দেশের মূলধারার গণমাধ্যম দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনে সচেষ্ট বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সচিবালয়ের গণমাধ্যম কেন্দ্রে ‘বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম-বিএসআরএফ’ আয়োজিত ‘মিট দ্যা প্রেস’-এ তিনি এ মন্তব্য করেন। বিএসআরএফ সভাপতি তপন বিশ্বাসের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান তথ্য অফিসার সুরথ কুমার সরকার বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গণমাধ্যম শুধুমাত্র মত প্রকাশই নয়, সমাজের দর্পণ হিসেবে, মানুষের মনন তৈরিতে, সমাজকে সঠিক খাতে প্রবাহিত করে জাতিকে প্রত্যয়ী করতে বিরাট ভূমিকা রাখতে পারে। জাতি গঠনের জন্য এর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের মূলধারার গণমাধ্যম সেই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের চেষ্টা করে। কিন্তু কোনও কোনও ক্ষেত্রে অনলাইনে কিছু ভুঁইফোড় পোর্টাল, যেগুলো মূলধারার নয়, সেগুলোর কারণে অনেক সময় বিভ্রান্তি হয়।’
তিনি বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আজ বিশ্ববাস্তবতা। এটি মানুষের সঙ্গে মানুষকে সংযুক্ত করা ও হারিয়ে যাওয়া মানুষকে খুঁজে পাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। এটি ভালো দিক, কিন্তু ঠিকভাবে ব্যবহার করা না হলে খারাপ দিকও অনেক। আজকে সবচেয়ে বেশি বিভ্রান্তিও তৈরি হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে, এটি শুধু বাংলাদেশে নয়, বিশ্বব্যাপী বাস্তবতা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যে সংবাদ মাধ্যম নয়, এর ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে অনেকেই মনে করেন, ফেসবুকে দেওয়া তথ্যই বুঝি সংবাদ, আসলে সেটি সংবাদ নয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম একটি আনএডিটেড (অসম্পাদিত) প্লাটফরম। সে কারণে অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্যসহ পৃথিবীব্যাপী এটিকে নিয়মনীতির মধ্যে আনার জন্য আইন তৈরি হয়েছে, আমরাও করছি। আমাদের দেশে বিশেষ পরিস্থিতিতে অনেক সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়ানোর অপচেষ্টা হয়। করোনাকালে শুরুতে সেই অপচেষ্টা ছিল। কিন্তু মূলধারার গণমাধ্যম সেটি করতে দেয়নি।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণমাধ্যমের বিকাশের লক্ষ্যে সবসময় বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন জানিয়ে ড. হাছান বলেন, ‘উপমহাদেশের অন্য দেশে সাংবাদিকদের জন্য করোনাকালীন বিশেষ সহায়তা দেওয়া হয়নি। ভারতে করোনায় যারা মৃত্যুবরণ করেছেন, শুধুমাত্র তাদেরকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। শুধুমাত্র বাংলাদেশেই প্রধানমন্ত্রী করোনাকালে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে প্রয়োজন মাফিক সাংবাদিকদের সহায়তা কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন। কারণ, তিনি বাংলাদেশের সব খেটে খাওয়া মানুষের কথা ভেবেছেন, সবার কথা ভেবেছেন।’
অনলাইন গণমাধ্যম প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তথ্যমন্ত্রী এসময় বলেন, ‘অনলাইন নিবন্ধনের কাজ চলছে। ইতোমধ্যেই আমরা বেশ কয়েকটি অনলাইনকে নিবন্ধনের জন্য অনুমতি প্রদান করেছি, আরও দেওয়া হবে। তবে যেহেতু কয়েক হাজার অনলাইন, তাই এটি সম্পন্ন করতে সময় লাগবে।’
আইপি টিভি সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, ‘আইপি টিভি নিবন্ধের জন্যও দরখাস্ত আহ্বান করা হয়েছিল। সেগুলোর প্রাথমিক তদন্তের কাজ শুরু হয়েছে, যা সম্পন্নের পর নিবন্ধনের কাজ শুরু হবে। এক্ষেত্রে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, আইপি টিভিগুলো শুরুতে বিনোদন চ্যানেল হিসেবে কাজ করবে। কোনও টেলিভিশন চ্যানেল যখন অনুমতি পায়, শুরুতে সংবাদ পরিবেশনের অনুমতি পায় না। সেজন্য আবার দরখাস্ত করতে হয়। আইপি টিভির ক্ষেত্রেও তাই ‘








