‘কোভিড যুদ্ধ চলছে এবং চলবে’

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১৮ অক্টোবর ২০২০, ১৭:২০আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২০, ১৭:২৪

অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ (ছবি: সংগৃহীত) কোভিড চিকিৎসায় ক্রমান্বয়ে আমাদের সক্ষমতা বেড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ। তিনি বলেন, ‘কোভিড যুদ্ধ চলছে এবং চলবে। পৃথিবী থেকে কবে এই ভাইরাস বিদায় নেবে সেটা কেউ জানে না।’

রবিবার ( ১৮ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কোভিড-১৯ মহামারিতে সার্জন্সদের ভূমিকা শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক।

ডা. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, ‘আমি যেহেতু জাতীয় পরামর্শক কমিটির সভাপতি, তাই আমাদের জানতে হয়, বিশ্বের কোথায় কী হচ্ছে। সেই হিসেবে আমাদের মনে রাখতে হবে, আমাদের যুদ্ধ সামনে আছে। করোনার শুরুতে আমেরিকা, ইউরোপ, জাপান প্রত্যেকে হতবিহ্বল হয়ে পড়েছিল, আমরাও হয়েছিলাম। প্রাথমিকভাবে সেটা হওয়াতে চিকিৎসাব্যবস্থার মধ্যে এলোমেলো ভাব এসেছিল। কিন্তু ক্রমান্বয়ে আমাদের সক্ষমতা বেড়েছে।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সার্বিক দিকনির্দেশনা এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়সহ সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এখন আমরা বলতে পারি, সংক্রমণের হার আমাদের কমেছে। মৃত্যুর হার কমেছে, সেবার মান বৃদ্ধি পেয়েছে। মিডিয়াতে অনেক কথা হয়েছে—হাসপাতালে অক্সিজেনের অভাব, চিকিৎসক যাচ্ছে না, রোগী মারা যাচ্ছে ইত্যাদি। কিন্তু এসব সংবাদ এখন আর নেই। এটা অবশ্যই একটি অর্জন। কিন্তু এটাও মনে রাখতে হবে, এখানে শৈথিল্য দেখানোর কোনও সুযোগ নাই। সবাইকে কাজ করতে হবে।’

‘চিকিৎসকদের প্রতিটি সংগঠন তাদের যথাসাধ্য চেষ্টা করেছে, কেউ তাদের সার্ভিস বন্ধ রাখেনি।’—বলেন শহীদুল্লাহ। 

কোভিড-১৯ মহামারিতে সার্জন্সদের ভূমিকা শীর্ষক অনুষ্ঠানে অতিথিরা করোনার ভ্যাকসিন নিয়ে কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সভাপতি বলেন, ‘ভ্যাকসিন কবে আসবে আমরা জানি না। তবে আশা থাকা ভালো, কিন্তু সে ভ্যাকসিন কতদিন সক্ষমতা দিয়ে প্রটেকশন দেবে সেটা আজ পর্যন্ত কেউ বলতে পারেনি। এটা ছয় মাস, এক বছর নাকি দুই বছর প্রটেকশন দেবে, কেউ বলতে পারেনি।

‘সুতরাং, করোনা থেকে বাঁচতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ছাড়া আর কোনও উপায় নেই। মাস্ক পরা, সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা এবং বারবার হাত ধোয়া—এই তিনটি বিষয় মেনে চলতে পারলে আমি মনে করি, দ্বিতীয় ঢেউ থেকে হয়তোবা আমরা দূরে থাকবো।’—বলেন শহীদুল্লহ।

তিনি বলেন, ‘চীনের উহানে কোভিড মহামারির প্রায় আড়াই মাস পর ৮ মার্চ প্রথম বাংলাদেশে করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হন। এরপর চীন থেকে একটা বড় জনগোষ্ঠী দেশে প্রবেশ করে, সেটা একটা মাইলফলক, আর ১৮ মার্চ প্রথম করোনা আক্রান্ত রোগী মারা যান। এরপর চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীসহ অসংখ্য মানুষ এই মহামারিতে জীবন দিয়েছেন।’

এই চিকিৎসক বলেন, ‘অনেক দিন আগে থেকে আমরা সুপারিশ করেছিলাম, র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন এবং অ্যান্টিবডি টেস্ট শুরু করার জন্য। অ্যান্টিজেন পরীক্ষাতে কেউ নেগেটিভ হলে তাকে আরটিপিসিআর করতে হবে, কিন্তু কেউ পজিটিভ হলে তাকে আর আরটিপিসিআর করতে হবে না। এই লোডটা কমানোর জন্য আমরা বারবার র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টের কথা বলেছি। সেটা সরকার অনুমোদন দিয়েছে, কিন্তু এখনও চালু হয়নি।’

‘অপরদিকে, র‌্যাপিড অ্যান্টিবডি টেস্টের প্রয়োজনীয়তাও আমরা বুঝতে পারি। আমরা যদি অ্যান্টিবডি টেস্ট করে তাদের বের করতে পারি, তাহলে তারা ওয়ার্কফোর্স হিসেবে কাজ করতে পারবে। ভ্যাকসিন যখন আসবে তখন তারা পেছনে থাকবে, আর যাদের প্রটেকশন নেই তারা আগে পাবে ভ্যাকসিন। অনেক সুবিধা রয়েছে এই র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন এবং অ্যান্টিবডি টেস্টে। আমি আশা করছি, এসব বিষয়গুলো কার্যকর হবে।’—বলেন অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।

 

/জেএ/আইএ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
যেখানে সকালে বারান্দায় এলেই দেখা মেলে জোড়া রংধনুর
যেখানে সকালে বারান্দায় এলেই দেখা মেলে জোড়া রংধনুর
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের আড়ালে কী
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের আড়ালে কী
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম