বিপৎসীমার ৪২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এদিকে যমুনা নদীর ফুলছড়ি পয়েন্টে ১০৪, বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে নতুন করে ১১০, সারিয়াকান্দি পয়েন্টে ১১৭, কাজিপুর পয়েন্টে ৯৪, সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে ৮৩, আরিচা পয়েন্টে ৬৬, আত্রাই নদীর বাঘাবাড়ি পয়েন্টে ১০২, সিংড়া পয়েন্টে ৯০, ধলেশ্বরী নদীর জাগির পয়েন্টে ৮০, এলাসিন পয়েন্টে ১১০ সেন্টিমিটার ওপর  দিয়ে এখন প্রবাহিত হচ্ছে। লাক্ষ্যা নদীর নারায়ণগঞ্জ পয়েন্টে ২৭, কালিগঙ্গা নদীর তারাঘাট পয়েন্টে ৯৮, আত্রাই নদীর আত্রাই পয়েন্টে ২৭, বালু নদীর ডেমরা পয়েন্ট ৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে পদ্মা নদীর গোয়ালন্দ পয়েন্টে ১১১, ভাগ্যকূল পয়েন্টে ৭০, মাওয়া পয়েন্টে ৬১ এবং সুরেশ্বর পয়েন্টে ৩০ সেন্টিমিটার বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে পুরাতন সুরমা নদীর দিরাই পয়েন্টে ২৭, তিতাস নদীর ব্রাহ্মণবাড়িয়া পয়েন্টে ৩০, মেঘনা নদীর চাঁদপুর পয়েন্টের পানি বিপৎসীমার ২৭, আরিয়ালখান নদীর মাদারীপুর পয়েন্টে ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এদিকে বাংলাদেশ ও ভারতের আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী ভারতের আসাম, মেঘালয় এবং হিমালয় পাদদেশীয় পশ্চিমবঙ্গে ভারী বৃষ্টি কমে আসলেও আগামী তিন  থেকে ৪ দিন আসাম এবং পশ্চিমবঙ্গে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে এ সময় সাময়িকভাবে ব্রহ্মপুত্র, যমুনা নদনদীগুলোর পানি স্থিতিশীল থাকতে পারে।

আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, আগামী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর,  ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং ঢাকা, রাজশাহী,  খুলনা,  বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু'এক জায়গায় অস্থায়ী দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বৃষ্টি হতে পারে। 

আবহাওয়াবিদ আব্দুর রহমান বলেন, ভারী বৃষ্টি কমে এলেও উজানের পানি এখন নিচের দিকে নামছে। ফলে মধ্যাঞ্চলে পানি এখন বাড়বে। আগামী কয়েকদিন আর ভারী বৃষ্টি হবে না। এতে পানি নেমে গেলে আর বাড়ার শঙ্কা নেই।

/এসএনএস/এমআর/এমএমজে/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম