জনগণের কাছে ন্যায়বিচার পৌঁছে দিতে হবে: আইনমন্ত্রী

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
০৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৬:৪০আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২০:২৩

 

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বিচার বিভাগের মর্যাদা বজায় রেখে ন্যায়বিচার করা এবং জনগণের কাছে ন্যায়বিচার পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করার আহ্বান জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে ওরিয়েন্টেশন কোর্সের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মন্ত্রী এ আহ্বান জানান। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের নতুন বিচারকদের জন্য ভার্চুয়ালি এ কোর্সের আয়োজন করা হয়। পাঁচ দিন মেয়াদি এ প্রশিক্ষণে জেলা জজ পদমর্যাদার ৩৫ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশ নিয়েছেন।

আনিসুল হক বলেন, ‘বিচার বিভাগ অবশ্যই স্বাধীন। বিচারকার্যে বিচারকরা সংবিধান অনুযায়ী স্বাধীন। কিন্তু এটাও মনে রাখতে হবে যে বিলম্বিত বিচার হলে বিচার বিভাগের ওপর মানুষের আস্থা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যায়। সেই আস্থা যাতে প্রশ্নবিদ্ধ না হয়। বিচার বিভাগ রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গের মধ্যে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় জরুরি ও নির্ভরশীল একটি অঙ্গ। সেজন্য আমাদের বিচার বিভাগের মর্যাদা বজায় রেখে ন্যায়বিচার এবং জনগণের কাছে ন্যায়বিচার পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি বিচার বিভাগের সব কর্মকর্তা এই দায়িত্ব পালন করার জন্য প্রস্তুত এবং দক্ষ। জাতি তাদের যে দায়িত্ব দিয়েছে, সে দায়িত্বভার নিতে পারবে বলেই তারা বিচার বিভাগে কর্মরত আছেন।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের প্রতিনিয়ত চ্যালেঞ্জ সামনে আসবে। আজকে করোনাভাইরাসের চ্যালেঞ্জ এসেছে। ভবিষ্যতে কী চ্যালেঞ্জ আসবে জানি না। তবে ভবিষ্যতেও চ্যালেঞ্জ আসবে। অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা দিয়ে সেসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। এজন্য নতুন নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করার জন্য প্রশিক্ষিত হতে হবে। এ বিষয়ে বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করার জন্য যে সক্ষমতা প্রয়োজন, যে অবকাঠামো উন্নয়ন প্রয়োজন সেটা শেখ হাসিনার সরকার করবে। কারণ, তার সরকারের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হচ্ছে জনগণের কাছে তাদের সব সেবা পৌঁছে দেওয়া। তাই জনগণের কাছে বিচার সেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য যা যা করা দরকার, তা সরকার করবে।’

প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে বিচার বিভাগকে নতুন পথ দেখানোর আহ্বান জানিয়ে বিচারকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, ‘জনগণ আপনাদের দিকে তাকিয়ে আছেন। তারা আপনাদের কাছে সুষ্ঠু বিচার চায়। আপনারা তাদের সুষ্ঠু ও ন্যায় বিচার দেবেন।’

আনিসুল হক বলেন, ‘চলতি বছরে আমরা অন্তত ছয় লাখ মামলা কমিয়ে আনার পরিকল্পনা করেছিলাম। কিন্তু করোনাভাইরাস মহামারির কারণে সে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এ অবস্থায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে কীভাবে মামলার জট কমানো যায় তা নিয়ে চিন্তা করতে হবে। বছরের এখনও প্রায় চার মাস সময় আছে, এই সময়ে দেড় লাখ মামলার জট কমাতে পারলেও কিছু একটা অর্জন হয়েছে বলে মনে করতে পারবো।’ তাই এ বিষয়ে মন্ত্রী বিচারকদের আন্তরিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।

বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক বিচারপতি খোন্দকার মূসা খালেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারওয়ার ও ইনস্টিটিউটের পরিচালক মো. গোলাম কিবরিয়া বক্তৃতা করেন।

/বিআই/এপিএইচ/এমওএফ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম