জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থিতা বাতিলের যে ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) দেওয়া হয়েছে, সেটা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও)-১৯৭২ থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে না। আরপিও থেকে কোনও মৌলিক বিষয়ই বাদ যাচ্ছে না। মৌলিক বিধানাবলী ঠিক রেখে আইনটি কেবল বাংলায় রূপান্তর করা হচ্ছে।
নির্বাচন ভবনে কমিশনের বৈঠক শেষে সোমবার (৩১ আগস্ট) সন্ধ্যায় ইসি সচিব মো. আলমগীর সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
আরপিওকে বাংলা আইনে রূপান্তর করার খসড়ায় প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতা বাদ দেওয়াসহ অর্থাৎ আরপিওর ৯১(ই) ধারাসহ ১০টি মৌলিক বিষয় বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল নির্বাচন কমিশন। তারা বিষয়গুলো আইনের পরিবর্তে বিধিমালায় যুক্ত করতে চেয়েছিল।
নির্বাচন কমিশন কেন নিজের ক্ষমতা নিজেই বাদ দিতে চাচ্ছে, এমন প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, ‘নিজের ক্ষমতা নিজে ছাড় দেওয়ার কোনও সুযোগ নেই। কমিশনের কোনও ক্ষমতাই খর্ব করা নয়, বরং যা আছে মৌলিক, তার সবই ঠিক থাকবে। আইনের (আরপিও) মৌলিক কোনও পরিবর্তন হচ্ছে না, শুধু বাংলায় করা হচ্ছে। ’
তিনি বলেন, ‘আরপিওটি অনেক বড় আইন। এটাকে ছোট করার প্রস্তাব এসেছে। এজন্য বলা হয় যে, যেটি আইনে দরকার নেই, সেটি বিধিমালায় যাবে। অনেক কথা লেখা ছিল— তা আইনের সঙ্গে যায় না। স্বাধীনতার পরে ১৯৭২ সালে যখন আইনটি করা হয়েছিল, সেই সময় বিধিমালা করা অনেক সময় সাপেক্ষ বিষয় ছিল। আরেকটা বিষয় আপানারা জানেন, আইন সহজে পরিবর্তন করা যায় না। এজন্য সরকার বা নীতি নির্ধারকদের ক্ষেত্রে যে নির্দেশনা রয়েছে, তা হলো-আইন যখন করবেন, তার প্রসিডিউরগুলো বিধিতে রাখবেন।’
মো. আলমগীর বলেন, ‘প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতা বিধিতে রাখতে গিয়ে হয়তো কমিশন আইন থেকে ভুল করে হোক বা বোঝাপড়ার মাধ্যমে হোক সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, এটা আইনে থাকবে না, বিধিতে যাবে। আর আইন মন্ত্রণালয় বলেছে যে, প্রার্থিতা বাতিলের বিষয়টি বিধিতে নয় আইনে রাখতে হবে। তারা এরকম ৯/১০টি বিষয় আইনেই রাখতে বলেছে।’
তিনি বলেন, ‘কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, আইনে না থাকলেও বিধিতে রাখা হতো। আইন মন্ত্রণালয় যেহেতু আইনেই রাখতে বলেছে এটাকে শক্তিশালী রাখার জন্য, তাই আইনেই রাখা হচ্ছে।’
আরপিওর ৯১(ই) ধারায় বলা হয়েছে— নির্বাচনে অবৈধ বা আইন পরিপন্থী কোনও কাজ প্রার্থী বা তার এজেন্ট বা তার পক্ষে অন্য যে কোনও ব্যক্তি জড়িত থাকে বলে কমিশনের দৃষ্টিগোচর হয়, বা অভিযোগ আসে; তবে কমিশন তা তদন্ত করার জন্য নির্দেশ দিতে পারবে। তদন্তে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে, তবে সেই প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করতে পারবে নির্বাচন কমিশন।








