বাস টার্মিনালগুলো অনেকটাই শূন্য। বাস কাউন্টারে নেই সহকারীদের হাঁকডাক, দূরপাল্লার যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। যেকোনও সময় কাউন্টারে গেলেই দেখা মিলছে ঈদযাত্রার ‘সোনার হরিণ’ টিকিটের। ঈদুল আজহার বাকি আর মাত্র দুই দিন। কিন্তু বাস টার্মিনালে এমন চিত্র কোনও ঈদেই দেখেনি যাত্রী ও বাস সংশ্লিষ্টরা। আর টার্মিনালে আসা যাত্রীরাও কখনও ভাবেননি ঈদযাত্রার টিকিট তাৎক্ষণিক পাওয়া যাবে।
বুধবার (২৯ জুলাই) গাবতলী ও মহাখালী বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা যায়, সাধারণ সময়ের চাইতেও কম মানুষ টার্মিনালে। দেখে বোঝার উপায় নেই দুদিন পরেই ঈদ। কাউন্টার মাস্টাররা মনমরা হয়ে বসে অলস সময় পার করছেন। টার্মিনাল ভর্তি রয়েছে বাসে, কিন্তু ছাড়ার অপেক্ষায় নেই একটিও। পর্যাপ্ত যাত্রী নেই বলে প্রায় এক ঘণ্টা পর পর বাস ছাড়ছে।
গাবতলীতে গোল্ডেন লাইন বাস কাউন্টারের সহকারী ম্যানেজার আব্দুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘তেমন একটা যাত্রী নেই। বাসের সিট সব সময় ফাঁকাই থাকছে। আগে ১৫ মিনিট পর পর ছাড়া হতো। এখন সেটি প্রায় এক ঘণ্টা পরপর ছাড়ছি। তবুও ২০টি সিট পূর্ণ হচ্ছে না।’
শ্যামলী পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার শান্ত বলেন, ‘আগে ১৫০ থেকে ২০০টি বাস প্রতিদিন উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন রুটে যাতায়াত করতো। সেই সংখ্যাটি কমে এখন হয়েছে ৫০ থেকে ৮০টি।’
তাদের কথার সত্যতা পাওয়া গেলো টার্মিনাল ঘুরে। দেখা গেছে, কয়েকটি কাউন্টার ছাড়া অন্য কোথাও যাত্রী নেই। যাত্রী বিশ্রামাগারগুলোতে রয়েছে হাতেগোনা দু-একজন যাত্রী। যাত্রীরা যখনই আসছেন, তখনই টিকিট পাচ্ছেন। টিকিট পাওয়া নিয়ে কারও কোনও অভিযোগ নেই।
পঞ্চগড়গামী যাত্রী আফসানা নওরীন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ঈদ উপলক্ষে বাড়িতে যাচ্ছি। টিকিট পেতে কোনও অসুবিধা হয়নি। বাসস্ট্যান্ডে এসেই টিকিট পেয়েছি। তবে, বাসগুলো দেরিতে ছাড়ছে। খুব একটা যাত্রীর চাপ দেখছি না।’
গাবতলীতে ভিজিল্যান্স টিমে থাকা বিআরটিএ’র মোটরযান পরিদর্শক শামসুদ্দিন আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এখানে কোনও অসুবিধা হচ্ছে না। আপনি নিজেই দেখছেন, প্রায় প্রতিটি টিকিট কাউন্টারের সামনেই ফাঁকা। যে কয়েকজন যাত্রী আসছেন, তাদের মধ্য থেকে এখনও কেউ কোনও অভিযোগ করেননি।’
মহাখালী বাস টার্মিনালে রয়েছে একই চিত্র। মহাখালী থেকে সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ, জামালপুর ও উত্তরবঙ্গের দিকে ছেড়ে যাওয়া বাসগুলোর কাউন্টারে তেমন ভিড় চোখে পড়েনি। ২০ থেকে ৩০ মিনিট পরপর দু-একজন করে যাত্রী আসেন কাউন্টারগুলোতে। সেখানকার কাউন্টারের টিকেট বিক্রেতারা প্রত্যাশা করছেন, যারা ঢাকায় আছেন তারা বৃহস্পতিবার বিকালের পর থেকে হয়তো বাড়ি যাবেন। সে সময় যাত্রীর চাপ বাড়তে পারে। আর বেশির ভাগই তো আগে থেকে বাড়িতে রয়েছেন। যার ফলে এই ঈদে আর কোনও যাত্রীর চাপ নেই।
রুট ধরে রাখতেই বাস চলাচল
রুট ধরে রাখতেই প্রতিষ্ঠিত বাস কোম্পানিগুলো তাদের গন্তব্যে সীমিত আকারে বাস চলাচল করাচ্ছে। কোনও কোনও বাসে হয়তো যাওয়া-আসার খরচই উঠছে না। তবুও তারা রাস্তায় বাস চলাচল অব্যাহত রেখেছে। এনা ট্রান্সপোর্ট, হানিফ পরিবহন, নাবিল পরিবহন ও শ্যামলী পরিবহনের কাউন্টার মাস্টারের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে।
এনা ট্রান্সপোর্টের সেলস এক্সিকিউটিভ হাসান আল মামুন বলেন, ‘৬০ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধির পর গাবতলী থেকে পঞ্চগড়ের ভাড়া এক হাজার ৩৭০ টাকা প্রতি সিট। সেই হিসাবে ২০ জন যাত্রী নিলে ভাড়া আসে ২৭ হাজার ৪০০ টাকা। অথচ একটা বাস ঢাকা থেকে পঞ্চগড় ঘুরে ঢাকায় আসতে প্রায় ২৫ হাজার টাকার মতো খরচ হয়। যদি বাসটিতে ১৭ থেকে ১৮ জন যাত্রী থাকে, তাহলে বাসের যাতায়াত খরচই উঠছে না। সেক্ষেত্রে কোম্পানিকে লোকসান গুনতে হচ্ছে। আগে যেখানে আমাদের ১০টি বাস চলতো সেখানে এখন চলছে মাত্র পাঁচটি।’
হানিফ পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার আফজাল বলেন, ‘শুধুমাত্র রুট ধরে রাখতেই কোম্পানিগুলো লস দিয়ে বাস চালাচ্ছে। যদি বাস চলাচল বন্ধ রেখে রুট ধরে রাখা যেতো, তবে কোম্পানিগুলো বাস চলাচল আগেই বন্ধ করে দিতো। প্রতিটি ট্রিপে কমপক্ষে দুই থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত লস হচ্ছে।’
ছবি: হাসনাত নাঈম








