বঙ্গবন্ধুর কঠোর হুঁশিয়ারি

উদিসা ইসলাম
১২ নভেম্বর ২০২০, ০৮:০০আপডেট : ১২ নভেম্বর ২০২০, ০৮:০০

বঙ্গবন্ধুর কঠোর হুঁশিয়ারি (বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর সরকারি কর্মকাণ্ড ও তার শাসনামল নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে বাংলা ট্রিবিউন। আজ পড়ুন ওই বছরের ১২ নভেম্বরের ঘটনা।)
প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, জনগণের দুঃখ-দুর্দশাকে যারা বাড়িয়ে তুলছে সরকার তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ। মুনাফাখোর চোরাকারবারি আর অসাধু ব্যবসায়ী, যারা জনগণের দুঃখ কষ্ট বাড়িয়ে তুলছে, ১৯৭২ সালের এইদিনে বঙ্গবন্ধু তাদের হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেন, তারা যদি অবিলম্বে সৎপথে না আসে এবং জনগণের দুঃখ দুর্দশাকে দুর্বিষহ করে তোলার অপচেষ্টা থেকে বিরত না হয় তাহলে সরকার তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে।

বঙ্গবন্ধুর কঠোর হুঁশিয়ারি
গণভবনে ঢাকা শহর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনাকালে বঙ্গবন্ধু এই হুঁশিয়ারি দেন। প্রধানমন্ত্রী দেশের ব্যবসায়ীদের প্রতি জনগণের কাছ থেকে জিনিসপত্রের অস্বাভাবিক মূল্য আদায় না করার নির্দেশও দেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ এমনিতেই বহুভাবে নির্যাতিত হয়েছে। বহু দুঃখ-কষ্ট ভোগ করেছে। জিনিসপত্রের দাম অস্বাভাবিক বাড়িয়ে তাদের দুঃখ-দুর্দশাকে যেন কোনোভাবেই দুর্বিষহ করে না তোলা হয়। জনগণের কাছ থেকে জিনিসপত্রের অতিরিক্ত মূল্য আদায় না করার জন্য তিনি ব্যবসায়ীদের হুঁশিয়ার করে বলেন, সরকার তাদের জনস্বার্থবিরোধী কার্যকলাপ বরদাশত করবে না। গণভবনে আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন কোরবান আলী, জিল্লুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সচিব তোফায়েল আহমেদ। জনগণের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবের জন্য তিনি আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের নিঃশর্তভাবে কাজ করে যাওয়ার পরামর্শ দেন। বঙ্গবন্ধু তাদের বলেন, বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যে ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু করেছে। চোরাচালান সম্পূর্ণ বন্ধ করার উদ্দেশ্যে সরকার সীমান্ত এলাকায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছে। সেনাবাহিনী, রক্ষীবাহিনী ও পুলিশের সম্মিলিত অভিযানে সীমান্তে চোরাচালান তৎপরতা প্রায় নির্মূল হয়ে এসেছে বলেও বঙ্গবন্ধু জানান।

বঙ্গবন্ধুর কঠোর হুঁশিয়ারি
এর আগেও হুঁশিয়ার করেছিলেন
এদিকে এর আগে ৭ জুনের জনসভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মজুতদার, মুনাফাখোর, কালোবাজারি ও দুর্নীতিবাজদের সংশোধনে শেষবারের মতো ১৫ দিনের সময় বেঁধে দিয়েছিলেন। তিনি সেদিনের বক্তৃতায় ঘোষণা করেন, এই ১৫ দিন সমাজবিরোধীরা যদি সিধা রাস্তায় না আসে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে চরমতম ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
১৯৬৬ সালের ৬ দফা ঘোষণার ঐতিহাসিক এই দিনটিতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত এক জনসভায় তিনি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। ১৯৭২ সালের ৮ জুন পূর্বদেশ পত্রিকায় এর বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়। সমাবেশে তিনি ঘোষণা করেন, এই ১৫ দিনের মধ্যে মজুতদাররা যদি বাজারে দ্রব্যাদি না আনে, কালোবাজারি যদি বন্ধ না করে, ব্যবসায়ীরা যদি ন্যায্যমূল্যে মালপত্র বিক্রি না করে, সরকারি কর্মচারীরা যদি ঘুষ খাওয়া না ছাড়ে এবং যারা অবৈধভাবে সরকারের ও অন্যের বাড়ি-গাড়ি, ধন-সম্পত্তি দখল করে আছে, তা যদি ফিরিয়ে না দেয়; তাহলে নির্দিষ্ট দিনের পর থেকে এলাকায় এলাকায় সান্ধ্য আইন জারি করে দ্রব্যাদি অনুসন্ধান করা হবে এবং দোষী ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে চরম শাস্তি দেওয়া হবে।
বঙ্গবন্ধুর সংবর্ধনা ১৯ নভেম্বর
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সংবর্ধনা জানাবে। বঙ্গবন্ধু সে সময় জুলিও কুরি পদকে ভূষিত হওয়ায় এই সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে বলে বিপিআই সূত্রে জানানো হয়। এইদিন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সন্ধ্যায় বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামকে দেখতে যান এবং সেখানে গিয়ে তিনি তার সম্পর্কে খোঁজ-খবর নেন। বঙ্গবন্ধুকে জানানো হয় কবি নজরুল আগে একা একা চলাফেরা করতে পারতেন না, এখন করছেন। এমনকি তিনি উপর তলা থেকে নিচের তলার ওঠানামা করতে পারছেন। বাসসের খবরে বলা হয়, এইদিন সকালে রাষ্ট্রপ্রধান বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী ও বেগম চৌধুরী কবি নজরুলকে দেখতে গিয়েছিলেন।

বঙ্গবন্ধুর কঠোর হুঁশিয়ারি
পাঁচশালা পরিকল্পনা আগামী জুলাই থেকে
১৯৭৩ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশের প্রথম পাঁচশালা পরিকল্পনা চালু হবে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে দৈনিক বাংলা নিউজ প্রকাশ করে। এর আগে ১৯৭২ সালের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে দেশের প্রথম পাঁচশালা পরিকল্পনা রচনার কাজ সম্পন্ন করার প্রস্তুতি চলছে। জাতীয় লক্ষ্য ও আদর্শের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ খসড়া পাঁচশালা পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশন বর্তমানে সম্পূর্ণরূপে কাজে নিমগ্ন রয়েছে। উল্লেখ করা যেতে পারে, অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদ এ বছর ১৯ জুনে প্রদত্ত বাজেট বক্তৃতায় বলেছিলেন যে, বাংলাদেশকে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনায় নিতে হবে। বর্তমানে পরিকল্পনা কমিশন হিসেব-নিকেশ করে দেখছে প্রত্যেক সেক্টরকে সম্প্রসারণের জন্য ভবিষ্যতে কী পরিমাণ অর্থ প্রয়োজন হতে পারে।

/এমআর/এমওএফ/
সম্পর্কিত
মুজিব বর্ষ উদযাপনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়-বিভাগের খরচ ১২৬১ কোটি
ভূমিহীনমুক্ত হচ্ছে সাতক্ষীরার ৬ উপজেলা, প্রস্তুত ৩৬৪টি ঘর
‘প্রধানমন্ত্রীর উপহার বেঁচে থাকার সাহস জুগিয়েছে’
সর্বশেষ খবর
মেসির পিছু ছাড়ছেন না এমবাপ্পে, ইরাকের বিপক্ষে সহজ জয় ফ্রান্সের
মেসির পিছু ছাড়ছেন না এমবাপ্পে, ইরাকের বিপক্ষে সহজ জয় ফ্রান্সের
হরিণ শিকারের ফাঁদে আটকে আহত বাঘ কলারসহ ফিরছে সুন্দরবনে
হরিণ শিকারের ফাঁদে আটকে আহত বাঘ কলারসহ ফিরছে সুন্দরবনে
বজ্রঝড়ের বাধার পর ফের শুরু ফ্রান্স–ইরাক ম্যাচ
বজ্রঝড়ের বাধার পর ফের শুরু ফ্রান্স–ইরাক ম্যাচ
বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া ছেলের হাতে মাদ্রাসা শিক্ষক বাবা খুন
বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া ছেলের হাতে মাদ্রাসা শিক্ষক বাবা খুন
সর্বাধিক পঠিত
বিদায়ের আগে ডিসি সারওয়ারের চমক, এবার জানা যাবে মাজারের কত টাকা লুট হয়
বিদায়ের আগে ডিসি সারওয়ারের চমক, এবার জানা যাবে মাজারের কত টাকা লুট হয়
‘অভিমানী’ সেই কুমির অনশনে, ১৯ দিনেও খাবার তোলেনি মুখে
‘অভিমানী’ সেই কুমির অনশনে, ১৯ দিনেও খাবার তোলেনি মুখে
ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত 
ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত 
চীনের আবিষ্কার: মাছ ধরার রিল
চীনের আবিষ্কার: মাছ ধরার রিল
নবম পে-স্কেল: কার বেতন কত বাড়বে, কবে মিলবে টাকা 
নবম পে-স্কেল: কার বেতন কত বাড়বে, কবে মিলবে টাকা