সঠিক নিয়মে ও দক্ষতার সঙ্গে টিকা দেওয়ায় হাম-রুবেলা, পোলিওসহ ১০ ধরনের কঠিন সংক্রমণ ব্যাধি নির্মূলের পথে রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্য খাতের সফলতায় দেশের প্রায় ৯০ ভাগ শিশুকে টিকা দেওয়া সম্ভব হয়েছে।’
বৃহস্পতিবার (১০ ডিসেম্বর) রাজধানীর মহাখালীতে বিসিপিএস মিলনায়তনে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অতীতে বেশ কয়েকবার দেশব্যাপী হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন পরিচালিত হওয়ার পরও বিগত কয়েক বছরে দেশে হাম ও রুবেলা রোগের প্রকোপ ও আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতি উত্তরণকল্পে এবং ২০২৩ সাল নাগাদ দেশ থেকে হাম-রুবেলা দূরীকরণে আগামী ১২ ডিসেম্বর থেকে ২৪ জানুয়ারি সারাদেশে ‘হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন-২০২০’ পরিচালিত হবে।’
তিনি জানান, এই ক্যাম্পেইনের আওতায় দেশজুড়ে ৯ মাস থেকে ১০ বছরের নিচের প্রায় ৩ কোটি ৪০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া হবে। আর এটা করা হবে সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে।
প্রসঙ্গত, এই ক্যাম্পেইনটি গত ১৮ মার্চ হতে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও কোভিডের কারণে স্থগিত করা হয়।
টিকাদান কর্মসূচি থেকে জানানো হয়, বর্তমান প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে ক্যাম্পেইনটি পরিচালনার জন্য নতুন একটি কর্মকৌশল নির্ধারণ করা হয়েছে। তাতে রয়েছে—আগের তিন সপ্তাহের পরিবর্তে ছয় সপ্তাহে এই কর্মসূচি পরিচালিত হবে। ভিড় এড়াতে টিকাকেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নের একেকটি ওয়ার্ডে ক্যাম্পেইন টিকাদান কার্যক্রম সম্পন্ন করতে দুই সপ্তাহ সময় লাগবে (সপ্তাহে ২ দিন নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হবে)।
দুই বছরের নিচের কোনও শিশু নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির কোনও টিকা না পেয়ে থাকলে ক্যাম্পেইন চলাকালে তাদের শনাক্ত করে উক্ত টিকা প্রদানের ব্যবস্থাও করা হবে; যা নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমকেও জোরদার করবে। দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে টিকা দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত দলের ব্যবস্থা থাকবে এবং প্রয়োজনে দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের জন্য গঠিত টিকাদল স্বাস্থ্যকালীন সেশন পরিচালনা করবে।
প্রাত্যহিক ক্যাম্পেইন কার্যক্রম ও টিকা পরবর্তী বিরূপ প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণের জন্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ এবং এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের অধীন সব প্রশাসনিক স্তরে যথাক্রমে সার্বক্ষণিক কন্ট্রোল রুম চালু এবং এইএফআই ব্যবস্থাপনা দল নিয়োজিত থাকবে।
বাজার-হাটে বসবাসরত শিশু, কারখানায় কর্মরত মা-দের শিশু, বেদে বহরসহ অন্যান্য ভ্রাম্যমাণ জনগোষ্ঠীর শিশু, রেলস্টেশন/বাস টার্মিনালে বসবাসকারী সুবিধাবঞ্চিত শিশু, হাসপাতাল ও জেলখানায় অবস্থানরত মা-দের শিশু, পতিতালয়ে বসবাসরত শিশু, বস্তিতে বসবাসরত শিশুদের টিকা নিশ্চিত করতে সরকার অতিরিক্ত টিকাদান কেন্দ্রের ব্যবস্থা করেছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আবদুল মান্নান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, স্বাস্থ্য অধিদফতরের এমএনসিঅ্যান্ডএইচ অপারেশনাল প্ল্যানের লাইন ডিরেক্টর ডা. মো. শামসুল হকসহ অন্যরা।








