(বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর সরকারি কর্মকাণ্ড ও তার শাসনামল নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে বাংলা ট্রিবিউন। আজ পড়ুন ওই বছরের ৯ ডিসেম্বরের ঘটনা।)
১৯৭২ সালের ৯ ডিসেম্বর আইনমন্ত্রী ড. কামাল হোসেন বলেন ১৬ ডিসেম্বর সংবিধান কার্যকর হওয়ার পর প্রচলিত আইনে যেসব সংবিধানবিরোধী বিধান আছে তা স্বাভাবিকভাবেই অকেজো বা বাতিল হয়ে যাবে। সেগুলোর তালিকা প্রণয়নের উদ্দেশ্যে প্রচলিত আইনসমূহ পর্যালোচনা কাজে যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে। বাসসের প্রতিনিধির সঙ্গে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে আইনমন্ত্রী কামাল হোসেন রাতে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন সকল প্রচলিত আইন বাতিল হয়ে যাবে। কারণ সংবিধান দেশের সর্বোচ্চ আইন এবং সংবিধান কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মৌলিক অধিকার কার্যকর করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, সংবিধান বাস্তবভাবে দুটি প্রক্রিয়ায় পুরোপুরি কার্যকর হবে। প্রথমত, সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন কোনও আইনের ভিত্তিতে কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে আদালতে সেটার বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ করা যাবে এবং এইভাবে সংশ্লিষ্ট আইন বাতিল হয়ে যাবে। দ্বিতীয়ত, আইন ও সংবিধানবিরোধী বিধি-বিধান বাতিলের জন্য প্রচলিত আইন পর্যালোচনা চলছে। আইনমন্ত্রী বলেন এই সরকার প্রচলিত কালা আইনসমূহের ভিত্তিতে কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। ব্রিটিশ ও পাকিস্তানি আমলের কালা আইন বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে ব্যবহার করেনি।
বর্তমান আইনে সকল নাগরিকের সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে। সকল নাগরিক আইনের আশ্রয় গ্রহণের, আদালতে বিচারের প্রার্থী হওয়ার অধিকার রাখেন উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, সংবিধানের আলোকে প্রচলিত আইন বাতিল সংশোধন ও পরিবর্তন করার জন্য একটি ব্যাপক সুপারিশ পেশ করা হবে। তবে এই কাজ শেষ করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন। এই উদ্দেশ্যে আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি সেল গঠন করা হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বর্তমানে অস্থায়ী শাসনতান্ত্রিক ব্যবস্থা থেকে শাসনতান্ত্রিক ব্যবস্থায় উত্তরণে বিশেষ কোনও অসুবিধা হবে বলে তিনি মনে করেন না। এই প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, সংবিধানে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এবং রাষ্ট্রপ্রধানকে যেকোনও ধরনের অসুবিধা দূর করার জন্য অর্ডিন্যান্স জারির ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
হকার্স লীগ গণভবনে
হকার্স লীগের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জুলিও কুরি পদক প্রাপ্তির জন্য স্বর্ণনির্মিত একটি নৌকার প্রতীক উপহার দেওয়া হয়। এসময় তাকে মাল্যভূষিত করা হয়। জাতীয় হকার্স লীগের কর্মীরা পূর্বেই বায়তুল মোকাররম প্রাঙ্গণে হাজির হয় এবং ব্যান্ডপার্টিসহ শোভাযাত্রা সহকারে গণভবনে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে উক্ত উপহার দেন।
পৌরকর বাড়ানো হবে
পৌরসভাগুলোকে স্বনির্ভর করার জন্য শিগগিরই কর বাড়ানো হতে পারে। বিশ্বস্ত সূত্রের বরাত দিয়ে এনা এই সংবাদ পরিবেশন করে। একেবারেই নগণ্য আয়ের ফলে ঢাকাসহ দেশের সকল পৌরসভা তীব্র আর্থিক সঙ্কটের সম্মুখীন হয়ে পড়ে সেসময়।
সরকার চলতি আর্থিক বছরে বিভিন্ন পৌরসভাকে ১৮ কোটি টাকা প্রদান করেছে বলেও সংবাদে বলা হয়। সরকার পৌরসভা কর পরিকল্পনার বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছিল। বর্তমান সরকারের পর্যালোচনা, কর বৃদ্ধির বিষয়ে সুপারিশ করার জন্য শিগগিরই একটি কমিটিও গঠন করা হয়। স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান ঢাকা পৌরসভার আয় ১ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা। কিন্তু পরিচালনার জন্য অন্তত বছরে তিন থেকে চার কোটি টাকা প্রয়োজন। পৌরবাসীরা যুদ্ধবিধ্বস্ত সময়ে নিয়মিত কর দিচ্ছেন না। এদিকে শহরের প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনার জন্য ৩৫ লক্ষ টাকা প্রয়োজন হয়। এই কর্মকর্তা জানান যে পৌরসভা শিক্ষাকর আদায় করে না। তাই শিক্ষাখাতে অর্থ ব্যয় করা পৌর কর্তৃপক্ষের উচিত না।
মন্ত্রিসভার বৈঠক
দেশের সার্বিক পরিস্থিতি আলোচনা প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে এইদিনে বাংলাদেশের মন্ত্রিসভার দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ সচিবালয়ের সকাল ন'টায় মন্ত্রিসভার বৈঠক শুরু হয় তারা দুটো পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। মন্ত্রিসভার বৈঠকে দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয় বলে এনার খবরে উল্লেখ করা হয়। বাসসের খবরে বলা হয় বৈঠকে দেশের শিল্পনীতির বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়েছে।








