জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, কোনোভাবেই আগাছা-পরগাছাকে সুযোগ দেওয়া যাবে না। কারণ, ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করার ঘটনা ক্ষমতার পালাবদলের জন্য হয়নি। এই ঘটনা একজন ব্যক্তিকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার জন্যও সংঘটিত হয়নি। বাংলাদেশের অস্তিত্বের মূলে কুঠারাঘাত করার জন্যই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করা হয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত অনলাইনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা পরবর্তী পেক্ষাপট তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘সেদিন যারা আপস করেছিলেন তারা হয়তো বেঁচে গেছেন। কিন্তু যারা আপস করেননি তাদেরকে অমানবিক নির্যাতনের মুখে পড়তে হয়েছিল। জাতীয় চার নেতাকে তারা জেলেই হত্যা করে। একজন কিশোরী হিসেবে ওই সময়গুলোতে মায়ের হাত ধরে বাবাকে দেখতে জেলে যেতাম। তখন দেশে কী পরিস্থিতি ছিল সেটা হয়তো অনুধাবন করতে পারতাম। ১৫ আগস্টের পর দেশে যে ধরনের পরিবর্তন হয়েছে সেটা দেখলেই ঘাতকদের মূল উদ্দেশ্য পরিষ্কার বোঝা যায়। পাকিস্তান জিন্দাবাদের বদলে বাংলাদেশ জিন্দাবাদ। পাকিস্তান রেডিও’র পরিবর্তে বাংলাদেশ রেডিও, এসব করে দেশে বিরাজনীতিকীকরণ করা হয়েছে। সেসময়ে বছরের পর বছর প্রতিটি রাতে দেশে কারফিউ ছিল।’
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন দেশে বৈষম্য থাকবে না। তিনি সমাজতন্ত্রকে পছন্দ করতেন। পুঁজিবাদ পছন্দ করতেন না। তিনি বাঙালি জাতীয়তাবাদের কথা বলেছেন। বিশ্বমানবতার জায়গায় তিনি বাঙালিকে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সেটা সম্ভব হয়নি। তবে বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পিতার স্বপ্ন এবং দর্শন অক্ষরে অক্ষরে পূরণ করে চলেছেন।’
অনুষ্ঠানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচর্য অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশিদ বলেন, ‘‘বাঙালির ইতিহাস, ঐতিহ্য ও আদর্শসহ সবকিছু মনে প্রাণে ধারণ করেছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি ছিলেন স্টার অরগানাইজার। নিউজ ইউক বলেছিল— বঙ্গবন্ধু ছিলেন 'পোয়েট অব পলিটিক্স'। তবে তিনি শুধু পোয়েট অব পলিটিক্সই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন আর্টিস্ট। তিনি সুনিপুণভাবে একজন দক্ষ শিল্পীর মতো তার সমর পরিকল্পনা এঁকেছিলেন, যা চূড়ান্ত বিজয়ে আমরা লক্ষ্য করেছি।"
উপাচার্য আরও বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর সিদ্ধান্ত সব বিষয়ে ছিল সুদূরপ্রসারী। তিনি জাতিসংঘে তাঁর ভাষণে নিউ ইকোনমিক অর্ডারের কথা বলেছেন, যেখানে কোনও বৈষম্য নেই। আইনের শাসনের কথা তিনি শুধু মুখে বলে যাননি, তার ব্যক্তি জীবনে তিনি প্রাকটিস করে গেছেন।’
১৫ আগস্টের ঘটনায় দেশি-বিদেশি শক্তির মুখোশ উন্মোচনের জন্য তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি জানান উপাচার্য। তিনি বলেন, ‘কোনও হত্যাকাণ্ডই তামাদি হতে পারে না। যারা অপরাধী তাদের মরণোত্তর বিচার হতে পারে। এরফলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত ও মাস্টারমাইন্ডদের সম্পর্কে জানতে পারবে।’
আলোচনা সভায় ‘১৫ আগস্ট জাতির পিতার নির্মম হত্যাকাণ্ড: বাংলাদেশের অস্তিত্ব মূলে আঘাত’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মশিউর রহমান।
আলোচক হিসেবে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সাবেক উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী, অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দীন।
এছাড়া আলোচনায় অংশ নেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষক, বিভিন্ন বিভাগের দফতর প্রধানরা।








